Home / অন্যান্য / অপরাধ / প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দল না দেখে সন্ত্রাস, মাদক দমন করার

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দল না দেখে সন্ত্রাস, মাদক দমন করার

 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে কোন দল করে তা না দেখে কঠোর হস্তে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে ডিসিদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে কেউ বাধা দিলে সরাসরি তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৬৪ জেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেন সরকার প্রধান। পরে সচিবালয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সারা দেশের সব জেলা থেকে আসা ডিসিরা ছাড়াও মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে দিকনির্শেনামূলক বক্তব্য দেন। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস নির্মূলসহ ২৩ দফা নির্দেশনা দেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি–রপ্তানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা নিতে হবে জেলা প্রশাসকদের। এ ক্ষেত্রে আমি বলতে চাই, বিনা দ্বিধায় আপনারা এই টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি, সন্ত্রাস, মাদক এগুলো নির্মূল করবেন। এখানে কে কোন দল করে, কে কি করে, ওগুলো দেখার কোনো দরকার নেই। যদি কেউ বাধা দেয়, আমি এটুকু বলতে পারি, আমি সরকার প্রধান হতে পারি, কিন্তু আমি জাতির পিতার কন্যা, আপনারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। আমার অফিসে যোগাযোগ করতে পারবেন। বাধা এলে আমরা দেখব।

মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান যেটা চলমান, অব্যাহত থাকবে। সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে বলেন তিনি। আর জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সামপ্রদায়িকতা দূর করে সর্বক্ষেত্রে শান্তি–শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসকদের তিনি আরো নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলেন।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে উদ্যোগী হওয়ার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে বলেন সরকার প্রধান।

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ২৩টি দিকনির্দেশনার মধ্যে রয়েছে : ১. সরকারি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। ২. যুব সমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযান চলবে। ৩. জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সামপ্রদায়িকতা দূর করে সবক্ষেত্রে শান্তি–শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ডিসিদের আরো নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৪. গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে উদ্যোগী হতে হবে। ৫. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব দিতে হবে। ৬. তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে কাজ করতে হবে। ৭. শিক্ষার সব স্তরে নারী শিক্ষার হার বাড়ানো, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। ৮. ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ৯. কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। ১০. ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাত প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কঠোর হাতে দমন করতে হবে। ১১. দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। ১২. পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে এবং এই বিষয়ে আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। ১৩. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় প্রশমনে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২’ এবং এ সংক্রান্ত স্থায়ী নির্দেশনাবলি অনুসারে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ১৪. সাধারণ মানুষকে সহজে সুবিচার দেওয়া ও আদালতে মামলার জট কমাতে গ্রাম আদালতগুলোকে কার্যকর করতে হবে। ১৫. জেলা প্রশাসকরা জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব কমিটিকে সক্রিয়, গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে হবে। ১৬. দফতরগুলোতে বিদ্যমান সেবাগুলো তৃণমূলে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্যমেলা, সেবা সপ্তাহ পালনসহ ইত্যাদি কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ১৭. শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি–রফতানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ১৮. বাজার ব্যবস্থার সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করতে হবে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনোও অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। ১৯. নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে নজরদারি বাড়াতে হবে। ২০. নারীর প্রতি সহিংসতা, নিপীড়ন ও বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ২১. নিজ নিজ জেলায় ক্রীড়া, বিনোদন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশু–কিশোরদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংস্কৃতিবোধ ও বিজ্ঞানমনস্কতা জাগিয়ে তুলতে হবে। ২২. প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২৩. পার্বত্য জেলাগুলোর ভূ–প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী–জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar