Home / খবর / ঢাকা জানতে চায় প্রত্যাবাসন ঠেকাতে গুলি কি-না?

ঢাকা জানতে চায় প্রত্যাবাসন ঠেকাতে গুলি কি-না?

বিজিপি’র গুলিবর্ষণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ বিনা উস্কানিতে ৪ঠা নভেম্বর সীমান্তে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ । বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ লুইন ও’কে তলব করে ক্ষোভের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তার হাতে বাংলাদেশের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ নোটও ধরিয়ে দেয়া হয়। ঢাকার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১লা নভেম্বরের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের ৪ দিনের মাথায় (৪ঠা নভেম্বর) দিন-দুপুরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিপির ৩ দফায় ৪১ রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঘটনা বাস্তুচ্যুতদের ফেরানোর প্রক্রিয়া ঠেকানোর কোনো কৌশল কি-না? রাষ্ট্রদূতের কাছে খোলাখুলিভাবে তা জানতে চেয়েছে ঢাকা।

সরকারের ডাকে বিকাল সাড়ে ৩টায় (পূর্ব নির্ধারিত সময়ে) রাষ্ট্রদূত তার দুই সহকর্মীকে নিয়ে সেগুনবাগিচায় হাজির হন। মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক দেলোয়ার হোসেনসহ সাউথ ইস্ট এশিয়া উইংয়ের কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত শুরুতে ঘটনাটি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। মহাপরিচালক তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ঘটনাটি দিনের আলোতে ঘটে

এর চাক্ষুস সাক্ষী রয়েছে। মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষীরা থেমে থেমে গুলি করছে। কোনো রকম উস্কানি ছাড়াই প্রথম দফায় ১৭ রাউন্ড, দ্বিতীয় দফায় ২১ রাউন্ড, সর্বশেষ ৩ রাউন্ড গুলি চালিয়েছে। ওই ঘটনায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থানরত একজন বাংলাদেশি এবং একজন রোহিঙ্গা বালক আহত হয়েছেন। বাংলাদেশি বালকের বুকে গুলি লেগেছে এবং তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন জানিয়ে ঢাকার তরফে বলা হয়, ঘটনাটি অনাকাক্সিক্ষত এবং উস্কানিমূলক। এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শান্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে মনে হবে শীর্ষ নেতৃত্বের অঙ্গীকারের পর সীমান্তরক্ষীরা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ বিনষ্ট করতে এবং রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভয় বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছে।

ঢাকার তরফে এ-ও বলা হয়- উস্কানিমূলক ওই ঘটনার পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি রয়েছে, এমনটি বাংলাদেশ মনে করতে চায় না। ঢাকা মনে করে মিয়ানমারের শীর্ষ নেতৃত্ব গুলিবর্ষণের ঘটনার জন্য দায়ী দেশটির পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কালবিলম্ব না করে ব্যবস্থা নেবে এবং এ নিয়ে জনমনের প্রশ্ন নিরসন করবে। প্রত্যাবাসনে নেপি’ড যে আন্তরিক সেটি ওই ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার মধ্য দিয়ে তারা প্রমাণ করবে বলেও আশা করে ঢাকা। এক কর্মকর্তা দাবি করেনÑ বাংলাদেশের বক্তব্য শোনার পর মিয়ানমারের কূটনীতিকরা খানিক নমনীয় হন এবং ঘটনাটি এই সময়ে ঘটার কারণে সার্বিকভাবে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে বলে তাদের মধ্যে অনুশোচনা লক্ষণীয় ছিল। উল্লেখ্য, গত রোববার সীমান্ত লাগোয়া কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীর রহমত বিল এলাকায় বিজিপির গুলির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করতে গেলেও ফের তারা গুলি করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিয়ানমারের বিজিপির গুলিবর্ষণের ওই ঘটনায় তাৎক্ষণিক গোটা এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। ঘটনার ৩ দিনের মাথায় রাষ্ট্রদূতকে ডাকা হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar