Home / Alertnews.tv / নতুন এই পদ্ধতি হৃদরোগের অপারেশনে বিপ্লব ঘটাবে (ভিডিও)

নতুন এই পদ্ধতি হৃদরোগের অপারেশনে বিপ্লব ঘটাবে (ভিডিও)

প্রতিবছরে গড়ে দশ লাখের বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয় মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রে । এদের মধ্যে তিন লাখ ৭৫ হাজারের বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হার্টে রক্ত জমাট বাধার কারণে রক্ত প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া দুই লক্ষাধিক লোকের স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত জমাট বেধে যায়। একটি জমাট রক্ত মানুষের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এসব জমাট বাধা রক্ত যে পদ্ধতিতে সার্জারি করা হয় তার নাম ‘থ্রোমবেক্টোমি’। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে জমাট রক্ত দূর করতেন সার্জনরা।

থ্রোমবেক্টোমি পদ্ধতি ব্যবহার করে চিকিৎসকরা জমাট রক্তের মধ্যে ডিভাইস ঘুরিয়ে তা ভেঙে দেন। এতে রক্ত চলাচলের পথ তৈরি হলেও অন্যান্য ক্ষতি হওয়ার আশংকা তৈরি হয়। এ পদ্ধতিতে রক্তের জমাটগুলো পুরোপুরি নির্মূল করা যায় না। রক্ত প্রবাহের পথ খুলে দিতে পারলেও সেখানে জমাট রক্তের কিছু অংশ থেকে যায়।

তবে এবার একই ক্ষেত্রে আরও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতির আবিষ্কার করেছেন চিকিৎসকরা। কয়েক বছর ধরে গবেষণা ও পরীক্ষামূলক ব্যবহারের পর এ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে ব্যবহার শুরু করছেন তারা। ‘মেগাভ্যাক মেকানিকাল থ্রোমবেক্টোমি সিস্টেম’ নামের এই পদ্ধতি আরো নিখুঁতভাবে কাজ করবে। এর অপারেশন যন্ত্রটির মধ্যে চারটি ভিন্ন ভিন্ন ডিভাইস রয়েছে। যেগুলো ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে। এই পদ্ধতি পুরো জমাট বাধা রক্তকে আস্তে করে টেনে তার মধ্যে ঢুকিয়ে নেয়। এরফলে সম্পূর্ণ জমাট রক্ত দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষতিও এড়ানো যায় এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে।

ডেইলি মেইলের প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মেগাভ্যাক মেকানিকাল থ্রোমবেক্টোমি সিস্টেমে চারটি ডিভাইস রয়েছে। একটি চিকন তার রক্তপ্রবাহ পথে প্রবেশ করে জমাট রক্তের সামনে থামবে। তারপর তার ভিতর থেকে আরেকটি তার জমাট রক্ত ভেদ করে আরেক প্রান্তে চলে যাবে। তারপর শেষপ্রান্তে রক্ত ঠেলে দেয়ার জন্য তার ফুলে যাবে এবং আরেক প্রান্তে সেই রক্ত গ্রহণের জন্য রুম তৈরি হবে। জমাট রক্ত আস্তে আস্তে ধাক্বা দিয়ে রুমে ঢুকিয়ে দেবে যন্ত্রটি। তারপর কোনো ক্ষতি ছাড়া আবার তার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে এবং বের হয়ে যাবে।

আগের পদ্ধতিতে জমাট রক্তের মধ্যে তার ঘুরিয়ে ভেঙে দেয়া হত কিন্তু নতুন এই পদ্ধত জমাট রক্তকে না ভেঙে সরাসরি ধাক্কা দিয়ে নিজের ভেতরে ঢুকিয়ে নেবে। যার ফলে ওই স্থানে চাপের সৃষ্টি ও ক্ষত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। নতুন এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে হৃদরোগ ও পায়ের মাসলের রক্ত জমাট বাধার সমস্যা খুব দ্রুত সমাধান করা যাবে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব বরণের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

ঢাকা টাইমস/৩১জানুয়ারি/একে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar