Home / অন্যান্য / নির্বাচন / নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ইভিএম বাতিলের দাবি নির্দলীয় সরকার গঠন ড. কামাল হোসেন

নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ইভিএম বাতিলের দাবি নির্দলীয় সরকার গঠন ড. কামাল হোসেন

সংসদ ভেঙে দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকার গঠন, নির্বাচনের আগে ও পরে সেনা মোতায়েন, ইসি পুনর্গঠন এবং ইভিএম বাতিলের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। আজ শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ৫দফা দাবির কথা জানান গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, কার্যকর গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনী কালো টাকা, সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের ভূমিকা থাকবে না। এ জন্য সকলকে পাহারা দিতে হবে। নারী পুরুষ সবাই যেন নির্বিঘেœ ভোট দিতে পারে। বঙ্গবন্ধুর স্বাক্ষরিত সংবিধানে কার্যকর গণতন্ত্রের কথা বলা হয়েছে।
জাতীয় ঐক্য নয়টি লক্ষ্যের কথাও জানিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গেলে তারা কী করবে, এই লক্ষ্যে তা বলা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত ৯ লক্ষ্য হলো-
১. বাংলাদেশে স্বেচ্ছাচারী শাসন ব্যবস্থা থেকে পরিত্রাণ এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্বাহী ক্ষমতা অবসানের লক্ষ্যে সংসদ, সরকার, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, ন্যায়পাল নিয়োগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকর করা। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ ও সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের জন্য সাংবিধানিক কমিশন গঠন করা।
২. দুর্নীতি দমন কমিশনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা। দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে দুর্নীতি কঠোর হাতে দমন ও দুর্নীতির দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা।
৩. বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ সৃষ্টি, বেকারত্বের অবসান ও শিক্ষিত যুব সমাজের সৃজনশীলতা ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা।
৪. কৃষক-শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সরকারি অর্থায়নে সুনিশ্চিত করা।
৫. জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় সরকারসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতি ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত করা।
৬. বাংলাদেশ ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার, সুষম বণ্টন ও জনকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
৭. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য গঠন এবং প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিপরীতে ইতিবাচক সৃজনশীল এবং কার্যকর ভারসাম্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা।
৮. সকল দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এই নীতির আলোকে পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। এর নীতির আলোকে জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তাকে সমুন্নত রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। প্রতিবেশি দেশগুলো সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইত্যাদির ক্ষেত্রে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া।
৯. বিশ্বের সব প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও সমর সম্ভারে সুসজ্জিত, সুসংগঠিত ও যুগোপযোগী করা।
এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারের দিকে যেতে চাইলে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের বাধা দেয় পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar