Home / আদালত / এস কে সিনহা বছরজুড়ে আলোচনায়

এস কে সিনহা বছরজুড়ে আলোচনায়

আলোচনায় বিদায়ী বছরজুড়ে বিচারাঙ্গনে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা ছিল। প্রধান বিচারপতির পদ থেকে সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগ, ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে আপিলের রায়, বছরের শেষ দিকে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ, পিলখানা হত্যা মামলা ও নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডার মামলায় হাইকোর্টের রায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায়, আপিল বিভাগে জামায়াতের সাবেক নেতা দেলাওয়ার
হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল থাকার রায় ছিল বিচারাঙ্গনের আলোচিত ঘটনা।
ষোড়শ সংশোনী অবৈধ ঘোষণা ও এস কে সিনহার পদত্যাগ
ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয় গত ১লা আগস্ট। এরপর নানা ঘটনা, গুজব, গুঞ্জনের পর গত ১০ই নভেম্বর বিদেশে বসেই প্রধান বিচারপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন এস কে সিনহা। জাতীয় সংসদের হাতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী গত ৩রা জুলাই অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন আপিল বিভাগ। এরপর থেকেই সরকারের সঙ্গে এস কে সিনহার টানাপড়েন শুরু।

গত ১লা আগস্ট এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর শুরু হয় উত্তাপ। রায়ের পর্যবেক্ষণের কিছু বিষয় নিয়ে সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীদের তোপ ও কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন এস কে সিনহা। সংসদের ভেতরে-বাইরে তার পদত্যাগের দাবি তোলেন সরকারি দলের নেতা-মন্ত্রীরা। তারা ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন এস কে সিনহার বিরুদ্ধে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শুরুর পর সে আলোচনা-সমালোচনা যখন তুঙ্গে তখনই বিদেশ সফরে যান তিনি। অবকাশ ছুটির পর সুপ্রিম কোর্ট খোলার আগের দিন (২রা অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে নিজ দপ্তরে আসেন এস কে সিনহা। এরপর দুপুর দু’টার দিকে তিনি সুপ্রিম কোর্ট ত্যাগ করেন। এরই মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়ে, অসুস্থতার জন্য এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন তিনি। অবহিতপত্র পাঠানো হয় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ আইন মন্ত্রণালয়ে। এরই মধ্যে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন আপিল বিভাগের জেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা। এদিকে এস কে সিনহার ছুটি নিয়ে সরব হন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। তাদের মতে এস কে সিনহাকে সরকার জোর করে ছুটিতে পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, কোনো চাপে নয়, অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন তিনি। এস কে সিনহার স্বাক্ষর করা চিঠিও আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের দেখান।
ছুটি নিয়ে গত ১৩ই অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া যান এস কে সিনহা। যাবার আগে তার বাসভবনের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানিয়ে যান, তিনি অসুস্থ নন। আবারো ফিরে আসবেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনে রদবদল করতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন এস কে সিনহা। তার বিদেশ যাবার পরদিনই সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের মতো ১১টি অভিযোগ পাওয়া গেছে; যা প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিদের বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে এ সংক্রান্ত দালিলিক তথ্যাদি হস্তান্তর করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিগণ এস কে সিনহার মন্তব্য জানতে চাইলেও তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে আপিল বিভাগের অন্য বিচারপতিগণ এস কে সিনহার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এদিকে এস কে সিনহা বিদেশ যাবার পর থেকেই তার পদত্যাগের গুঞ্জন ওঠে। নভেম্বরের প্রথম দিকে সিঙ্গাপুর এসে অবস্থান করেন তিনি। নানা গুজব, গুঞ্জনের পর ১০ই নভেম্বর সিঙ্গাপুরে বসেই সেখানকার দূতাবাসের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্যে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। ২০১৫ সালের ১৭ই জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পেয়েছিলেন এস কে সিনহা। বাংলাদেশের ইতিহাসে দায়িত্ব পালন করা ২১ জন প্রধান বিচারপতির মধ্যে এস কে সিনহাই প্রথম ব্যক্তি যিনি পদত্যাগ করলেন।
সমালোচনায় বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি
অধস্তন আদালতের বিচারকদের আচরণ ও শৃঙ্খলাবিধি (বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস শৃঙ্খলাবিধিমালা) গেজেট প্রকাশ নিয়ে বিচারাঙ্গনে বছরজুড়েই ছিল আলোচনা। এ নিয়ে আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষ দফায় দফায় সময় নেয়ায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিভিন্ন সময়ে নানা মন্তব্য করার পাশাপাশি উষ্মা প্রকাশ করেন। গত জুলাইয়ে এই গেজেটের খসড়া আপিল বিভাগে জমা দেয়ার পর গত ৩০শে জুলাই খসড়া গেজেটের কয়েকটি শব্দ ও বিধির বিষয়ে আপত্তি তোলেন তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। এস কে সিনহার পদত্যাগের পর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছেও কয়েক দফা সময় নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। অবশেষে বছরের শেষ দিকে ১১ই ডিসেম্বর এই গেজেট প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়। তবে, এই বিধিমালা নিয়ে আইন অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা বিধিমালায় বলা হলেও অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কার্যত সরকারের হাতেই থাকছে। সুপ্রিম কোর্ট কেবল অধস্তন আদালতের বিচারকদের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিতে পারবেন। তাদের মতে, নতুন এই বিধিমালা অনুযায়ী অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের হাতে তেমন ক্ষমতা রইল না। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় বিচার বিভাগে ‘দ্বৈত শাসন’ই বহাল থাকছে বলে মনে করেন কোনো কোনো সংবিধান ও আইন বিশেষজ্ঞ। শৃঙ্খলাবিধিমালার সমালোচনা করেন মাসদার হোসেন মামলার মুখ্য আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম। তার মতে, এই বিধিমালা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রণালয় অধস্তন আদালতের বিচারকদের নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ করে ফেলেছেন। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে আমীর-উল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ বিষয়টি প্রেসিডেন্টের উপর ন্যস্ত। প্রেসিডেন্ট সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে আলোচনা করে এটি করবেন। কিন্তু এখানে যা করা হয়েছে, তাতে প্রেসিডেন্টের জায়গায় আইন মন্ত্রণালয় বা আইনমন্ত্রী প্রতিস্থাপিত হতে পারে না। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার যে বিষয়টি ছিল সেটা মন্ত্রণালয় থেকে দূরে রাখার জন্য। এখন সেই মন্ত্রণালয় চেপে বসেছে। এতে করে সাংবিধানিক যে প্রক্রিয়া সেটি ব্যাহত হয়েছে। তবে, দীর্ঘদিন পরে শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশের পর একে সাধুবাদ জানান সরকারপন্থি আইনজীবীরা। আর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, এই শৃঙ্খলাবিধির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা কমেনি বরং আরো বেড়েছে। তিনি জানান, এই শৃঙ্খলাবিধিমালা নিয়ে একজন রাজনৈতিকরণ করতে চেয়েছিলেন। আইনমন্ত্রী বলেন, তার (এস কে সিনহা) কারণেই এ গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে। আর গেজেট প্রকাশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, এই শৃঙ্খলাবিধিমালা নিয়ে এস কে সিনহা সংবিধানবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন। গেজেট প্রকাশ হওয়ায় তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন।
পিলখানা হত্যা মামলার রায়
হাইকোর্টে পিলখানা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা ছিল এ বছর বিচারাঙ্গনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ২৬ ও ২৭শে নভেম্বর এ দুই দিন রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অন্য দুই বিচারপতি হলেন, মো. আবু জাফর সিদ্দিকী ও মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। রায় পাঠ শেষে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। আর হাইকোর্টের রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয় ২০০ জনকে। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করাই বিডিআর বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে আরো বলেন, তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহে অভ্যন্তরীণ ও বাইরের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। বিডিআর বিদ্রোহের মতো ঘটনা ঘটতে পারে- সেটি বুঝতে তৎকালীন বিডিআরের নিজস্ব গোয়েন্দারা কেন ব্যর্থ হলো- এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আদালত। গোয়েন্দা ব্যর্থতা খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা বলেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার। এছাড়া তখনকার বিডিআর’র ডাল ভাত কর্মসূচিরও সমালোচনা করেন আদালত। বর্তমান বিজিবিতে কোনো সমস্যা এলে, বা জওয়ানরা কোনো সমস্যা নিয়ে এলে এই বাহিনীর মহাপরিচালককে তা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে বলেন আদালত। একই সঙ্গে সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানদের মধ্যে পেশাদারি সম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ দেন আদালত।
সাত খুনে মাপ পেলেন না নূর হোসেন, তারেক সাঈদ
নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায় ছিল বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। এই মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন, র‌্যাব-১১ এর চাকরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও এম মাসুদ রানাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে হাইকোর্টে। ২০১৪ সালের ২৭শে এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে নারায়ণগঞ্জের ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় হতভম্ব হয়ে যায় দেশবাসী। পুরো বাংলাদেশকে তা নাড়িয়ে দেয়। দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। এ মামলায় নিম্ন আদালত বিচারিক কার্যক্রম শেষে ৩৫ আসামির মধ্যে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়। পরে হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে ২২শে আগস্ট রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১১ জনের সাজা কমিয়ে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন হাইকোর্ট। অপহরণ ও আলামত গোপনের অভিযোগে ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে নিম্ন আদালতের দেয়া সাজা বহাল থাকে হাইকোর্টের রায়ে। এই রায়ে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি বেগম, নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যানসহ নিহতদের স্বজনরা।
তারেক মাসুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঐতিহাসিক রায়
বছরের শেষ দিকে এক ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ৬ বছরের বেশি সময় আগে মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুতে তার পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদাণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। ক্ষতিপূরণ চেয়ে প্রয়াত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের করা এক মামলায় বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩রা ডিসেম্বর এ রায় দেন। রায়ে বলা হয়, বাসের (চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স) তিন মালিক দেবেন ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৪শ ৫২ টাকা, বাসচালক জমির উদ্দিন দেবেন ৩০ লাখ টাকা এবং ইনস্যুরেন্স কোম্পানি দেবে ৮০ হাজার টাকা। বাসের তিন মালিক সমান হারে টাকা দেবেন। রায়ের কপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এ টাকা দিতে বলা হয় রায়ে। আর এ টাকা প্রয়াত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, ছেলে নিষাদ মাসুদ ও বৃদ্ধা মা নুরুন নাহার পাবেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবি সকলেরই থাকা উচিত। এখন থেকে সেখানে সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করতে পারবেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে গাড়ি চালকদের সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার দায় চালককেও নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে চালকও ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করবে। তা নাহলে তারা সতর্ক হবে না। হাইকোর্টের এই রায়কে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বলে উল্লেখ করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী, সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ এবং সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে হাইকোর্টের এই রায়ের আলোকে পদক্ষেপ নেয়া হলে সড়ক দুর্ঘটনা যেমন কমে আসবে তেমনি দোষীরা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবে। এর ফলে সড়কে দুর্ঘটনাও কমে আসবে।
সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড বহাল
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া আমত্যৃ কারাদণ্ডের রায় গত ১৫ই মে বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। দণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রপক্ষ ও সাঈদীর পৃথক রিভিউ আবেদন খারিজ করে দিয়ে আপিল বিভাগ এ রায় দেয়। এর আগে ২০১৩ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন সাঈদী। ২০১৪ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সাঈদীর ফাঁসির সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ দেন। এ রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও সাঈদী পৃথক আবেদন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar