Home / খবর / এত খারাপ ছিল না সেই স্বৈরাচারও : ফখরুল

এত খারাপ ছিল না সেই স্বৈরাচারও : ফখরুল

 বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার এরশাদকে সরিয়েছিল রাজনৈতিক দলগুলো সেই সরকারের চেয়েও বর্তমান সরকার খারাপ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘তার (এরশাদের) অন্তত একটা নিয়ম সৌজন্যবোধ ছিল, যা এই সরকারের নেই।’

বুধবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। ‘৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্র হত্যা’ দিবস উপলক্ষে ৯০’র সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করেছে দুর্ভাগ্য সেই স্বৈরাচারের পতন হয়নি। এরশাদ এখনো টিকে আছে এবং তার দোসর আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে থাকতে সহেযাগিতা করছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৯০ এর ছাত্র গণঅভ্যুত্থান আমাদের জন্য একটা দিকনির্দেশনা। আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথের দিশারী। আমরা ৯০এর গণঅভ্যুত্থানকে সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আন্দালনের পথনির্ধারণ করা সহজ হবে। তবে এই সময়টা আর তখনকার সময়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান আর আজকে ২০১৭ সাল দীর্ঘ ২৭ বছর। এরমধ্যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলেছে। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ছাত্র ও শ্রমিক আন্দালনের চরিত্র ভিন্ন ছিল। ওই গণঅভ্যুত্থানের মূল বিষয়টা যদি আমরা সামনে নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদের সাফল্য অবিশ্যম্ভাবী।’

আওয়ামী লীগ ও এরশাদের জাতীয় পার্টির মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে দেশের মানুষ এদেরকে একটি ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জনগণের সঙ্গে তাদের বিচ্ছিন্নতা এতই বেড়েছিল যে আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক অধিকার, মানুষের অধিকার ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেছে সেই আওয়ামী লীগকে প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইন, পরবর্তী সময়ে জরুরি অবস্থা, এরপর একদলীয় শাসন কায়েম করতে হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ সবসময় গায়ের জোরে তার মত প্রতিষ্ঠা করে এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটাই হলো সমস্যা। গণতন্ত্রে বিভিন্ন মত থাকবে। আমরা আলোচনা করবো। সেখানে যেটা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। তাদের কথা সেটা না, আমার মতটাই তোমাকে মেনে নিতে হবে। দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এখানেই গণতন্ত্রের সঙ্গে মৌলিক পার্থক্য।’

ফখরুল বলেন, ‘টক শোতে তাদের (আওয়ামী লীগ) দাপটে আমাদের নেতারা কথাই বলতে পারেন না। তারা টক শো নিয়ন্ত্রণ করে, খবরের কাগজ নিয়ন্ত্রণ করে। সুতরাং কে কথা বলবে তারাই তা নিয়ন্ত্রণ করে। ওদের চাপার জোর এত বেশি আমাদের লোকেরা অনেক সময় অসহায় হয়ে যায়।’

আওয়ামী লীগই ইতিহাস বিকৃতি করে এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সত্য কথা বললে আপনারা নারাজ হন। বিরাগ হয়ে যান। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত আপনারা পাকিস্তানে সঙ্গে এক থাকার জন্য কাজ করেছেন। কামাল হোসেন সাহেব, শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব, পাকিস্তান থেকে ইয়াহিয়া খান এসেছিল, ভুট্টো এসেছিল, গভর্নর এসেছিল। তাদের সঙ্গে বর্তমান শেরাটন হোটেল তখনকার ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে। দিনের পর দিন বৈঠক করেছিলেন। আলোচনা করেছিলেন। ইতিহাস কারা বিকৃত করছে। ইতিহাস আপনারা বিকৃতি করছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখনো আমাদের মনে আছে ২৫ মার্চ কালরাত্রীতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হানাদারেরা ঝাঁপিয়ে পড়লে। নির্বিচারে হত্যা শুরু করলে। তারপরের দিন আপনারা হরতাল ডাকলেন। আমরা বয়স্ক মানুষ। আমাদের চোখের সামনেই এসব হয়েছে। কিন্তু সেগুলোকে আপনারা বেমালুম চেপে গেছেন। গায়েব করে দিয়েছেন। এখন মানুষের অধিকার গায়েব করেছেন। মানুষের ভোটাধিকার গায়েব করেছেন।’

বিএনপি মহাসচিব সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মানুষ নির্বাচন চায়। যে নির্বাচন হবে তা হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এখানে অন্য কোনো হাঙ্কিপাঙ্কি করে লাভ হবে না। এই দেশের মানুষ মেনে নেবে না, গ্রহণ করবে না। সেই নির্বাচন দেশে ও দেশের বাইরে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

ফখরুল বলেন, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই এখনো সময় আছে আসুন কথা বলুন, আলোচনা করুন, আলোচনা সমঝোতার কথা বলা ছাড়া গণতন্ত্রকে সফল করা যায় না। আমরা একটা পথ বের করতে পারবো নিশ্চয়ই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সকলেরই এক কথা। আমরা সংঘাত সংঘর্ষ চাই না। আমারা আমাদের জনগণের মতামত প্রকাশের যে অধিকার তা চাই। এটা তো একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। রাষ্ট্রের মালিক আপনারা না। সেই জায়গা থেকে আপনারা আমাদেরকে বঞ্চিত করছেন।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনি এই কয়েক বছরের মধ্যে কতজন মেরেছেন, কত মায়ের বুক খালি করেছেন, কতজন স্ত্রীর বুক খালি করেছেন হিসাব করলে খুঁজে পাবেন না। কারাগারে কারাগালে রুদ্ধ আমাদের নেতাকর্মীরা। আমাদের চেয়ারপারসনকে আপনারা আদালতে নিয়ে হেনস্থা করছেন। ভয় দেখাচ্ছেন। কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? যে নয় বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। মঈন-ফখরুদ্দিনের সঙ্গে আপস করেননি। আপস করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকতেন।’

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা জেনে গেছেন আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। জনগণের সমর্থন নেই। ভোট যদি হয় তাহলে আপনাদের অস্তিত্ব থাকবেন না।’

ফখরুল বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের সামনে বিরাট সংকট। এত বড় সংকট কখনো আসেনি। আমাদের অস্তিত্ব বিপন্ন। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিপন্ন। সবাই ঐক্যবদ্ধ না হই। সবাই একসাথে এই অপশক্তি অপশাসন দুঃশাসনকে পরাজিত করতে না পারি তাহলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আবেদন জানাতে চাই আমাদের নেত্রীর দিকে তাকিয়ে, তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে, দেশের অগণিত গণমানুষের দিকে তাকিয়ে অবিলম্বে সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করি এবং সরকারকে বাধ্য করা যে নির্বাচন দিতে হবে।’

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে এতে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar