Home / জাতীয় / তোফায়েল : ড. কামাল-আমীরুলকে তুলোধুনো করলেন

তোফায়েল : ড. কামাল-আমীরুলকে তুলোধুনো করলেন

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পক্ষে মত দেয়ায় ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামকে তুলোধুনে করলেন । তাদেরকে ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন মন্ত্রী। তারা দুইজন আদালতকে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তোফায়েল।

রবিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জাসদের সদস্য মইনউদ্দিন খান বাদল বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর ওপর তোফায়েল আহমেদসহ ১০ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেন ভারতের সংবিধানের কথা বলে আদালতকে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। সেখানে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা এখনো লোকসভা ও বিধানসভার হাতেই রয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, নেপালেও একই ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম হচ্ছে পাকিস্তান। সেখানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচারক অপসারণ করতে হয়। এই কাউন্সিল করেছিলেন আইয়ুব খান, যার বিরুদ্ধে আমরা ’৬৯-এর গণঅভূত্থান করেছিলাম।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিচারপতিদের বিচার করবে। আমার প্রশ্ন- প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তার অধীনস্তরা কী তার বিচার করতে পারবেন?’

তোফায়েল বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে তারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। সংসদ সদস্যরা সেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত। আইপিইউ-সিপিএ এ’র চেয়ারম্যান এই সংসদেরই সদস্য।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানকে কেউ যদি ধ্বংস করে থাকেন তিনি হলেন জিয়াউর রহমান। তিনি আইয়ুব খানকে অনুসরণ করে সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল করেছিলেন। এখন সেটা রক্ষা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী পদক্ষেপ নেবেন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলার নেই। কিন্তু যারা সমর্থন করেছেন তাদের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তারা সুবিধাবাদী। আপনি সংবিধান প্রণয়নের সময় বললেন, ‘বেস্ট সংবিধান বাট, এখন কার বিরোধিতা করছেন। কারণ আপনারা সংসদ সদস্য হতে পারেননি।’

তোফায়েল আরও বলেন, ‘আমার ভাবতে অবাক লাগে যারা দাবি করেন তারা সংবিধানের প্রণেতা, নামের যোগ করা হয় সংবিধান প্রণেতা অমুক। তাই যদি হয়, আবার এক সময় গর্ব করে বলতেন, ৭২ এর সংবিধান এই উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সংবিধান।’

আজ সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে এই সম্বন্ধে আমার কোনো বক্তব্য নাই।সে সম্বন্ধে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো সার্বভৌমত্ব নিয়ে। এখানে যারা অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে বক্তব্য রেখেছেন। তাদের বক্তব্য আমার কাছে। তারা অসত্য কথা বলেছেন। ভুল তথ্য জাতিকে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

সাংবাদিকরা  যখন ড. কামাল হোসেনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, আমরা তখন ভারতকে অনুসরণ করেছিলাম। এখন ভারতে এইটা নেই। কামাল হোসেনের মত একজন লোক এরকম কথা বলতে পারেন?

আমার খুব দু:খ লাগে, তারা সংবিধান নিয়ে কথা বলেন। তারা সংবিধান প্রণনয়ন করেছেন। আজ আমার বলতে দ্বিধা লাগে তারা সুবিধাবাদী। ৭২ এর সংবিধান নিয়ে বললেন একরকম,  আর এখন সেইটার উল্টো বলতে গিয়ে নানা কথা বললেন। সেই কথাগুলো আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই না।

ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলামের একটি বক্তব্যকে মিথ্যা উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, আমীরুল বলেছেন, আন্তর্জাতিক ভাবে যেসব আইন-কানুনে রয়েছে জাতিসংঘ থেকে শুরু করে ইউরোপ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর যে সমস্ত রুলস দেখা যাচ্ছে সব জায়গায় এখন জুডিশিয়ারি কমপিটেন্স এবং তাদের অ্যাপয়নমেন্ট এবং তাদের যদি কোনো ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন প্রয়োজন হয় ওটা তারা নিজেরাই করবে। তিনি এও বলেছেন, বেশিরভাগ দেশে বিচারক অপসারণের ক্ষমতা যে সংসদের হাতে ছিল তা থেকে তারা সরে এসেছে। আমীরুল সব অসত্য বলেছেন অভিযোগ করেন তোফায়েল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar