Home / খবর / কী ঘটেছিল নগর ভবনে?

কী ঘটেছিল নগর ভবনে?

নগর ভবনে কী ঘটেছিল সোমবার সন্ধ্যায় ? এই প্রশ্নটি গতকাল দিনভর মানুষের মুখে মুখে ছিল। দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সমালোচনাও ছিল সমানতালে। সেদিন কী ঘটেছিল, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে নগরবাসীর মাঝে।
গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশ অভিযোগ করেছেন, সরকারি জায়গা রক্ষার ব্যাপারে কথা বলতে গেলে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন তাকে ‘থাপ্পড়’ মেরেছেন। মেয়র কেন একজন প্রকৌশলীর গায়ে হাত তুললেন? আদৌ ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন অনেকের মনে।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, ‘ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। উনি (প্রকৌশলী) বাজে আচরণ করছিলেন। বাজেভাবে কথা বলছিলেন। তাই একজন জনপ্রতিনিধির সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা ধমক দিয়ে তাকে বলেছি। তাকে বকা দিয়েছি, থাপ্পড় দিইনি।’ মেয়রের কথা সমর্থন করেছেন ওখানে উপস্থিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়েরও। পুরো ঘটনাটিকে ‘তিলকে তাল করা হচ্ছে’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রকৌশলী পলাশ মেয়র মহোদয়ের সাথে এমনভাবে কথা বলছিলেন, যা সহ্য করা সম্ভব ছিল না। মেয়র মহোদয় রোজা রেখেছিলেন। ইফতারও করেন ওখানে। ওই রাস্তা নিয়ে সকাল থেকেই মেয়র মহোদয় বেশ ঝামেলায় ছিলেন। হালিশহর নাগরিক পরিষদের সম্মানিত বেশ কয়েকজন নেতা সিটি কর্পোরেশনে এসে রাস্তাটি নিয়ে মেয়রের সাথে বৈঠক করেন। দিনে মানববন্ধনও হয়েছে। সবকিছু ছিল হালিশহর পোর্ট কানেকটিং রোড নিয়ে। অথচ সেই রাস্তার প্রয়োজনীয় নালার জায়গা নিয়েই গৃহায়ণের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ছয়জনের একটি টিম আসে মেয়র মহোদয়ের সাথে দেখা করতে। সেখানে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রামের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলমসহ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা থাকলেও কথা বলছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুজ্জামান পলাশ। তিনি বারবার বলছিলেন যে, রাস্তার জন্য দশ ফুট জায়গা দিয়েছি। আর এক ফুটও দিতে পারব না। তখন মেয়র মহোদয় ‘উনি জায়গা দেওয়ার কে?’ জিজ্ঞেস করলেই ঘটনার সূত্রপাত হয়।’
কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘বাড়াবাড়ির এক পর্যায়ে মেয়র ওই প্রকৌশলীকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু প্রকৌশলী ওখানেই অবস্থান করছিলেন এবং বাজেভাবে কথা বলছিলেন। আমি দুই হাত দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে রুমের বাইরে নিয়ে যাই। এই ঘটনাকে রং দিয়ে অন্যভাবে সাজানো হয়েছে। কেন অফিস টাইমের পরে তারা এসেছিলেন তাও রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে।’
অবশ্য এই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধেও প্রকৌশলীকে নাজেহাল করার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশ জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ডিপ্ল্লোমা প্রকৌশলী সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু ডিপ্ল্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা পলাশ আওয়ামী লীগ ঘরানার একজন প্রকৌশলী হিসেবে বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দেন। এই প্রকৌশলীকে মেয়র ‘থাপ্পড়’ দিয়েছেন অভিযোগ এনে গতকাল কর্মবিরতি শুরু করেছেন গৃহায়ণের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল দিনভর গৃহায়ণের বিভিন্ন অফিসে কোনো কাজ হয়নি। বিষয়টি গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়ে গণপূর্তমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত গেছে বলে দাবি গৃহায়ণের শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
তারা অভিযোগ করেছেন, গতকাল সন্ধ্যায় কর্মবিরতির ব্যানারগুলো ছাত্রলীগের একদল ক্যাডার এসে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। আজও কর্মবিরতি চলবে। একই সাথে আজ সকালে নাসিরাবাদে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অফিসের সামনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন করবেন।
এদিকে, সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান গৃহায়ণের জায়গায় অবৈধভাবে কাঁচাবাজার বসিয়ে মাসিক মাসোহারা আদায় করেন বলে গতকাল অভিযোগ করেছেন চসিকের কাউন্সিলররা। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আশরাফুজ্জামানকে চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
সিটি মেয়রের সাথে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে আজ বুধবার বিকাল ৪টায় বড়পোল এলাকায় মানববন্ধন করবে হালিশহর নাগরিক ফোরাম।
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এসব অভিযোগ নাকচ করে এবং রহস্যজনক কারণে তিলকে তাল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। তারা দাবি করেছেন, জনস্বার্থে একটি নালার জায়গা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছিল। বড়পোলের সন্নিকটে ওই নালার জন্য ছোট্ট একটি পকেট ল্যান্ডের কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। ওই পকেট ল্যান্ডে একটি অবৈধ বাজার ছিল। সিটি কর্পোরেশন বাজারটি উচ্ছেদ করে ড্রেনটি সোজা করেছে। এখন অবৈধ কাঁচাবাজারটি উচ্ছেদই গৃহায়ণের গাত্রজ্বালার মূল কারণ।
এদিকে, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘হালিশহর পোর্ট কানেকটিং রোডের কাজ চলছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির পাঁচটি পয়েন্টে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আমরা ওই স্থানগুলো উঁচু করছি। ম্যাকাডম করা হয়েছে। কার্পেটিং করা হবে। এই রাস্তার পাশেই ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে। একটি ড্রেনের সাথে অপর ড্রেনের সংযোগ দিতেই গৃহায়ণের একটি পকেট লান্ডের কিছু জায়গা লাগছে। ওই পকেট ল্যান্ডে একটি অবৈধ কাঁচাবাজার ছিল। সিটি কর্পোরেশন কাঁচাবাজারটি উচ্ছেদ করে জায়গাটির পাশ দিয়ে ড্রেন তৈরির কাজে হাত দেয়। আমাদের ঠিকাদার ড্রেন তৈরি করতে গেলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের লোকজন বাধা দেয়।’
মেয়র বলেন, ‘অনেকদিন ধরে কাজটি বন্ধ রয়েছে। এতে করে ড্রেন নির্মাণ না করে রাস্তার কাজ করা হয়। বিষয়টি আগে আমাকে জানানো হয়নি। আমি জানার পর ড্রেনের কাজ শুরু করার নির্দেশ দিই। বর্ষার আগে ড্রেনের কাজ শেষ করারও তাগাদা দিই। একটি ড্রেনের সাথে অপর ড্রেনের সংযোগ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রেনের কাজ শেষ করতে বলি। একটি ড্রেনের সাথে অপর ড্রেনের সংযোগ দেওয়া না হলে পানি যাবে কীভাবে? এতে আবারো জলাবদ্ধতা তৈরি হবে। বর্ষা চলে আসছে। আমি দ্রুত কাজ শুরু করতে বলি। গতকাল কাজ করতে গেলে গৃহায়ণের লোকজন আবারো কাজ বন্ধ করে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘অপরদিকে, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সংগঠন হালিশহর নাগরিক উদ্যোগ থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে রাস্তাটির কাজ নিয়ে তাদের ভোগান্তির কথা জানায়। দ্রুত কাজ শেষ করার অনুরোধ জানায়। স্থানীয়ভাবে মানববন্ধনও করা হয়েছে। সবকিছু মিলে চাপের মধ্যে রয়েছে মানুষ এবং সিটি কর্পোরেশন। অথচ কাজ করতে দিচ্ছে না গৃহায়ণ। জলাবদ্ধতার জন্য তো মানুষ গৃহায়ণকে দোষ দেবে না। আমাদের ইঞ্জিনিয়ার আবু তৈয়ব কাজ বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারটি আমাকে জানান এবং কেউ একজনের সাথে কথা বলিয়ে দেন। আমি টেলিফোনেও ওই কর্মকর্তাকে বিষয়টির গুরুত্ব তুলে ধরি এবং সহায়তা কামনা করি।’
সিটি মেয়র বলেন, ‘আমি রোজা রেখেছিলাম। ইফতারের পর কনফারেন্স রুমে অন্য একটি বিষয় নিয়ে মিটিং করছিলাম। এই সময় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুল আলমের নেতৃত্বে ৬ জন প্রকৌশলী কনফারেন্স রুমে আসেন। তারা তাদের পরিচয় দেন। আমি তাদের বসতে বলি। এ সময় আমাদের প্রকৌশলীরাও ছিলেন। ছিলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ কয়েকজন ব্যক্তি। আমি হালিশহর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন ড্রেনটি সোজা করলে কী সমস্যা জানতে চাই। এ বিষয়ে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বা নির্বাহী প্রকৌশলীকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান গৃহায়ণের ৫০ ফুট জমি রাস্তায় চলে যাবে বলে অভিযোগ করেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি বললাম, গৃহায়ণের অনেক জমিই তো বেদখল হয়ে আছে। জনস্বার্থে এই সামান্য জমি রাস্তায় গেলে অসুবিধা কী। আশরাফুজ্জামান এই সময় উত্তেজিত হয়ে যান এবং বলতে থাকেন যে, সিটি কর্পোরেশনের বহু জায়গাও তো অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে। আমি আমাদের কোন জায়গা অবৈধ দখলে আছে তা জানতে চাইলে তিনি শহরের ফুটপাতে কেন হকার বসে তার কৈয়ফিত চান। তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন। তার হাবভাবই ছিল উদ্ধত। তার আচরণ ছিল খুবই দুঃখজনক। আমি তাকে ধমক দিয়েছি। একজন জনপ্রতিনিধির সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা তিনি জানেন কি না জানতে চেয়েছি। তাকে আমি রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলি। কিন্তু তিনি রুম থেকে বের না হয়ে বলতে থাকেন, দশ ফুটের বেশি জায়গা কোনোমতেই দেওয়া সম্ভব হবে না। এ সময় ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের তাকে জড়িয়ে ধরে রুম থেকে বাইরে চলে যান। এই ঘটনাটিকে পরবর্তীতে রং দেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সেখানে থাপ্পড় দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
গতকাল সকালে নগরীর জিইসি মোড়ে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, চট্টগ্রাম সার্কেলের অধীনে ১৬টি জেলা কার্যালয়েও কর্মবিরতি চলছে। মেয়রের হাতে প্রকৌশলী নাজেহাল হওয়ার ঘটনাটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রাশিদুল ইসলামকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামসুল আলম। তিনি দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান মন্ত্রী মহোদয়কে ঘটনা জানিয়েছেন। আশা করি মন্ত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাবেন। সরকারি কাজ করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ায় আমরা নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। আমরা সরকারি প্রটেকশন চাই। সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’
তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) কর্মবিরতি চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ জনৈক আবদুল মান্নান ফেরদৌসের নেতৃত্বে একদল যুবক এসে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মবিরতির ব্যানারগুলো ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। যাওয়ার সময় তারা শাসিয়েও গেছে।’ তিনি বলেন, ‘যেকোনো কাজে সমস্যা হলে সরকারিভাবে সমাধান করা যায়। আঘাত করা নীতি বিরুদ্ধ। বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সংগঠনের ব্যানারে হচ্ছে। এখন ওই সংগঠন থেকে যেসব কর্মসূচি দেওয়া হবে সেগুলোই পালন করা হবে। আজ সকাল দশটায় নাসিরাবাদ গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের অফিসের সামনে মানববন্ধন করা হবে।’
ঘটনার বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশ গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘বড়পোল বরফকল এলাকায় সড়ক সমপ্রসারণ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তৈয়বের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সন্ধ্যায় নগর ভবনে গিয়ে মেয়রের সাথে দেখা করতে বলেছিলেন। মাস্টারপ্ল্যানে পোর্ট কানেকটিং রোডের ওই অংশটি ১২০ ফুট আছে। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন সড়ক সোজা করার কথা বলে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের আরো ৫০ ফুট জায়গা দখলে নিয়ে কাজ করছে। এজন্য কোনো অনুমতি নেয়নি।’
তিনি জানান, ওইদিন (সোমবার) সন্ধ্যায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ তারা ছয়জন নগর ভবনে গিয়ে দ্বিতীয় তলায় অপেক্ষা করছিলেন। সে সময় তৃতীয় তলায় অডিটরিয়ামে সভায় ছিলেন মেয়র। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তৈয়ব তাদেরকে সেখানে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, ‘প্রকল্প সংশ্ল্লিষ্ট হওয়ায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আমাকে কথা বলতে বলেন। তখন আমি অনুমতি নিয়ে বলি, সড়কের পাশের ওই জায়গা সবুজায়নের জন্য রাখা আছে। জবাবে মেয়র বলেন, এটা অবৈধ দখলে ছিল, আমরা উচ্ছেদ করেছি। তখন হাউজিং (গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ) কোথায় ছিল? আমি বলি, আপনি যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেন তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই। মাঠ পর্যায়ে আমরা খুব চাপে থাকি। আর সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিই তো দখলে থাকে। আমরা একে একে উচ্ছেদ করছি। এরপর উনি উত্তেজিত হয়ে যান। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের জমি কোথায় অবৈধ দখলে আছে দেখান? তখন আমি চুপ করে থাকলেও তিনি বলতে থাকেন, বলেন কোথায় আছে, বলতে হবে। তখন আমি বাধ্য হয়ে বলি, ফুটপাতে অনেক অবৈধ দখলদার আছে।’ এরপর উত্তেজিত অবস্থায় মেয়র চেয়ার থেকে দাঁড়িয়ে তাকে গালি দেন এবং এক পর্যায়ে চড় মারেন বলে অভিযোগ করেন পলাশ।
তিনি বলেন, ‘মেয়র জিজ্ঞেস করেন, আপনার বাড়ি কোথায়? জবাবে বাড়ি গোপালগঞ্জ বলার পর তিনি আরো উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পাশে থাকা ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এসময় ধাক্কা দিয়ে আমাকে অডিটরিয়াম থেকে বের করে করিডরে নিয়ে আসেন। করিডরে কাউন্সিলর ও মেয়র মিলে আবার মারধর করেন। এক পর্যায়ে কর্পোরেশনের কর্মচারীদের বলেন, একে বেঁধে রাখো, পুলিশ আসলে পুলিশে দেব।’
কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশের ‘কথা ও আচরণ ভালো ছিল না’ বলে পাল্টা অভিযোগ করেন। ওই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে কাউন্সিলর জোবায়ের বলেন, ‘সড়কের পাশে ড্রেনের জন্য ১৬ ফুট জমি দরকার। ওই প্রকৌশলী বলেন, ১০ ফুট দেব, এর বেশি দেব না। তখন মেয়র বলেন, আপনি দেওয়ার কে? জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তো সবাই আমাকে দোষারোপ করবে। মেয়র ক্ষিপ্ত হওয়ায় ওই প্রকৌশলীকে আমি কক্ষ থেকে বের করে দিই। তাদের তো আরো লোকজন ছিল। অন্য কারো সাথে তো কিছু হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান অফিসিয়াল কাজে এসে অফিসিয়াল আচরণ করতে পারেননি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar