Home / খবর / অষ্টম সরকারের যাত্রা শুরু আওয়ামী লীগের

অষ্টম সরকারের যাত্রা শুরু আওয়ামী লীগের

বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরও পাঁচ বছরের জন্য যাত্রা শুরু করল আওয়ামী লীগের নতুন সরকার। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেল মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি। সব মিলিয়ে অষ্টমবারের মতো সরকার গঠিত হলো আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে। এর বাইরে বিএনপির নেতৃত্বে সরকার হয়েছে চারবার এবং জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে হয়েছে দুবার।

সোমবার বঙ্গভবনে সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথের মধ্য দিয়ে নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

শপথের পরপর নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও আইসিটি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সচিবালয়ে তাদের দপ্তরে যান। তবে বেশির ভাগ মন্ত্রীই আজ প্রথম অফিস করবেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পরে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শপথের এই অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা সাড়ে তিনটায়। সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম।

রীতি অনুযায়ী প্রথমে শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি সই করেন শপথের বইয়ে। এরপর একে এক ২৪ জন পূর্ণ মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী শপথ নেন। এরপর তাদের সবাই দায়িত্ব গ্রহণ ও গোপনীয়তার শপথে সই করেন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভূমিধস জয়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয় দফা সরকার গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। আর বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রাষ্ট্রপতি। তিন দিনের মধ্যে রবিবার তিনি তার ৪৬ সহকর্মীকে বাছাই করেন।

কে কোন মন্ত্রণালয় পেতে যাচ্ছেন, সেটি রবিবার জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর সরকার গঠন নিয়ে স্বাভাবিক যে আগ্রহ থাকে, সেটা আর দেখা যায়নি।

বিকেল তিনটা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনে শুরু হয় এই শপথ অনুষ্ঠান। এর আধা ঘণ্টা আগেই প্রধানমন্ত্রী এবং নতুন মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা চলে আসেন বঙ্গভবনে। এই অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি শেষ হয় দুপুরের আগেই।
বঙ্গভবনের দরবার হলে এক হাজার অতিথি উপস্থিত হন নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতার দিনে। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ ও শপথের নথিতে সই করার পর উপস্থিত অতিথিরা বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। পরে ছোট বোন শেখ রেহানা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একে অপরকে আলিঙ্গন করেন।

এরপর শেখ হাসিনার ফুপু আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য সাজেদা চৌধুরী তাকে বুকে জড়িয়ে নেন, গালে চুমু খান। পরে হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসন গ্রহণ করেন শেখ হাসিনা।
শেখ রেহানা ছাড়াও তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে।
শপথ অনুষ্ঠান শেষে বঙ্গভবনের মাঠে চা-চক্রে যোগ দেন সবাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে ঘুরে ঘুরে সবার সঙ্গে কথা বলেন।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরা নতুন সরকারের অভিষেকে উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন না। ছিলেন না গত পাঁচ বছরের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদও। তবে ছিলেন দলের সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।

আওয়ামী লীগের জোটের শরিকদের মধ্যে বিকল্পধারার সভাপতি সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মহাসচিব আবদুল মান্নান ও যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি চৌধুরীও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সদ্য বিদায়ী মন্ত্রীদের মধ্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, নুরুল ইসলাম নাহিদ, এ এইচ মাহমুদ আলী, কামরুল ইসলাম শপথ অনুষ্ঠানে ছিলেন।

গত সরকারে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা এইচ টি ইমাম, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও গওহর রিজভীও উপস্থিত ছিলেন অভিষেক অনুষ্ঠানে।

গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট। ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২৫৭টি আসনে জয় পান নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। ২২টি আসনে জেতে জোটের শরিক জাতীয় পার্টি। নৌকা নিয়ে অন্য শরিকরা পান আরও নয়টি আসন। আর আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জেতেন একটি আসনে।

৩ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে সংসদ নেতা নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। ফলে তার টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে যায়। ওইদিনই তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করলে তাকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী যে সরকার গঠিত হয়, তার নেতৃত্বে ছিল আওয়ামী লীগ। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল শপথ নেওয়া ওই সরকারের পরিচালনাতেই হয় মুক্তিযুদ্ধ।

বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত হয় মুক্ত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
১৯৭৩ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ১৬ মার্চ আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি এবং মনসুর আলীকে প্রধানমন্ত্রী করে শপথ নেয় আরেকটি মন্ত্রিসভা। সেটি গঠন করা হয়েছিল বাকশাল গঠনের পর।

ওই বছরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন ক্ষমতায় ফেরা আওয়ামী লীগ সরকার গঠিত হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

এর পরের তিনটি সরকার টানা গঠন করল আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারির পর গতকাল।

১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল, ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ, ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ এবং ২০০১ সালের ১০ অক্টোবর সরকার গঠন করে বিএনপি।

১৯৮৬ সালের ২৫ মে প্রথমবারের মতো এবং ১৯৮৮ সালে ২৭ মার্চ সরকার গঠন করে জাতীয় পার্টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar