Home / চট্টগ্রাম / জলাবদ্ধতা বর্ষার প্রথম দিনেই

জলাবদ্ধতা বর্ষার প্রথম দিনেই

দুপুরে ঝড়োবাতাস ও ভারী বৃষ্টি। সকাল থেকেই আকাশজুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা। এর মধ্য দিয়ে প্রথমদিনেই স্বরূপ জানান দেয় বর্ষা। অবশ্য বর্ষার এমন আগমন স্বস্তির ছিল না নগরবাসীর জন্য। কারণ, শহরের বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বেহাল হয়ে পড়ে তাদের জীবনযাত্রা। এদিকে সড়ক ডুবে যাওয়ায় আখতারুজ্জামান ফ্লাওইভারকে (বহাদ্দারহাট থেকে লালখান বাজার) নিরাপদ ভেবে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন যানবাহন চালকরা। কিন্তু সেখানেও ছিল জলজট। ফলে দুর্ভোগ যেন পিছুই ছাড়েনি সাধারণ মানুষের। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ করে অনেকে মন্তব্য করেন, ‘ওপরে (ফ্লাইওভার) পানি, নিচেও (রাস্তায়) পানি। দুর্ভোগ যেন মোদের নিত্যসঙ্গী’।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুর দেড়টা থেকে ২টা পর্যন্ত ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসময়ে ঝড়ো বাতাসও হয়েছে। যার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৭ কিলোমিটার। পরবর্তীতে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরো তিন মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে আজ রোববারও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা শেখ ফরিদ আহমেদ।
গতকাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন পরির্দশনে দেখা গেছে, মুরাদপুর থেকে জিইসি পর্যন্ত সড়কের দুইপাশের প্রায় পুরোটায় তলিয়ে যায় পানিতে। দুই নাম্বার গেটসহ কয়েক জায়গায় পানি ছিল প্রায় কোমর সমান। একই অবস্থা ছিল প্রবর্তক মোড়েও। অবশ্য বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর সেখানে পানি দ্রুত নেমে যায়। এছাড়া আগ্রাবাদ, ঈদগাঁও, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতলগঞ্জ, ফরিদারপাড়া, তালতলা, পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায়ও ছিল তীব্র জলজট।
এদিকে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় মুরাদপুর থেকে জিইসিসহ কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল কিছু সময় বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারিরা। এছাড়া নাসিরাবাদসহ কয়েক জায়গায় পানিতে আটকা পড়ে প্রাইভেট কারসহ বিভিন্ন যান। গাড়ির যন্ত্রাংশে পানি ঢুকে যাওয়ায় এ দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে গেছে। মাত্র তো বৃষ্টি শুরু, খাল-নালা পরিষ্কার না থাকলে সামনে আরো ভয়াবহ হতে পারে।’ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে খাল-নালা পরিষ্কার করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় নালা ও খালগুলো সিডিএ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের আওতায় পরিষ্কার করবে। তাই আমরা দুই ফুট-আড়াই ফুটের ছোট ছোট নালাগুলো পরিষ্কার করেছি। কিন্তু বড় নালাগুলো পরিষ্কার না থাকলে তো জলজট থাকবেই।
এদিকে বৃষ্টিজনিত কারণে শহরের কোথাও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের অপারেটর মো. জাহাঙ্গীর। এছাড়া বৃষ্টির কারণে ভোগ্যপণ্যের সবচেড়ে বড় বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কোন সমস্যা হয়নি বলে জানিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ী সোলায়মান বাদশা।
পাঁচটা পর্যন্ত যানজট : বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে পানি নেমে গেলেও ব্যতিক্রম ছিল অঙিজেন মোড়। সেখানে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জলজট ছিল। এতে অঙিজেন মোড়সহ আশেপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অঙিজেন মোড় থেকে উত্তরে কুলগাঁও, পশ্চিমে ক্যান্টনমেন্ট এবং দক্ষিণে প্রায় আতুরার ডিপো পর্যন্ত অংশে তীব্র যানজটে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar