Home / ভোক্তা অধিকার / উবার ২৭০ ভাড়া দেখিয়ে ৪৪০ টাকা নিল

উবার ২৭০ ভাড়া দেখিয়ে ৪৪০ টাকা নিল

অ্যাপসভিত্তিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উবারে ২৭০ টাকা ভাড়া দেখে ওঠার পর পরিশোধ করতে হল ৪৪০ টাকা! একমাত্র পুত্র সন্তানের অসুস্থতায় মানসিকতা গত কয়েক দিন ধরে বেশ খারাপ যাচ্ছে। যেটুকু খারাপ হওয়া বাকি ছিল, সেটা করে দিল উবার!

বৃহস্পতিবার সকালে এমন প্রতারণার শিকার হলাম উবারের কাছে। উবারের গাড়িতে চড়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আরো একবার হতে হয়েছে আমাকে। তখন মগবাজার থেকে মিরপুর স্টেডিয়াম পর্যন্ত ৩৬০ টাকা ভাড়া দেখালেও পরিশোধ করতে হয়েছিল ৯৬০ টাকা। চিন্তা করে দেখুন! শুরুতে যে ভাড়া দেখায় তার থেকে বেশি আসে, কখনো পাঁচ টাকাও ভাড়া কম দেখায়নি উবার।

ওইবার অবশ্য উবারে অভিযোগ করার পর তিন দিন ধরে নানা প্রশ্ন আর ক্যাচাল শুনে হলেও বাড়তি টাকাটা ফেরত পেয়েছিলাম। এক সপ্তাহ পর পাওয়া সেই অর্থ উবারের শর্তানুযায়ী খরচ করতে হয়েছিল পরবর্তী রাইডগুলোতে।

কাছের এক ছোট ভাই এসব বিষয় খুব দক্ষ ছিল বলে সেবার টাকাটা উবার থেকে ফেরত পেয়েছিলাম সেটা বলতে দ্বিধা নেই। কিন্তু এবার সেই সুযোগ নেই। কারণ ছোট ভাই আমার কাছে নেই। তাহলে কি আমি পরিশোধ করা বাড়তি ভাড়া ফেরত পাব না? চিন্তা করেছি, এবার আইনি পথে হাঁটব।

এবার প্রতারিত হওয়ার গল্পটা বলি। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে অসুস্থ বাচ্চা নিয়ে উবারের গাড়িতে রওনা হই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। পুরান ঢাকার পাতলাখান লেন থেকে শাহবাগ হাসপাতাল পর্যন্ত ২২৬ টাকা ভাড়া দেখানো হয় রাইড শুরুর আগে। শিশুপার্কের সামনে পাঁচ মিনিটের জ্যাম ছাড়া বাকিপথ নির্বিঘ্নে গিয়ে দেখলাম ২২৬ টাকাই ভাড়া আসছে।

ভাড়া পরিশোধ শেষে চিকিৎসক বন্ধু সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে নতুন প্রেসক্রিপশন নিয়ে ফেবার পথেই ঘটে বিপত্তি। আসার সময়ের চেয়েও কম দূরত্ব অর্থাৎ বিএসএমএমইউ থেকে ন্যাশনাল মেডিকেল পর্যন্ত ফেরার সময় উবারে ভাড়া দেখায় ২৭৬ টাকা।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর গাড়িতে ওঠার পর এবারও ফাঁকা রাস্তায় ন্যাশনাল মেডিকেলের উদ্দেশে আসতে থাকলাম। সারা পথ ফাঁকা তাই বেশ শান্তিতেই চলে আসলাম গন্তব্যে। কিন্তু নামার সময় ভাড়া দিতে গিয়েই তো মাথায় হাত। চালক বলল, ভাই ভাড়া আসছে তো ৪৪০ টাকা। মেজাজ তো গরম হয়ে গেল সাথে সাথে।

চালককে বললাম ২৭৬ টাকা ভাড়া দেখানোর পর ৪৪০ টাকা কেমনে আসল? বললো, কেমনে বলব। হয়ত পিক আওয়ার তাই মনে হয়। বললাম, পিক আওয়ার বলে এত বেশি? চালকের মুখ চুপ।

আমি তো ভাড়া পরিশোধে বাধ্য। তাই ৪৪০ টাকা পরিশোধ করে হাসপাতালের কাজ শেষে বাসায় ফিরলাম।

কিন্তু কোনোভাবেই রাগ কমছে না। কারণ অভিযোগ করলে উবার থেকে প্রথমে খুব পাত্তা না দিলেও শক্তভাবে ধরলে হয়ত অ্যাপসের সমস্যা, অমুক সমস্যার জন্য এমনটা হয়েছে বলা হবে। সবশেষ হয়ত ব্যাটেবলে মিললে আর ভাগ্য ভালো হলে বাড়তি টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভবনা আছে। কিন্তু ক’জনের সেই ধৈর্য আছে, ক’জন বা অভিযোগের নিয়ম-কানুন জানেন। যারা জানেন না তাদের বাড়তি টাকা কে ফেরত দেবে? উবারে তো এমন কোনো সিস্টেম নেই যে, অযৌক্তিকভাবে টাকা নিলে তা স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। তাহলে এমন সুন্দর একটি উদ্যোগ থেকে মানুষ দিনের পর দিন ঠকে যাবে?

শেষে একটা কথা বলতেই হবে। তা হলো বাড়তি ভাড়ার পরিমাণ টাকা পকেটে না থাকত, তাহলে স্ত্রী আর চালকের সামনে আমাকে যে লজ্জা পেত হতো তার ক্ষতিপূরণ কে দিত?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar