Home / অন্যান্য / অপরাধ / পাঠাও’ চালক গ্রেফতার চিকিৎসক যাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা

পাঠাও’ চালক গ্রেফতার চিকিৎসক যাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা

এক নারী যাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হলো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস ‘পাঠাও’ এর এক চালক। ওই নারী যাত্রী পেশায় একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। তার অভিযোগ, গত ২৪ জুলাই ইপিজেড মোড় থেকে নতুন ব্রিজ এলাকায় যাওয়ার জন্য তিনি ওই চালকের গাড়িতে উঠেন। পাহাড়তলীর জেলে পাড়া এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ‘পাঠাও’ চালক। এ ঘটনায় তিনি পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা করেছেন। গতকাল রোববার ভোরে মিজানুর রহমান (৩৩) নামে ওই চালককে নগরীর বন্দর নিউমুরিং আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চালকের কাছ থেকে ওই নারী যাত্রীর ব্যাগ ও মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

গ্রেফতার মিজানুর কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি বেপারীবাড়ী এলাকার মো. ইদ্রিস আলীর ছেলে। তিনি বর্তমানে থাকেন বন্দর নিউমুরিং আবাসিক এলাকায়। গ্রেফতারের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

‘পাঠাও’ অ্যাপসের রিজিওনাল ম্যানেজার মো: ইসফাক চৌধুরী বলেন, ‘মিজানুর পাঠাও এর রেজিস্ট্রেশনভুক্ত একজন ক্যাপ্টেন (চালক)। আমরা সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু ইউজারের সাথে তার যোগাযোগটা হয়েছিল অফলাইনে। তখন সে পাঠাওয়ের হয়ে ডিউটিতে ছিল না। এ ঘটনার নিন্দা জানাই আমরাও। তাই পুলিশের পক্ষ থেকে যখন আমাদের সাথে যোগাযোগ করা হয় তখন অভিযুক্তের নাম ঠিকানা ফোন নম্বর আমরাই পুলিশকে দিয়েছি।’

পাহাড়তলী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম আজাদীকে বলেন, ঘটনার শিকার ২৫ বছর বয়সী ওই নারী যাত্রীর বাসা বন্দরটিলা এলাকায়। তিনি চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে ইন্টার্নশিপ করছেন। কয়েকদিন আগে ওই নারী চিকিৎসক মিজানুর রহমানের পাঠাও অ্যাপসের মাধ্যমে কার সার্ভিস নেন। সেদিন রাইড শেষে নেমে যাওয়ার সময় মিজানুর নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে ওই যাত্রীকে বলেন, তার (মিজানুরের) বাসা সেই যাত্রীর বাসার কাছেই। পরবর্তীতে রাইড নিলে তাকে নেওয়ার অনুরোধ করেন এবং অ্যাপসের বাইরেও ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অফার দেন মিজানুর।

ওসি আরো বলেন, গত ২৪ জুলাই আনুমানিক দেড়টায় ওই নারী চিকিৎসক নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে ইপিজেড মোড়ের মেট্রো কাউন্টারের সামনে আসেন। নতুন ব্রিজ এলাকায় যাওয়ার কোনো যানবাহন না পেয়ে পাঠাও অ্যাপসে কল করেন। কিন্তু অ্যাপসে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও কার পাননি তিনি। পরে মিজানুর রহমানকে কল করেন। মিজানুর রহমান এসে ওই যাত্রীকে তার কারে নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য রওনা দেন। কিন্তু নতুন ব্রিজে আসার পরিবর্তে যেতে থাকেন পাহাড়তলী থানাধীন টোল রোড দিয়ে। সে সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। যাত্রী এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে চালক বলেন, ‘আগ্রাবাদ পর্যন্ত বন্দরের জ্যাম, এটা সহজে শেষ হবে না। আমি ভাল মানুষ, টেনশন করবেন না।’ এরপর চালক গাড়িটিকে পাহাড়তলীর জেলেপাড়া নিরিবিলি পার্কের উত্তর পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে আসেন। প্রস্রাব করতে যাওয়ার কথা বলে গাড়ি থামান মিজানুর। ড্রাইভিং সিট থেকে নেমেই পেছনের সিটে ওই নারীর পাশে জোরপূর্বক বসে পড়েন। তার কাছে ছুরি আছে বলে ভয় দেখিয়ে ওই চিকিৎসক যাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই নারী প্রাণপণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গাড়ি থেকে বের হতে সক্ষম হন। সেই সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক মোটর সাইকেল আরোহী। তিনি চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যান মিজানুর। চিকিৎসকের মোবাইল ও ভ্যানিটি ব্যাগ তখন গাড়িতেই রয়ে যায়।

ওসি বলেন, ঘটনার দিন রাতেই পাহাড়তলী থানায় অভিযোগ করতে যান ওই নারী। তবে এক পর্যায়ে পুলিশকে স্রেফ মোবাইল ও ব্যাগ চুরির ঘটনা বললেও বিস্তারিত বলেননি তিনি। অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে মূল ঘটনা। এক পর্যায়ে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনটি ট্র্যাক করে নগরীর বন্দর নিউমুরিং আবাসিক এলাকা থেকে চালক মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে ওই নারীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগও উদ্ধার করা হয় বলেও জানান তিনি। ওই নারী বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৪ জুন শনিবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার ১২নং সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর বাসায় অভিযান চালিয়ে চার যুবককে গ্রেফতার করে র‌্যাব– ৩ এর একটি টিম। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার ইয়াবা, ৮টি মোবাইল ও একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়। এ চারজনের একজন রানা আহম্মেদ ওরফে রাজু (২৫) ‘পাঠাও’ এর ক্যাপ্টেন (চালক)। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব–৩ অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল এমরানুল হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় ঢাকার মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবার চালান আনতে কঙবাজার যেতে চায় না। মাদক ব্যবসায়ী ও ক্যারিয়ারদের চলাচলও সীমিত হয়েছে। সমপ্রতি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী কঙবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবার একটি চালান এনে ঢাকার উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটে মজুত করেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। রানা আহম্মেদ রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের একজন রাইডার। তিনি ইয়াবা মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar