Home / অন্যান্য / অপরাধ / চারজন গ্রেপ্তার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের

চারজন গ্রেপ্তার ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১১) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াতে ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে । এই কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জ আদমজীনগরে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর সহকারী পরিচালক এএসপি শাহ মোহাম্মদ মশিউর রহমান (পিপিএম) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।

র‌্যাব জানায়, গত ৩ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাব-১১ অভিযান চালিয়ে এ চক্রের মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

র‌্যাব-১১ জানায়, শুক্রবার রাজধানীর  বনশ্রী ও মিরপুরে দুটি পৃথক অভিযানে এই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার ভোরে র‌্যাব-১১ এর একটি টিম ঢাকার খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ বনশ্রী এলাকা থেকে এইচএসসি-২০১৮, এসএসসি ও এইচএসসি ২০১৭ এর ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার ও প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্রের পেশাদার সদস্য মো. ইয়াসির আরাফাত সাউদ, জুবায়ের আহমেদ জাবের ও মো. রমজান আলী টিটুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার ও বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ১৪টি মোবাইল, বিকাশে প্রশ্ন বিক্রির টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ১৭টি সিম কার্ড, তিনটি মেমোরি কার্ড, একটি ট্যাব, দুটি ল্যাপটপ, একটি কম্পিউটার, একটি হার্ডডিস্ক, একটি পেনড্রাইভ ও একটি ব্লু টুথ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও র‌্যাব-১১ এর অপর আরেকটি টিম একই দিন ভোর সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মিরপুর থানাধীন নাসিমবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা চালিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত সদস্য মাহমুদ হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানায়। তার কাছ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও প্রচারের কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল, একটি ল্যাপটপ ও আটটি বিকাশ অ্যাকাউন্ট যুক্ত সিম কার্ড জব্দ করা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, রাজধানীর বনশ্রী হতে গ্রেপ্তাররকৃত চক্রটি এইচএসসি ২০১৮ এর ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার ও বিক্রয় ছাড়াও ২০১৭ এর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রচার করে এবং র‌্যাব কর্তৃক উদ্ধারকৃত ১১টি বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র বিক্রয়ের টাকা লেনদেন করে। গ্রেপ্তারকৃত সদস্যরা এক বছরের বেশি সময় ধরে ফেসবুক, মেসেঞ্জার এবং হোয়াটস্অ্যাপ এর মাধ্যমে ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার ও বিক্রয় করে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃত ইয়াসির আরাফাত ভুয়া প্রশ্ন প্রচারকারী বিভিন্ন ফেসবুক, মেসেঞ্জার গ্রুপের অ্যাডমিন ও সদস্য বলে জানিয়েছে। তার এই অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার মা অবগত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় সাবধান করতেন।

গ্রেপ্তারকৃত মো. ইয়াসির আরাফাত সাউদ ও জুবায়ের আহমেদ জাবের তারা দুই ভাই এবং মো. রমজান আলী টিটু তাদের দুঃসম্পর্কের চাচাতো ভাই। এই তিন ভাই মো. ইয়াসির আরাফাত সাউদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে কাজ করত। মো. ইয়াসির আরাফাত সাউদ, ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছে। সে গত এক বছর ধরে ভুয়া প্রশ্ন সংগ্রহ, প্রচার ও বিক্রয় করে আসছিল। ইয়াসির কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শী। সে তিনটি মেসেঞ্জার গ্রুপ যার ইংরেজিতে ‘এসএসসি এডমিন প্যানেল ২০১৭, বিডি এডমিন প্যানেল, বিডি টাইগার টিম’ সমূহের অ্যাডমিন এবং দুটি ভুয়া প্রশ্ন প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপ, এসএসসি, এইচএসসি, পিএসসি, জেএসসি, ২০১৮ ও এসএসসি, এইচএসসি, পিএসসি, জেএসসি সাজেসন্স এর সদস্য। আরাফাতসহ আরও ২৪ জন অ্যাডমিন একটি বিশেষ গ্রুপের সদস্য। যেখানে  অ্যাডমিন সদস্যরা প্রশ্ন পাওয়া মাত্রই পোস্ট করে এবং যে ব্যক্তি আগে পোস্ট করে শর্তানুসারে তাকে অ্যাডমিন সদস্যরা ৫০০ টাকা বিকাশ করে। তারপর ইয়াসির এর প্রশ্ন বিভিন্ন গ্রুপে প্রচার করে এবং বিক্রি করে। এ কাজে সে তার আপন ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জাবের ও দুঃসম্পর্কের চাচাতো ভাই মো. রমজান আলী টিটুকে ব্যবহার করে।

এছাড়াও জুবায়ের আহমেদ জাবের, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সাইন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর তৃতীয় বর্ষের সপ্তম সেমিস্টারের ছাত্র। সে তার ভাইয়ের সব কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। সে তার ভাইয়ের ব্যস্ততা ও অনুপস্থিতিতে গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা, ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করা, প্রচার করা ও বিক্রয়ের কাজ সম্পন্ন করে। এই আসামি মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এইচএসসি ২০১৮ এর ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার ও বিক্রয়ের সাথে সরাসরি জড়িত।

মো. রমজান আলী টিটু গত ২০১৭ সালে তেজগাঁও কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। বর্তমানে সে যাত্রাবাড়ী সাইফুরস শাখায় আইইএলটিএস কোর্সে অধ্যয়নরত। সে মো. ইয়াসির আরাফাত সাউদের কাছ থেকে নিজের জন্য এইচএসসি ২০১৭ এর ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে বন্টন করা। এই আসামিও ভুয়া প্রশ্ন প্রচারকারী ফেসবুক ও মেসেঞ্জার গ্রুপের সদস্য।

এদিকে রাজধানীর মিরপুর থেকে গ্রেপ্তারকৃত মাহমুদ হাসান ওরফে প্রচ্ছদ ওরফে পারফেক্ট নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে বর্তমানে এআইইউবিতে কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এ চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত। সে এক বছরের বেশি সময় ধরে ভুয়া প্রশ্ন সংগ্রহ, প্রচার ও বিক্রয় করে আসছে। সে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সম্পর্কে বিশেষ পারদর্শী। সে ইংরেজিতে লেখা ‘এইচএসসি বাংলা ফার্স্ট পেপার, এইচএসসি বাংলা সেকেন্ড পেপার, এইচএসসি ইংলিশ ফার্স্ট পেপার ও এইচএসসি ইংলিশ সেকেন্ড পেপার নামে চারটি গ্রুপের অ্যাডমিন। সে ভুয়া প্রশ্ন ফাঁসের কাজে এই গ্রুপগুলো ব্যবহার করত এবং পরীক্ষার সাবজেক্টের নাম অনুযায়ী তারা অ্যাডমিন গ্রুপের নাম পরিবর্তন করত। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৯০ জন। ভুয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার সাথে সাথে তারা তাদের এই গ্রুপে আপলোড করতো। মাহমুদ হাসান এই গ্রুপ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র সংগ্রহ ও বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছিল। সে দেড় হাজার টাকা করে চলতি এইচএসসি পরীক্ষার ভুয়া প্রশ্ন সংগ্রহ করে এক হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করত বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। সে ভুয়া প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য মোট ৬২টি অ্যাপস্ ব্যবহার করেছে।

র‌্যাব জানায়, এই চক্র দুইটির বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তাররের লক্ষ্যে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

র‌্যাব জানায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সমাজের বিভিন্ন অপরাধের উৎস উদঘাটন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারসহ আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি। বিশেষ করে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় ভুয়া প্রশ্নপত্র প্রচার ও বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য র‌্যাব ফোর্সেস নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar