Home / খবর / খালেদাও বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে : প্রধানমন্ত্রী

খালেদাও বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের পাশাপাশি তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন । বলেছেন, একতরফা নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক রহমানকে সংসদ সদস্য করিয়ে খালেদা জিয়া এটা প্রমাণ করেছেন।

জাতির জনককে হত্যার স্মরণে জাতীয় শোক দিবসের পরদিন বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনায় বৃহস্পতিবার দলের সভাপতি এই অভিযোগ করেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য আমি ১৯৮০ সালে লন্ডনে যেয়ে একটি কমিশন গঠন করি স্যার ম্যাকব্রাইট এবং স্যার টমাস উইলিয়ামকে দিয়ে। তারা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময়ও বাংলাদেশে এসেছিলেন তদন্ত করতে। অথচ জিয়াউর রহমার তাদেরকে বাংলাদেশে আসার ভিসা দেয়নি। এই হত্যার তদন্তে জিয়াউর রহমান বাধা দিয়েছিল কেন? যদি সে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত নাই থাকে তাহলে সে বাধা দেবে কেন?’

‘জিয়া সম্পূর্ণভাবে জড়িত ছিল। আর জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনি, তাকে সংসদে বসিয়েছিল জিয়াউর রহমানের স্ত্রী (খালেদা জিয়া)।’

‘তার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে? জিয়া একাই নয়, তার স্ত্রীও এই হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নাই।’

বঙ্গবন্ধুর দুই খুনি আরদুর রশিদ এবং ফারুক রহমান ব্রিটিশ সাংবাদিক অ্যান্থরি মাসকারেহানসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন জাতির জনককে হত্যার পরিকল্পনার বিষয়টি তারা জিয়াউর রহমানকে আগেই জানিয়েছেন। আর সে সময়ে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান ও পরে সেনাপ্রধান অবস্থায় রাষ্ট্রপতি হওয়া জিয়াউর রহমান তাদেরকে এগিয়ে যেতে বলেছেন।

এই বিষয়টির উল্লেখ করে শেখ হাসিনা নানা সময় বঙ্গবন্ধু হত্যায় জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ এনেছেন, আগস্টের শুরুতে এক আলোচনায় বলেছেন, জিয়াউর রহমানের বিচার করতে না পারায় তার দুঃখ রয়ে যাবে।

আজ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুরু থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল জিয়া। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবেই কাজ করেছে জিয়া। আমরা এই হত্যার বিচার পাইনি। আমাকে দেশে ফিরতেও দেয়নি জিয়া।’

জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করা যাবে না মর্মে জারি হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। শুধু তাই না, খুনিদের তিনি বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃতও করেন।

নিজের বাবা, মা, ভাই, হত্যার বিচারের জন্য ৩৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন দেশে একটা হত্যাকাণ্ড হলে মানুষ বিচার চায়। আমি যেহেতু সরকার প্রধান আমার কাছে বিচার চাইতেই পারে। তারা কি একবারও ভেবে দেখেছে আমি একদিনে বাবা হারিয়েছি, মা হারিয়েছি, ভাই হারিয়েছি। খুনিরা জাতির পিতাকে হত্যা করল, শিশু হত্যা করল। কই আমরা তো বিচার চাইতে পারিনি।’

‘১৯৭৫ এর পর কতজনই তো ক্ষমতায় এসেছে, কেউ আমার বাবার হত্যার বিচার করেনি। আমি রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর এই বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। আমি ক্ষমতায় না আসলে হয়ত বিচারই হতো না।’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি একদলীয় নির্বাচনে কুমিল্লার একটি আসন থেকে বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুক রহমানকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে ওই নির্বাচনে বিএনপি না চাইলে ফারুকের পক্ষে বিজয়ী হয়ে আসা সম্ভব ছিল না। আর এটি খালেদা জিয়ার ইচ্ছাতেই হয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর এজন্যই তিনি খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় অভিযুক্ত করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসিয়েছিল জিয়ার স্ত্রী (খালেদা জিয়া)। তার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে? জিয়াউর রহমান একাই নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

‘খুনিরা খুনিই হয়’ এমন মন্তব্য করে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তাকে হত্যাচেষ্টায় চালানো গ্রেনেড হামলা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘বারবার আমার ওপর আঘাত হেনেছে। কাজেই এদের হাতে ক্ষমতা গেলে দেশের মানুষ কি উন্নয়ন পাবে? ন্যায়বিচার পাবে?’

ষড়যন্ত্রকারীরা সাবধান হোন

এখনও ‘যারা ষড়যন্ত্র করছেন’, তাদেরকে সাবধান হতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যারা এদেশে গণতন্ত্র দেখতে চান না, তারাও সাবধান হোন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।’

‘খুনিদের রাজত্ব এদেশে আর কায়েম হবে না। যারা ভাবছেন অবৈধভাবে ক্ষমতায় গেলে কিছু পদ পদবি পাবেন, তারা সে আশাবাদ দেন।’

‘যাদের কারণে বাংলাদেশে বারবার গণতন্ত্র হারিয়েছে তারা আর কোনোদিন অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসতে পারবেন না।’

‘যারা স্কুলের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খেলতে চায় তারা দেশ ও জাতির শত্রু। তাদের খেলতে দেয়া হবে না। অন্যায় করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিচার হবেই।’

শিশুদের ব্যবহারের নিন্দা

নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল কলেজের শিশু কিশোরদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘উন্নয়নবিরোধী  যারা শিশুদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে অসৎ উদ্দেশ্য হাছিল করতে চায়, তারা দেশের শত্রু, জাতির শত্রু, জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।’

‘যারা শিশুদের আন্দোলনে ব্যবহার করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’

আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ, মোহাম্মদ নাসিম, সাহারা খাতুন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, শ ম রেজাউল করিম, কার্যনির্বাহী সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ আলোচনায় বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। আর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন আহকামউল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar