Home / খবর / আমার বাবার স্বপ্ন পূরণই একমাত্র লক্ষ্য

আমার বাবার স্বপ্ন পূরণই একমাত্র লক্ষ্য

‘এ মনিহার আমার নাহি সাজে’ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার ভাষায় বলেন। আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই, আমি জনগণের সেবক। জনগণ কতটুকু পেলো সেটাই আমার কাছে সবচেয়ে বিবেচ্য বিষয়। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মানুষ যেন খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, বাসস্থান এবং উন্নত জীবন পায়। আজকে আমি তার স্বপ্ন পূরণে কাজ করছি। আজকে আমার সংবর্ধনারতো প্রয়োজন নেই।

এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি এদেশের মানুষকে।

মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-স্যাটেলাইন-১ উৎক্ষেপন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এ সংবর্ধনার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। সংবর্ধনা ঘিরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দুপুরের পরই লোকারণ্য হয়ে পড়ে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যন্য ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সংবর্ধনার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিকাল পৌনে পাঁচটার কিছু আগে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বক্তৃতা শুরু করেন। তার আগে তার উদ্দশ্যে অভিনন্দনপত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, আমার একমাত্র লক্ষ্য বাংলার মানুষের জন্য উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। শুধু অর্থশালীদের জন্য নয়, গ্রামে-গঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবন মান উন্নত করতে আমরা কাজ করছি। আমার একটাই লক্ষ্য আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতেই হবে। তাতে যদি আমার জীবন চলেও যায় আতে আমার ভ্রুক্ষেপ নেই।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইন উৎক্ষেপন করে আমরা স্যাটেলাইন যুগে প্রবেশ করেছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। প্রবৃদ্ধি ৭.৭৮ ভাগে উন্নীত করেছি। এতো কিছুর পরও দুর্ভাগ্য আমাদের, কিছু মানুষের কাছ থেকে শুনতে হয় উচ্চ প্রবৃদ্ধি নাকি ভাল না। এ ধরণের বক্তব্য কেউ কেউ দেয়। কারা বলে, যাদের আঁতে ঘা লেগেছে। যারা দরিদ্র মানুষকে দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে সম্পদের পাহাড় গড়ে তারা এসব বলেন। আমার সন্দেহ হয় তারা
বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে কিনা?

কেউ কেউ আবার নৌকা ঠেকানোর নামে মাঠে নেমেছে। আমি বলব, নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছি। পরমানু বিদ্যুৎ কেন্দ্র করতে পারছি। তাহলে নৌকা ঠেকাতে হবে কেন? নৌকা ঠেকিয়ে কি স্বাধীনতা বিরোধীদের ক্ষমতায় আনতে চান সেটাই আমার প্রশ্ন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর প্রায় সাড়ে ছয় হাজারের মতো নির্বাচন হয়েছে। প্রতি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে। গণতন্ত্র না থাকলে মানুষ কিভাবে ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে? প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রাম হবে শহরের মতো। গ্রামের মানুষের শহরের সব সুযোগ সুবিধা পাবে। গ্রাম বাংলার মানুষ উন্নত জীবন পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমার রাজনীতি। যতোক্ষণ জীবন আছে, বাংলার মানুষের সেবা করে যাব। এতে আমার বাবার আত্মা শান্তি পাবে। আমার কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar