Home / চট্টগ্রাম / কারাদণ্ড ড্রাইভার বয়স বলল ১৮ বছর ৬ মাস হলো

কারাদণ্ড ড্রাইভার বয়স বলল ১৮ বছর ৬ মাস হলো

দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনার অংশ হিসেবে তৃতীয় দিনের মতো সকালেই মাঠে নামেন । স্পট ব্যস্ততম নিউমার্কেট মোড় এলাকা। গতকাল সোমবার ১০টায় একটি হিউম্যান হলারকে থামান মোবাইল কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মনজুরুল হক।

গাড়ি থেকে নেমে আসেন ড্রাইভার মোহাম্মদ নাহিদ। দাউদকান্দি জেলার বেলাল হোসেনের ছেলে নাহিদের কাছে এসময় গাড়ির কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোন ধরনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। মোবাইল কোর্টের সাথে থাকা বিআরটিএ’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী আলম বলেন, এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ড্রাইভারের বয়স জিজ্ঞাসা করলে তিনি ১৮ বছর ৬ মাস বলে জানান। এ বিষয়ে মেহেদী আলম আরো বলেন, বিআরটিএ’র আইন অনুযায়ী ২০ বছর না হলে পেশাদার ড্রাইভার হিসেবে লাইসেন্স ইস্যু করা হয় না। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। নাহিদের বয়স ২০ বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি পেশাদার ড্রাইভারের লাইসেন্স পাননি। এ কারণে তার কাছে কোন ধরনের কাগজপত্র নেই। এ অবস্থায় মোবাইল কোর্ট নাহিদকে সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা অনুযায়ী, এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন। একইসাথে ওই হিউম্যান হলারটি ডাম্পিং করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

একইভাবে অভিযান পরিচালিত হয় নগরীর ২ নম্বর গেইট এলাকায়ও। বিআরটিএ পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের তৃতীয় দিনে যেসব চালকদের কাগজপত্র ঠিক আছে তাদেরকে শুভেচ্ছাস্বরূপ ব্যাগ বা চকোলেট উপহারও দেয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক মীর এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস,এম, মঞ্জুরুল হক। অভিযানে ষোলশহর ২নং গেইট মোড়ে মোহাম্মদ জিয়াউল হক মীর এবং নিউমার্কেট মোড়ে এস এম মঞ্জুরুল হক নেতৃত্ব দেন। এতে মোট ৮১টি মামলায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়। গাড়ি ডাম্পিংয়ে প্রেরণ করা হয় ১৫টি এবং ডক্যুমেন্ট জব্দ করা হয় ২৪টির।

অভিযান পরিচালনার সময় মোবাইল কোর্ট লাইসেন্স, রুট পারমিট, রেজিস্ট্রেশন, হেলমেট, যানবাহন বীমা, গাড়িতে অনুমোদিত সিট সংখ্যার চেয়ে অতিরিক্ত সিট এবং হাইড্রোলিক হর্নের জন্য জরিমানার আদেশ প্রদান করেন। সেসাথে চালকদের সচেতন হতে সর্তক করেন। যেসব গাড়ি জরাজীর্ণ সেসব গাড়িকে জব্দ করে ড্যাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জিয়াউল হক মীর পরিচালিত অভিযানের সময় যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক পাওয়া গেছে সেসব গাড়ির চালককে বিআরটিএর শুভেচ্ছা হিসেবে ব্যাগ প্রদান করা হয়। যাতে ওই ব্যাগে গাড়ির কাগজপত্র রাখতে পারেন চালকরা। ষোলশহর ২ নং গেটে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযান চলে। এসময় ৪৬ মামলায় ৯৬ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয় এবং ১৬টি গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার কোন ঘটনা দৃশ্যমান হলেই ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট এস,এম, মঞ্জুরুল হক এর নেতৃত্বে নিউ মার্কেট মোড়ে পরিচালিত অভিযানে শতাধিক গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা হয়। এর মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়ায় ৩৫টি গাড়িকে মামলা দিয়ে ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ সময় ৭টি গাড়িকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়। ৮টি গাড়ির কাগজপত্র জব্দ করেন ম্যাজিস্ট্রেট। যে সমস্ত গাড়ির সকল কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেছে তাদেরকে চকোলেট দিয়ে অভিনন্দিত করে মোবাইল কোর্ট। এ অভিযানেই নাহিদকে কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিআরটিএ’র কর্মকর্তা মোহাম্মদ মেহেদী ইকবাল বলেন, রাস্তায় যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা আনতে এবং সংশ্লিষ্টদেরকে আইন মানাতে এ ধরনের অভিযান শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে পুরো নগরীতে চলবে এ ধরনের অভিযান।

এদিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় নিউমার্কেট মোড়ে ধূমপান করার অপরাধে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ এর ৪(২) ধারার অধীনে ৪ জনকে জরিমানা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. মঞ্জুরুল হক।

মোবাইল কোর্টের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাত্রীদের হয়রানির বিষয়ে অভিযানের সময় খোঁজ খবর নেয়া হয়। ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ আসলেই ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযানকে কেন্দ্র করে কোন ধরনের যাত্রী হয়রানির বিরুদ্ধেও ভ্রাম্যমাণ আদালতের তরফ থেকে হুশিঁয়ারি দেয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar