Home / আর্ন্তজাতিক / ট্রাম্প চাপের মুখে ‘বিচ্ছিন্ন নীতি’ থেকে সরলেন
Immigration activists rally outside the U.S. Supreme Court as justices hear arguments in a challenge by 26 states over the constitutionality of President Barack Obama's executive action to defer deportation of certain immigrant children and parents who are in the country illegally in Washington April 18, 2016. REUTERS/Joshua Roberts

ট্রাম্প চাপের মুখে ‘বিচ্ছিন্ন নীতি’ থেকে সরলেন

ডোনাল্ড ট্রাম্প মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন প্রত্যাশীদের থেকে বাচ্চাদের আলাদা করার যে নীতি সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছিল সেই নীতি থেকে সরে এলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট । জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনা শুরু হওয়ার পর এই সিদ্ধান্তের বিপরীত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।

এসময় তিনি অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্ত পরিবারগুলোকে একসঙ্গে রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। বুধবার হোয়াইট হাউজে ওই নির্বাহী আদেশে সই করার পর ট্রাম্প বলেন, গ্রেপ্তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করার দৃশ্য তিনি আর দেখতে চান না।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, হৃদয়বান যে কেউ বিষয়টা অনুধাবন করতে পারবে। পরিবারগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, এটা আমরা আর দেখতে চাই না।’

তবে ইতোমধ্যে এই নীতির শিকার হয়ে যেসব পরিবার বিচ্ছিন্ন হয়েছে তাদের ব্যাপারে ওই নির্বাহী আদেশে কিছুই বলা হয়নি।

বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কঠোর সমালোচনার কারণে এমন নীতি থেকে সরে এলেন ট্রাম্প। এছাড়া গত ৫ মে থেকে ৯ জুন পর্যন্ত দুই হাজার ২০৬ জন আটক বাবা-মায়ের কাছ থেকে দুই হাজার ৩৪২ জন শিশুকে বিচ্ছিন্ন করার কথাও জানিয়েছে বিবিসি।

তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বিচ্ছিন্ন নীতি থেকে সরে এলেও অবৈধ অভিবাসনে আগের মতোই কঠোর নীতি এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিচার চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা নির্বাহী আদেশে রয়েছে- মামলা চলাকালে অবৈধ অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গেই বন্দী রাখা হবে। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসী পরিবারের শিশুদের ২০ দিনের বেশি আটকে রাখা যাবে না- আদালতের এমন আইন পরিবর্তনের জন্য অনুরোধ করা হবে।

ট্রাম্পের পরিবারের অন্যতম এবং প্রভাবশালী সদস্য মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পও মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বিচ্ছিন্ন নীতির বিরোধী ছিলেন। সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বিচ্ছিন্ন নীতির সমালোচনা করেন মেলানিয়া।

তবে এর আগে বিচ্ছিন্ন নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে নিজের ক্ষমতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এছাড়া এটি পরিবর্তনে কংগ্রেসের সম্মতির কথাও জানান তিনি।  আর এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কংগ্রেসে ভোট হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির নেতা পল রায়ান।

যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে অবৈধ অভিবাসীদের আগে জিজ্ঞাসাবাদ করেই ছেড়ে দেয়া হতো। তবে এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে ট্রাম্প প্রসাশন। এছাড়া এসব অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে বিচারের আওতায় আনা হয়।

আর তাদের বিচারের আওতায় আনার কারণে কারাগারে আটক করে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  তবে কারাগারে শিশুদের রাখার আইন না থাকায় ওইসব পরিবারের সঙ্গে থাকা শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar