Home / আর্ন্তজাতিক / অসমের পর টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ নাগরিকপঞ্জী নিয়ে ?

অসমের পর টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ নাগরিকপঞ্জী নিয়ে ?

বিজেপি নেতারা পশ্চিমবঙ্গেও নাগরিকপঞ্জী তৈরির দাবি তুলতে শুরু করেছেন অসমে নাগরিকপঞ্জী থেকে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে সরব হয়েছেন তাতে আতঙ্কিত হয়েই । গত সোমবার দিল্লিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে মমতা এ ব্যাপারে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নাগরিকপঞ্জী প্রসঙ্গে বিজেপির নেতাদের করা মন্তব্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা বলেছেন,  আপনার দলের নেতারা বলছেন যে, অসমের পর এবার টার্গেট পশ্চিমবঙ্গ। কেন্দ্রীয় সরকার সত্যিই এধরনের কোনও ভাবনাচিন্তা (পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকপঞ্জী প্রকাশ) করছে কি? রাজনাথ এর কোনও উত্তর অবশ্য দেননি।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য নাগরিকপঞ্জী তৈরির দাবি প্রথম তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার দিল্লিতে একই  দাবি তুললেন বাবুল সুপ্রিয়, গিরিরাজ সিংহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মতো বিজেপি নেতারা।

পশ্চিমবঙ্গের জন্য নাগরিকপঞ্জীর সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেননি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহও। তিনি বলেছেন, এখন অসমের নাগরিকপঞ্জী তৈরির কাজ চলছে। ওই প্রক্রিয়া শেষ হলে অন্যান্য রাজ্যের কথা ভাবা হবে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কে থাকবে, আর কে থাকবে না, তা শাসক দল ঠিক করে দিতে পারে না। বিজেপিকে ওই কথা বলার সাহস কে দিল ? মমতা আরও বলেছেন, তাঁদের এত স্পর্ধা হয় কি করে এধরনের কথা বলার। এরপর তারা বলবে বিহার, মহারাষ্ট্র, গুজরাতে তালিকা প্রকাশ করা হবে।

রাজনাথকে মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, এরকম হলে গৃহযুদ্ধ বেঁধে যাবে। মমতা বলেছেন, বিভাজনের রাজনীতি মেনে নেব না। মাতৃভূমিকে কিছুতেই ধর্ম, জাতপাত ও ভাষাগত কারণে ভাগ হতে দেব না। অসমে যা ঘটছে সেটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার বা উত্তরাখন্ডেও ঘটতে পারে। কিন্তু, বাংলায় কখনোই এমন হতে দেব না। অতন্দ্র প্রহরীর মতো জেগে আছি আমরা।  মমতা গত তিন ধরে রাজধানীতে সব বিরোধী নেতাদের নাগরিক পঞ্জীর নামে আসামে যাচ্ছে তার প্রতিবাদে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তিনি সব বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি বিজেপির বরিষ্ঠ নেতা লালকৃষ্ণ আদবাণীর এবং বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা যশবন্ত সিংহ, শত্রুঘœ সিংহ, কীর্তি আজাদ প্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।

মমতা সকলকে বলার চেষ্টা করেছেন যে, বিজেপি যে বিভাজনের রাজনীতি করছে তাতে দেশে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে। আবার বিজেপির অনন্তকুমার বলেছেন গৃহযুদ্ধ হলে মমতাই দায়ী থাকবেন। গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপি বাদে সবদল এক প্রস্তাব নিয়েছে। এই প্রস্তাবে অসমের বাঙালীদের এবং ৪০ লক্ষ বিপন্ন মানুষকে ভারতবাসীর পূর্ণ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলা ও বাঙালীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ধর্মের নামে মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে। আমরা কোনওভাবেই এটা হতে দেব না। মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনী ইহুদিদের ব্যাপারে যা করেছিল, নরেন্দ্র মোদির বিজেপি অসমে বাঙালিদের ক্ষেত্রে তাই করছে। তিনি আরও বলেছেন, আসলে বিজেপি যেখানে তার পছন্দের ভোট পাচ্ছে না, সেখানেই বিভেদ সৃষ্টি করছে, গন্ডগোল পাকাতে চাইছে। বাংলা ও বাঙালী তাদের বহু দিনের টার্গেট। এদিকে মমতার নির্দেশে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে আজ এক প্রতিনিধিদল অসামে যাচ্ছে সেখানকার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে। এই প্রতিনিধি দলে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪ সাংসদও রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar