Home / শিক্ষা / খেলবে কোথায় ওরা ?

খেলবে কোথায় ওরা ?

খেলার মাঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে ওঠার জন্য খেলার মাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। অথচ নগরীর ৯৫ শতাংশ স্কুলে নেই খেলার কোন মাঠ। নগরীর যেসব খোলা জায়গায় এক সময় শিশু কিশোররা খেলতো, এর প্রায় সবগুলোই দখল হয়ে গেছে। কোথাও উঠেছে ভবন, কোথাও মার্কেট। নগরীর ঐতিহ্যবাহী মাঠগুলোতে বছর জুড়ে লেগে থাকে মেলা কিংবা অন্য কোনো অনুষ্ঠান। তাহলে ওরা খেলবে কোথায়? সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশ এবং বেড়ে ওঠার জন্য খেলাধূলার বিকল্প নেই।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, নগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাঠের সমস্যা দীর্ঘদিনের। ইচ্ছা করলেই তা সমাধান সম্ভব নয়। কারণ প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী জায়গাতো সীমিত। মাঠ তৈরি করতে গেলে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন। সরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে জায়গা থাকলে ভূমি অধিগ্রহণ করে সহজেই করা যায়। কিন্তু বেসরকারির ক্ষেত্রে বোর্ডের নীতিমালা থাকলেও জায়গার অভাবে তা করা কঠিন। সিটি কর্পোরেশনের প্রায় ৩৫ শতাংশ স্কুলে খেলার মাঠ আছে জানিয়ে মেয়র বলেন, অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ স্কুলে সুযোগ থাকা সাপেক্ষে ক্রমান্বয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের অপর্ণাচরন ও কৃষ্ণকুমারীতে টিন সেট ভবন ভেঙে মাঠের আয়তন বাড়ানো হচ্ছে।তেমনি যে স্কুলগুলোতে মাঠ নেই, সেখানেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
মেয়র বলেন, এখন মাঠের অভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি বিভিন্ন দিবসে অনুষ্ঠান করতে গেলে অন্যের কাছ থেকে জায়গা ভাড়া নিয়ে করতে হয়।
তবে নতুন প্রজন্মকে সুন্দর ও সুস্থভাবে গড়ে তুলতে মাঠের প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধূলাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, খেলার মাঠ অবশ্যই ব্যস্ত থাকবে খেলার জন্য। শিশু-কিশোরদের খেলাধূলাকে প্রাধান্য দিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে মাঠ ব্যবহার না করার আহবান জানান তিনি। জাম্বুরি মাঠসহ যেগুলো নেই তা নিয়ে না ভেবে যা আছে, সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে। সিটি কর্পোরেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডা.খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাহেদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে খেলাধুলা লেখাপড়ারই একটি অংশ। আমাদের স্কুলের যেটুকু মাঠ আছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন খেলাধূলা করছে। এখানে খেলাধূলা ছাড়াও বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনও আমাদের মাঠে করা হয়।
অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জারেকা বেগম বলেন, আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য খেলার মাঠের কথা চিন্তা করেই প্রাক্তন মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ২০০৬ সালে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তা এখনো চলমান। তবে অপ্রতুল হলেও মেয়েরা ওটুকু জায়গাতেই স্বাচ্চন্দে আনন্দমূখর পরিবেশে খেলাধুলা করে থাকে। তবে পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে সম্প্রসারিত ভবনের কাজ শেষ হলে মাঠের আয়তন আরো বাড়বে।
অপর্ণাচরন সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, স্কুলের পড়ালেখা ভাল ্‌িবধায় মেয়েকে এখানে পড়তে দিয়েছি। অন্য স্কুলে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন খেলায় আমার মেয়ে প্রাইজ নিয়ে আসতো। এখানে অপর্যাপ্ত মাঠের কারণে খেলার আয়োজনই অপ্রতুল।
অনেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন- কেউ কেউ বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান করতে নানা কৌশল বের করছে। কিভাবে একটি রুমের মধ্যে পুরো অনুষ্ঠান করা যায়। আবার বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া নিয়ে করছেন নামমাত্র বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ভাড়া নেয় বেসরকারি মাঠবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এদিকে স্কুলের বাইরে থাকা মাঠগুলোর বেশিরভাগ পরিণত হয়েছে মেলার মাঠে। প্রায় বছর জুড়ে আয়োজন করা হয় বিভিন্ন মেলা ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাওয়া স্কুলের মাঠে কয়েকদিন পর পর হয়ে থাকে মেলা আর ফেস্টিবল। বিভিন্ন তাঁতী ও ক্ষুদ্রশিল্প মেলা লেগেই থাকে প্রায় সারা বছর। চট্টগ্রাম কলেজের প্যারেড ময়দানের চারপাশে সুরক্ষিত দেয়াল আর প্রবেশের কড়াকড়িতে প্যারেড ময়দানের বিকেল বেলার সেই ব্যস্ত খেলাধূলার চর্চার দৃশ্য অনেকটা নেই বললেই চলে। আর বিভিন্ন পাড়া মহল্লার মাঠগুলোতে গড়ে উঠেছে বহুতল দালান।
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সহকারি স্কুল পরিদর্শক ইসমত আরা বেগম বলেন, নতুন স্কুল অনুমোদনের আগে বোর্ডের সম্মতির প্রয়োজন থাকলেও এখন আর দরকার হয় না। তা সরাসরি মন্ত্রণালয় দেখাশুনা করে। নগরীর হাজী মোহাম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রের মা জানান, আমার ছেলে শারীরিকভাবে দুর্বল ও একটু বোকা প্রকৃতির। ডাক্তার তাকে খেলাধূলায় ব্যস্ত রাখতে বললেও বাসায় কিংবা স্কুলে কোন ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar