Home / খবর / চালক অল্পবয়স্ক অদক্ষ গাড়ি ফিটনেসবিহীন

চালক অল্পবয়স্ক অদক্ষ গাড়ি ফিটনেসবিহীন

অল্পবয়স্ক ও অদক্ষচালক বেশিরভাগ গাড়ি চালাচ্ছেন  ।আবার এদের মধ্যে অনেকের লাইসেন্স ভুয়া। এতে করে নিত্য দুর্ঘটনা ঘটছে। হচ্ছে প্রাণহানি। চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় চলাচল করা প্রায় এক লাখ গাড়ির ফিটনেস নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল নম্বর প্লেট প্রদানের মাধ্যমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্ত এবং এগুলোকে রাস্তা থেকে সরানোর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু সদিচ্ছার অভাব এবং দুর্নীতির কারণে সেই উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। প্রতি বছর গাড়ি বাবদ ফি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু অনেক গাড়ি গত বিশ বছরেও কোনো ফি পরিশোধ করেনি। ফি আদায়ের জন্য বিআরটিএ এবং ফি প্রদানে বাধ্য করতে পুলিশ আছে। কিন্তু নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির ফলে রাজস্ব আদায়ের অবস্থা বেহাল।

বিআরটিএ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ৪২ বছরে বৃহত্তর চট্টগ্রামে ৪৯ হাজার যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। এর মধ্যে জিপ বা কার হচ্ছে ১১,৬২৫, বাস ও মাইক্রোবাস ৫ হাজার, ট্রাক ও পিকআপ ৯,১৫২টি। এছাড়া ৬,৬৬১টি অটো টেক্সি এবং ১২৬২টি টেম্পো রয়েছে। পরে ১৯৯০ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত ১৮ বছরে গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ৮৬,৩৯৮টি। এর মধ্যে কার ১৪,১১৮, অটোরিকশা ৩১,৫৯৫, মাইক্রোবাস ৭,৬১৭, বাস ২,০২৩, ট্রাক ও অন্যান্য ৫,১০৮টি, পিকআপ ২,৫০২টি, জিপ ১,১৩৭টি।

বিআরটিএর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে চলাচল করে প্রায় এক লাখ নব্বই হাজার গাড়ি। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ গাড়ির ফিটনেস নেই। এদের কোনো ডকুমেন্টও নেই। বিআরটিএর কাছে না গিয়ে বছরের পর বছর রাস্তায় চলছে এসব গাড়ি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল নম্বর প্লেট প্রদান প্রকল্পে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় শুরুতে দুটি নম্বর প্লেটের জন্য পাঁচ হাজার টাকারও বেশি আদায় করা হয়। বর্তমানে নতুন গাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় নম্বর প্লেটের জন্য আদায় করা হচ্ছে ৪,৬২৮ টাকা। আগে রেজিস্ট্রেশন হয়েছে এমন গাড়ির নম্বর প্লেটের জন্য আদায় করা হচ্ছে ৩,৬৫২ টাকা। গাড়ির ফিটনেস না থাকলে ডিজিটাল নম্বর প্লেট প্রদান না করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারণে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে নম্বর প্লেটের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করলে যে কোনো গাড়ির মালিক ডিজিটাল নম্বর প্লেট পাচ্ছেন। এতে করে ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি কিংবা রাস্তা থেকে লক্কড় ঝক্কড় গাড়ি সরানোর যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল তা হাতছাড়া হয়ে গেছে। গত বিশ বছর বিআরটিএর কাছে যায়নি এমন গাড়িও বর্তমানে ডিজিটাল নম্বর প্লেট লাগিয়ে রাস্তায় চলছে।

অপরদিকে ফিটনেসবিহীন গাড়ির পাশাপাশি আছেন ভুয়া লাইসেন্সধারী চালক। এছাড়া কিশোরদের হাতেও গাড়ির স্টিয়ারিং। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে নানা ধরনের গাড়ি এসব চালকের হাতে। এরা অহরহ দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে।

লাইসেন্স ইস্যু করার একমাত্র ক্ষমতা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ)। সরকারি এই সংস্থা নানাভাবে পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করে। মূল লাইসেন্স পাওয়ার আগে একজন চালক শিক্ষানবিশ লাইসেন্স নেন। এই লাইসেন্স দিয়ে কিছু দিন গাড়ি চালানোর পর লিখিত, মৌখিক এবং ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই কেবল লাইসেন্স পান একজন চালক। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনোভাবেই একটি বৈধ লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষানবিশ লাইসেন্স না থাকলে এই পরীক্ষায় বসার কোনো সুযোগ থাকে না। শিক্ষানবিশ লাইসেন্স সংগ্রহ থেকে শুরু করে লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষা দিয়ে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে বেশ কয়েক মাস সময় লাগে। দফায় দফায় যেতে হয় বিআরটিএতে। কিন্তু বিআরটিএকে পাশ কাটিয়ে সংঘবদ্ধ দালালদের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহ করতে কোনোরূপ হয়রানি হতে হয় না। টাকা খরচ করলে সহজেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। তিনশ টাকা থেকে সাত হাজার টাকায় একেকজন ড্রাইভার ভুয়া লাইসেন্স সংগ্রহ করেন। হালকা থেকে ভারী যে কোনো ধরনের লাইসেন্স পাওয়া যায়। বাস টার্মিনাল কিংবা বিআরটিএ অফিসের কাছে চা দোকান থেকে শুরু করে পান সিগারেটের দোকানেও এই ধরনের প্লাস্টিক আইডি কার্ডের স্মার্ট লাইসেন্স পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ কঠোর হলে ফিটনেসবিহীন গাড়ির চলাচল বন্ধ এবং ভুয়া চালকের অপতৎপরতা কমবে বলে মন্তব্য সচেতন মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar