Home / অন্যান্য / অপরাধ / একি আচরণ নবজাতকের প্রতি বাবার !

একি আচরণ নবজাতকের প্রতি বাবার !

মাত্র সাত দিন বয়সী ফুটফুটে ছোট একটি নবজাতক। এই সময়টাতে তার মায়ের বুকে থেকে কখনো হাসি কখনো কান্না করার কথা। কিন্তু এই সাত দিন বয়সেই নবজাতক ছেলেটির পরিচয় হলো চরম নিষ্ঠুরতার সঙ্গে। অন্য কেউ নয়, সন্তানকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার কথা যে বাবার, সেই বাবাই সাত দিনের নবজাতক ছেলেটির সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করেন। বাবার এই নিষ্ঠুরতার কারণে মায়ের বুকের না পেয়ে টানা ১৮ ঘণ্টা ক্ষুধায় কষ্ট পেয়েছে নবজাতক শিশুটি। ওই ১৮ ঘণ্টা দুধের জন্য অনবরত কেঁদেছে নবজাতকটি।

গত সাত দিন পূর্বে জন্ম নেয়া পুত্র সন্তানকে দেখার উছিলায় রবিবার বিকাল ৫টার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নবজাতক সন্তানকে কোলে নিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন বাবা। পরে নবজাতককে নিজের বাড়ি উপজেলার জয়ারচর গ্রামে নিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন স্বজনও ছিলেন।

জানা যায়, শ্বশুরের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করলেও তার দরিদ্র শ্বশুর জামাইয়ের হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন। দাবিকৃত পুরো টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটান ওই বাবা।

ওই বাবার নাম মনিরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার জয়ারচর গ্রামের দুলাল উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় নবজাতকের নানি লুৎফুন নাহার বাদী হয়ে রবিবার রাতে নাতিকে উদ্ধারে গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করেছেন।

পরে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ নবজাতককে পুলিশ উদ্ধার করে নানি লুৎফুন নাহারের হাতে তুলে দেন।

নবজাতকের নানি লুৎফুন নাহার বলেন, গত সাত দিন পেট ভরে খেতে পেয়েছিল তার নবজাতক নাতি। রবিবার পাঁচটার দিকে নিষ্ঠুর বাবা তাকে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছিল শিশুটি। দুধের জন্য অনবরত কেঁদেছে। নিজের সন্তানের সাথে এমন নিষ্ঠুরতা কেউ করতে পারে? সেকি নিজের সন্তানের কষ্টের কথা চিন্তা করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারত না।

লুৎফুন নাহার বলেন, আমার বাড়ি থেকে নবজাতক নাতিকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর প্রতিবেশীদের নিয়ে মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে গেলে শিশুটিকে ফেরত দেয়া তো দূরের কথা উল্টো মারধরের হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

পরে বাধ্য হয়ে রবিবার রাত ১০টার দিকে উদ্ধারের জন্য গফরগাঁও থানায় অভিযোগ করি।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, নবজাতককে উদ্ধার করে নানির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar