Home / খবর / দল নিরপেক্ষ সদস্য রাখার ইঙ্গিত কাদেরের নির্বাচনকালীন সরকারে

দল নিরপেক্ষ সদস্য রাখার ইঙ্গিত কাদেরের নির্বাচনকালীন সরকারে

এমন প্রতিনিধি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের নির্বাচনকালীর সরকারে রাজনীতি করেন না। তবে সেখানে বিএনপির কেউ থাকবে না, সেটা নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সংসদে না থাকলেও টেকনোক্রেট কোটায় নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপির মন্ত্রী রাখা যায় কি না, এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘টেকনোক্রেট কোটায় বুদ্ধিজীবী আছে, সুশীল সমাজ আছে, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক আছে, তাদের থেকে নেয়া যায়, নিলে তাদের নেব, দল থেকে কেন নেব?’

শুক্রবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিলের বাকি আর দুই থেকে আড়াই মাস। এর মধ্যেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ভোটে আসার বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।

২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের এই সময়টায় বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংস আন্দোলন চলছিল দেশে। আর বিএনপিকে ভোটে আনতে সরকারের নানা চেষ্টা ছিল।

সে সময়কার বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেমন ফোন করেছেন, তেমনি বিদেশিদের পক্ষ থেকেও নানা উদ্যোগ ছিল। আবার নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতি আহ্বান ছিল, তাদেরকে পছন্দ মতো মন্ত্রণালয় বেছে নেয়ারও সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু বিএনপি কোনো আমন্ত্রণই গ্রহণ করেনি দলটি।

তবে এবার বিএনপি ভোটে আসতে আগ্রহী বলে নেতারা জানাচ্ছেন আর এ কারণে তারা সংলাপে বসতে নিজেরাই আহ্বান জানাচ্ছেণ। কিন্তু সরকারি দলের পক্ষ থেকে সাড়া নেই। তেমনি জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, নির্বাচনকালীন সরকারেও বিএনপির অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

কাদের বলেন, ‘পার্লামেন্টে তাদের (বিএনপি) কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। যখন আসার সুযোগ ছিল তখনও তারা আসেনি। তাদেরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যন্ত অফার করা হয়েছিল কিন্তু তারা আসেনি। এবার তারা পার্লামেন্টে উপস্থিত নেই। আমরা তো এবার তাদেরকে ডাকতে হবে এমন কোন চিন্তা নেই।’

বিএনপি নির্বাচনে না এলে রাজনীতির ভবিষ্যত কী- এমন প্রশ্নে কাদের বলেন, ‘পদ্ধতিটা আমাদের সংবিধানের। পদ্ধতিটা বাংলাদেশের সংবিধানই নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচনটা কীভাবে হবে। আর সংবিধানের এই দায়িত্বটা থাকবে নির্বাচন কমিশনের উপর।’

‘সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন পরিচালনার যাবতীয় ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে তাদের সব প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়ে গেছে।’

‘লেভেল প্লেইং ফিল্ডের বিষয়টাও নির্বাচন কমিশন ইলেকশন শিডিউল ঘোষণার পর পর, লেভেল প্লেইং ফিল্ড কীভাবে হবে সেটাও নির্বাচন কমিশনের হাতে।’

কাদের বলেন, ‘দেশে মোটামুটি স্বস্তিদায়ক নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটা শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে, এই শান্তিময় পরিবেশটাকে ভয়ঙ্কর রূপ দেয়ার জন্য বিএনপি এবং তাদের দোসররা উঠে পড়ে লেগেছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘এক এগারোর মতো ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টির চক্রান্তটা কিন্তু বিএনপি করছে, মিডিয়ার একটি অংশ তাদের সহযোগিতা করছে। ১/১১ এর কুশীলবদের সঙ্গে মিডিয়ার একটি অংশ ছিল তাদের সহযোগী।’

‘এখনও একই ষড়যন্ত্র বিএনপিই করে যাচ্ছে। দেশের মানুষ, আমাদের সরকারে উপর খুশি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর খুশি, আমাদের উন্নয়ন অর্জনে জনগণ খুশি। আমরা জানি জনগণ উন্নয়নের দিকে রায় দিবে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আবারও রায় দিবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিএনপি এবং তাদের দোসররা হুমকি সৃষ্টি করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar