ব্রেকিং নিউজ
Home / রাজনীতি / ঐক্য- বিএনপির নেতা কে না দেখেই : কামাল

ঐক্য- বিএনপির নেতা কে না দেখেই : কামাল

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বিএনপির দলীয় প্রধান কে, সেটা দেখে দলটির সঙ্গে কোনও ঐক্য হয়নি বলে জানিয়েছেন । তিনি দাবি করেছেন, ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির দণ্ডিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামান্যতম যোগাযোগও নেই।

শনিবার সকালে একটি বেসরকারি টিভি স্টেশনকে দেয়া সাক্ষাতকারে সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা বলে পরিচিত আইনবিদ ও রাজনীতিক ড. কামাল হোসেন একথা বলেন।

বহুল আলোচিত গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত তিনটি মামলায় দণ্ড পেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার গ্রেনেড হামলার রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত।

এর আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা ও অর্থপাচারের মামলাসহ অন্য ২ মামলায় আরও ১৭ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২২ কোটি টাকারও বেশি অর্থদণ্ড পান তারেক রহমান। যাবজ্জীবনের বর্তমান মেয়াদ ৩০ বছর হওয়ায় এ নিয়ে মোট ৪৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২২ কোটি ১১ লাখ ২১ হাজার ৬৭১ টাকার অর্থদণ্ডের রায় এলো বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

চিকিৎসার কথা বলে বিদেশে গিয়ে আর না ফেরায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই ছেলেকে পলাতক দেখিয়েই মামলাগুলোর বিচার সম্পন্ন করেছেন আদালত।

২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে ভারপ্রাপ্ত দলীয় প্রধান দণ্ডিত হওয়ার পরে বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

জাতীয় ঐক্যের নামে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কথিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ বিষয়ে ড. কামালের অবস্থানেরও সমালোচনা করে আসছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

তারা বলছেন, একুশে আহস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের মাধ্যমে বিএনপির সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয়েছে। তাই বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের গাঁটছড়া সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার মতোই।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সন্ত্রাসী চিহ্নিত কেউ যদি প্রধান হয় সে দলের সঙ্গে জোট করা সন্ত্রাসবাদকেই সমর্থন দেয়ার শামিল।

দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান বলছেন, ‘আজকে বিএনপির স্বরূপ স্পষ্ট। আজকে যুক্তফ্রন্ট বা যে কোনো নামেই বলি না কেন, তারা যদি বিএনপির সঙ্গে হাত মেলায় তাহলে প্রমাণিত হবে, এই সমস্ত হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসবাদের তারা সমর্থক। অতীতেও তারা সমর্থন দিয়েছে এবং আগামীতেও সমর্থন দিবে।’

অবশ্য ড. কামাল বলছেন, তিনি ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা তদন্তে একটি কমিটির প্রধানও ছিলেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এমন দল কিংবা ব্যক্তির সঙ্গে তারা ঐক্য চায় না বলেও জানান তিনি।

আর দল হিসেবে বিএনপির সঙ্গে ঐক্য হলেও সেটির দলীয় প্রধানকে মানেন না জাতীয় ঐক্যের এ নেতা।

বলেন, ‘যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে সেই ব্যক্তি অথবা দলের মধ্যে এরকম কাউকে যদি চিহ্নিত করা হয়ে থাকে, তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক হতেই পারে না।’

‘ঐক্য মানে জনগণের ঐক্য। বিনা দ্বিধায় বলতে পারবো, তারেকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আমার তো নাই। আমাদেরও নাই। সে লন্ডনে বসে আছে, কি করছে না করছে। বিএনপির সঙ্গে আমরা তো এরকম আঁতাত করছি না। এখানে সন্ত্রাসকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেয়ার প্রশ্নই উঠে না আমাদের।’

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ভবিষ্যতের রাজনীতিতে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে প্রগতিশীল সব শক্তির উচিত সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িতদের বয়কট করা।’

সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিবেক দিয়ে যদি নিজেকে প্রশ্ন করেন, এই দলটিকে সমর্থন করা উচিৎ কিনা আমার মনে হয় প্রশ্নের উত্তর ‘না’ হতে বাধ্য।’

‘তবু দলকানা কিছু মানুষ থাকেই, বুদ্ধিজীবী থাকেই, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি থাকেই। যেমন, এই জজ মিয়া নাটক সাজানোর পরেও বিএনপির পক্ষে অনেকেই ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলেছেন, লেখা লিখেছেন।’

দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেয়ারও পরামর্শ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতনামা এই শিক্ষকের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar