Home / ফিচার / গ্রামে নগরের সুবিধা আবার ক্ষমতায় এলে: প্রধানমন্ত্রী

গ্রামে নগরের সুবিধা আবার ক্ষমতায় এলে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসতে পারলে গ্রামেই শহরের সুবিধা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন। দেশের উন্নয়নে তার সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপ উল্লেখ করে এও বলেন, আওয়ামী লীগ জানে কীভাবে উন্নয়ন করতে হয়।

আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন হবে জানিয়ে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

শনিবার বিকালে পাবনার শহরে সরকারি পুলিশ লাইনস মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন শেখ হাসিনা।

গত জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর পর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে এটি শেখ হাসিনার সপ্তম সমাবেশ। এর আগে তিনি সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরে জনসভা করেন।

দুপুরে পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই কাজ শেষে বিকাল চারটায় তিনি যোগ দেন আওয়ামী লীগের জনসভায়।

তীব্র রোদে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভায় অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জনসভা শুরু হলেও সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে দলে দলে জনসভাস্থলে আসতে থাকে মানুষ।

জনসভায় উপস্থিত হয়েই স্থানীয় উন্নয়নে মোট ৪৯ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাখেন বক্তব্য।

শেখ হাসিনা তার শাসনামলে দেশের উন্নয়ন ও হতদরিদ্র মানুষদের কল্যাণে নেয়া নানা প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে দেন ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ দিন বদলের সনদ নিয়ে এসেছিল। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে কোথায় নিতে চায় তার একটি রূপরেখা ছিল সেখানে। এরই মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বছরের ডিসেম্বরে ইলেকশন হবে। আপনারা যদি নৌকা মার্কায় ভোট দেন আর আওয়ামী লীগ যদি সরকারে আসতে পারে, আমরা প্রতিটি গ্রামে প্রতিটি জনগোষ্ঠী শহরের মতো নগর সুবিধা পাবে এবং সুন্দরভাবে বাঁচবে। প্রতিটি গ্রামকে আমরা নগরে উন্নত করব।’

নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে মানুষ কখন ঠকেনি সেটি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলেই আজকে উন্নয়ন হচ্ছে। কারণ, নৌকা চিরদিনই দেয়।’

‘নৌকায় ভোট দিয়েছেন বলে এই দেশের স্বাধীনতা পেয়েছেন। নৌকায় ভোট দিলেই দেশের উন্নয়ন হয়, মানুষ ভালো থাকে।’

‘আওয়ামী লীগ এই দেশের কল্যাণে কাজ করে, আওয়ামী লীগ লুটপাট আর নিজের ভাগ্য গড়তে আসে না। আমরা আসি আপনাদের ভাগ্য গড়তে।’

‘আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই, জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাই। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করে যাচ্ছি।’

‘আমাদের কাছে চাইতে হবে না। আমরা জানি একটা দেশের উন্নয়ন কীভাবে হতে পারে। আর সেভাবেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যানর বিষয়টি তুলে ধরে তার কন্যা বলেন, ‘স্বজন হারানো বেদনা নিয়েই আমি এসেছি শুধু আপনাদের জন্য কাজ করতে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে। কারণ আমার বাবা চাইতেন এই বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে, এই বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধশালী হবে। এই বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে। সেটাই আমার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাই।’

বিএনপির সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়েই তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কঠোর সমালোচনা করেন। বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের কাজই হচ্ছে খুন, হত্যা, লুটপাট, দুর্নীতি, এতিমের টাকা চুরি করে খাওয়া।’

বিএনপির শাসনামলে হত্যা, রাষ্ট্র চালাতে ব্যর্থতা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সেই সরকারের সঙ্গে তার আমলের পার্থক্যও তুলে ধরেন।

‘দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ করার জন্য এবার আমরা চার লক্ষ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। এতবড় বাজেট কোনোদিন কেউ দিতে পারেনি। বিএনপি সরকারের আমলে বাজেট ছিল মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেট ছিল ১৯ হাজার কোটি টাকা। আর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে উন্নয়ন বাজের এক লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার।’

বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজেরা বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই, তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করেছে।… ইঞ্জিনিয়ারকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। আমাদের পুলিশকে রাস্তায় পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ৭০টা সরকারি অফিস পুড়িয়েছে, সাড়ে তিন হাজার বাস পুড়িয়েছে, ২৯টা রেল পুড়িয়েছে, ছয়টা ভূমি অফিস পুড়িয়েছে।’

‘এরা ধ্বংস করতে জানে, দেশকে কিছু দিতে পারে না। …আর খালেদা জিয়া এতিমের টাকা এমিতকে দেয় নাই। নিজে আত্মসাৎ করতে যেয়ে মামলায় পড়ে জেল খাটছে। তাকে তো আমরা গ্রেপ্তার করিনি। কোর্টে রায় হয়েছে। এতিমের সম্পদ চুরি করলে তো সাজা হবেই।’

‘আমরা দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করি। ওরা জানে, খুন হত্যা, ধ্বংস। যখনই ক্ষমতায় এসেছে, তখনই মানুষ হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছে। সারা বাংলাদেশে এই তাণ্ডব তারা সৃষ্টি করেছিল। কই আমরা তো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। আমরা পুরোটা সময় কাজে লাগিয়েছি দেশের মানুষের উন্নয়নে।’

ঈশ্বরদী থেকে পাবনা রেল চালু

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রূপপুর ঈশ্বরদী থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত রেললাইন আবার চালুর উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন। সেই সঙ্গে ঈশ্বরদী পাবনা পর্যন্ত ট্রেন চালুর ঘোষণা দেন।

‘এই মিটিংয়ের পর আমাদের রেলমন্ত্রী মাঝগ্রাম থেকে পাবনা পর্যন্ত নব নির্বিত রেলওয়ে সেকশন ট্রেন চালু… পাবনা থেকে তিনি ট্রেনে করে মাঝগ্রাম পর্যন্ত রওয়ানা হয়ে এই ট্রেন চালু করবেন।’

উদ্বোধন করা উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,

‘আপনাদের জন্য আজ ৪৯টি প্রকল্প…কিছু উদ্বোধন করলাম, কিছু চালু করে দিয়ে গেলাম। ভবিষ্যতে আরও করব।’

‘ভবিষ্যতে নদী খনন করে নাব্যতা বৃদ্ধি করা, সমস্ত বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ সংযোগ করা…’।

‘আমরা প্রতি জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। কারণ, শিক্ষা ছাড়া একটি জাতি কখনও উন্নতি করতে পারে না। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করি।’

‘আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। প্রায় চার কোটি মেট্রিকটন খাদ্য উৎপাদন করে খাদ্য নিরাপত্তা সৃষ্টি করেছি। মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছি।’

‘তরি তরকারি, ফলমূল যেন উৎপাদন হয়, ১২ মাস লাউ খেতে পারেন, শিম খেতে পারেন। আগে তো তা ছিল না। কবে শীতকাল আসবেন, লাউ খাবেন। আমরা গবেষণা করে করে তা কৃষকদের হাতে তুলে দিচ্ছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar