Home / খবর / পর্যটন নগরী সিসিটিভির আওতায়

পর্যটন নগরী সিসিটিভির আওতায়

এখন সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এসেছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট । বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে আসা-যাওয়ার রাস্তা থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে লাগানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা। দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টা ধরে এসব ক্যামেরায় ধারণ করা হচ্ছে শহরের চলমান চিত্র। আর জেলা পুলিশ অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমে বসেই পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে পুরো শহরটি। পর্যটন শহরটিকে অপরাধমুক্ত রাখতে কক্সবাজার জেলা পুলিশের এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগটি শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে দুপুরে সিসিটিভি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন শহরটিকে অপরাধমুক্ত করার স্বপ্ন বুনেছিলাম এখানে যোগদান করার পরই। সেই স্বপ্ন আজ পূরণ হলো।

পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজারে প্রতিনিয়ত দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসু লোকজন বেড়াতে আসেন। এ কারণে এ শহরেই নানা অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত লোকজনের তৎপরতাও থাকে বেশি। শহরের সাগর পাড় থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাল, হোটেল-মোটেল জোন এবং কেনাকাটার মার্কেটগুলোতে ওৎ পেতে থাকে ছিনতাইকারীর দল।

তিনি বলেন, মাত্র দু’বছর আগেও ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য দিবালোকে তাদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। অনুরূপ ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত হন বেশ ক’জন পর্যটকও। নিত্যদিনের এসব অপরাধজনক ঘটনা নিয়ন্ত্রণের জন্য জেলা পুলিশ উপায় খুঁজছিলেন।

পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবাল হোসেন আরো বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য সিসিটিভি ক্যামেরায় শহর নিয়ন্ত্রণের মতো এক ব্যয়বহুল উদ্যোগ তিনি অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই কাঁধে নেন। পরে তিনি শহরের নানা পেশার লোকজনের সাথে মতবিনিময় করা শুরু করেন। সবার নিকট সহযোগিতার আশ্বাস পেয়ে যান। শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসে জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাই কমিশনও (ইউএনএইচসিআর), কক্সবাজারের ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, কক্সবাজার পৌরসভা, হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে শুরু করে শহরের ব্যবসায়ীরাও। ইউএনএইচসিআর ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা কন্ট্রোল রুমের অত্যাধুনিক বিশাল পর্দ্দাটির (স্ক্রিন) ব্যবস্থা করে দেন।

সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪০টি পয়েন্টে ৬৭টি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাগর পাড়, বাস টার্মিনাল ও শহরের গেইটওয়ে হিসেবে পরিচিত কলাতলি বঙ্গবন্ধু চত্বর (ডলফিন পয়েন্ট)সহ আরো কয়েকটি স্থানে বসানো ক্যামেরাগুলো। এসব পয়েন্টগুলোর চব্বিশ ঘণ্টার চলমান ধারণ করা চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জেলা পুলিশ অফিসে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসেই। চব্বিশ ঘণ্টায় পালাক্রমে সিসিটিভি নিয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন এসব চিত্র পর্যবেক্ষণের কাজে। দিনে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থাকেন নারী পুলিশ সদস্যরা আর রাতে থাকেন পুরুষ সদস্যরা।

এদিকে শনিবার দুপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক এবং কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, রনজিত দাশ, ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের চৌধুরী, হোটেল মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar