Home / চট্টগ্রাম / একনেকে উঠছে আজ ৬৩০ কোটি টাকার প্রকল্প চসিকের

একনেকে উঠছে আজ ৬৩০ কোটি টাকার প্রকল্প চসিকের

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) আলোচিত প্রকল্পটি অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক নির্বাহী পরিষদের (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছেন গরীর যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নে । আজ অনুষ্ঠেয় একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরিকৃত তালিকায় প্রকল্পটি অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রকল্পটি বাছাই করা হলেও শেষ মুহূর্তে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং ব্রিজসমূহের উন্নয়নসহ আধুনিক যান যন্ত্রপাতি ও সড়ক আলোকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্পটি’র প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩০ কোটি ১২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৮৯টি সড়কের উন্নয়ন, ৩৬টি ব্রিজ নির্মাণ, ৪টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পাশাপাশি ১৩৯ কিলোমিটার সড়ক আলোকায়ন করা হবে। এছাড়া ক্রয় করা হবে ১২ ধরনের আধুনিক নির্মাণ যন্ত্রপাতি।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রকল্পটির ডিপিপি তৈরি করা হয়েছিল ৮০৪ কোটি টাকায়। তালিকায় থাকলেও একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়নি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, ‘প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত কিছু যান যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে যেগুলো স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ও বাস্তবায়িত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত।’ পরবর্তীতে চসিক দ্বৈততা পরিহারের স্বার্থে প্রকল্প থেকে ৯টি যান যন্ত্র বাদ দিয়ে প্রকল্পের ডিপিপি পুনরায় তৈরি করে। অবশ্য এর আগেও কয়েক দফা প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছিল। ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রকল্পটি গ্রহণ করে চসিক। ওই সময় প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৯৮ কোটি। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিত আইপিইসি সভায় প্রকল্পটিকে পুনরায় সংশোধন করার সিদ্ধান্ত হয়। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্পের ডিপিপিতে বিদ্যমান অসংগতি ও ত্রুটি সংশোধন করা হয় এবং গত ২৬ এপ্রিল পুনরায় প্রকল্পটি প্রেরণ করা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। পরবর্তীতে সংশোধন করে গত ৩১ মে ৮৮৪ কোটি টাকায় ‘প্রকল্প মূল্যয়ন কমিটি’র সভায় (পিইসি) প্রকল্পটি অুমোদন পায়। এরপর আবারো সংশোধন করে প্রকল্পটির ডিপিপি করা হয় ৮০৪ কোটি টাকায় এবং সর্বশেষ আজকের একনেক সভায় ৬৩০ কোটি টাকায় উপস্থাপন করা হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমাদের প্রকল্পটি ৮৯৮ কোটি টাকার ছিল। পরবর্তীতে জলাবদ্ধতা প্রকল্প হওয়ায় কিছু অঙ্গ বাদ দেয়া হয়েছে। এখন ৬৩০ কোটি টাকায় ডিপিপি করা হয়েছে। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) এটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে। এই প্রকল্পে শহরে প্রধান সড়কগুলো অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। আগের প্রকল্পগুলোতে ওয়ার্ড পর্যায়ের সড়কগুলো অর্ন্তভুক্ত ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম শহরের চেহেরা ‘চেঞ্জ’ হয়ে যাবে (অবকাঠামোগত পরিবর্তন আসা)। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রকৌশলী বলেন, এবারের প্রকল্পে অনেকগুলো ইক্যুপমেন্ট অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। আমাদের আগের প্রকল্পগুলোতে যা ছিল না। প্রকল্পটির আওতায় সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বিমানবন্দর, পলিটেকনিক সড়ক, বায়েজিদ সড়ক এবং মেহেদীবাগ সড়কসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো সংস্কার করা হবে বলেও জানান তিনি।

এ দিকে প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পে ১০৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৮৯টি সড়ক উন্নয়নে সর্বোচ্চ ৩৪২ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৪৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। এছাড়া ৩৬টি ব্রীজ (মোট দৈর্ঘ্য ৬০৩ দশমিক ৬৭ মিটার) নির্মাণে ১২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং ২৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪টি ফুট ওভার ব্রীজ নির্মাণ এবং ১৩৮ দশমিক ৭৪ কিলোমিটার সড়কে বিদ্যুতায়নের (এলইডি লাইট দ্বারা) জন্য ৯৯ কোটি টাকার ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৪টি রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ ট্রাকসহ সড়ক সংস্কার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে– ১টি করে পানি বহনকারী ট্রাক, বিটুমিন বহনকারী গাড়ি, প্রোটেবল এ্যাসফ্লান্ট, মিলিং মেশিন, ইনসপেকশন গাড়ি, মোটর গার্ডার, মাটি কম্প্রেশন ভাইব্রেটর, ট্রাক মাউন্টেড ক্রেন, শর্ট বুম স্কেভেটর এবং লং বুম স্কেভেটর ক্রয় করা হবে। এছাড়া কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ল্যাব যন্ত্রপাতিও ক্রয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটিতে চট্টগ্রাম শহরের সামগ্রিক পরিবেশগত উন্নতির জন্য কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং ট্রাফিক ও পথচারীর জন্য রাস্তার আলোর সুবিধা নিশ্চিত করার করার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ‘স্ট্র্যাটিজি ফর লোকাল গর্ভমেন্ট অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখেই প্রকল্পটি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা সম্পর্কে চসিকের পক্ষে মন্ত্রণালয়ে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী হিসেবে পরিচিত। চট্টগ্রাম মহানগরী জাতীয় রাজস্ব আয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ব্যবসা–বাণিজ্য এবং শিল্পায়নের সাথে পাল্লা দিয়ে দ্রুত হারে চট্টগ্রাম মহানগরীর নগরায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য নগরীর রাস্তা এবং সেতুসমূহের উন্নয়ন ও সংস্কার অত্যন্ত জরুরি।

প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, শহরের যোগাযোগ নেটওর্য়াক উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ রস্তার কাঠামোগত দ তার উন্নয়ন, রাস্তার দ তা উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি করণ, কম কার্বন নির্গমন এবং শক্তি শোষণ সর্ম্পকিত পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক ও পথচারীর জন্য রাস্তার আলোর সুবিধা নিশ্চিত করা এবং শহরের ট্রাফিক সিগন্যাল সিস্টেমের উন্নয়ন করাও এ প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar