Home / অন্যান্য / অপরাধ / প্রশিক্ষিত সদস্যরা বিভিন্ন স্পটে সক্রিয়

প্রশিক্ষিত সদস্যরা বিভিন্ন স্পটে সক্রিয়

পশুর হাটের দিকে দৃষ্টি তাদের । পশুর হাটে আসা যাওয়ার পথ আগে ভাগেই রেকি করা আছে তাদের; কোন পথ বেশি নির্জন, কোন পথে পালানোর সুবিধা বেশি – বেদীরা ( সোর্স) আগে ভাগেই জানিয়ে দেয় তাদের। এসব তথ্য জানা আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও। তাই পবিত্র ঈদ–উল–আযহায় অজ্ঞান ও মলম পার্টির বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সর্বশেষ গতকাল মলম পার্টির তিন সদস্য ধরা পড়েছে সদরঘাট থানা পুলিশের হাতে; জানিয়েছে তাদের নানা কৌশল ও ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে নগরীর ১৬ থানার ওসির প্রতি ইতোমধ্যেই সিএমপি কমিশনার মো: মাহবুবর রহমানের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন  জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে সদরঘাট থানার বাংলাবাজার আজিজ কলোনির সামনে থেকে মলমপার্টির তিন সদস্য মোহাম্মদ মানিক (২২), মোহাম্মদ রাজিবুল ইসলাম রাজিব (২০) ও মোহাম্মদ আব্দুল বাতেনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া গেছে অজ্ঞান করার মলম। এ সময় অভিযান চালিয়ে ৩টি ছুরি ও মলম উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি কুমিল্লা, মৌলভবাজার ও কিশোরগঞ্জ বলে জানা গেছে।

সিএমপি সূত্র জানায়, প্রতি বছরই ঈদ মৌসুম সামনে রেখে চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই তৎপর হয়ে উঠে অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা। এবারের পবিত্র ঈদ–উল–আযহা ঘিরে তাদের প্রধান টার্গেট এখন পশুর হাট। এছাড়া বাস স্ট্যান্ড, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্পটে এদের প্রশিক্ষিত সদস্যরা সক্রিয়। সদরঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন আজাদীকে বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়েছে এ মলম পার্টির সদস্যরা। বিভিন্ন পশুর হাটে আসা ক্রেতা–বিক্রেতাদের টার্গেট করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয় তারা। গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান রুহুল আমিন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যরা সংঘবদ্ধ। এসব চক্রের সদস্যরা তাদের অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে কয়েকটি পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। তারা কখনও যাত্রী, কখনও হকার আবার কখনও সাধারণ ক্রেতা–বিক্রেতার বেশে মিশনে অংশ নেয়। কখনও কখনও তারা চেতনানাশক পাউডারমিশ্রিত রুমাল ঝেড়ে শ্বাস–নিশ্বাসের মাধ্যমেও যাত্রীকে অচেতন করে। মাঝেমধ্যে তারা অচেতন যাত্রীকে নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দেয়। হাসপাতালে নেয়ার নাম করে গাড়ি আনার কথা বলে দ্রুত পালিয়ে যায়। আবার এদের দলে নারী সদস্যও থাকে। এরা দীর্ঘসময় ধরে টার্গেটকে অনুসরণ করে দলের বাকি সদস্যদের কাছে খবর পৌঁছায়। তারপর নির্জন স্থানে সুযোগ বুঝে চোখে ঝাঁঝালো মলম লাগিয়ে সবকিছু কেড়ে নিয়ে চম্পট দেয়। এদের খাওয়ানো নেশা জাতীয় দ্রব্যের বিষক্রিয়ায় প্রাণ হারানোর ঘটনাও ঘটেছে বিগত বছরগুলোতে। অজ্ঞান হয়ে গুরুতর আহত অনেকেই দীর্ঘ দিন চিকিৎসা নেয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ হচ্ছেন না। নানা কৌশলে যানবাহনের ভিতরেই চোখ–মুখে বিষাক্ত মলম লাগানোর কারণে অনেকেই স্থায়ীভাবে অন্ধ হযে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সদরঘাট থানায় গ্রেপ্তারকৃত মলম পার্টির তিন সদস্য পুলিশকে জানায়, তারা কিছু সাংকেতিক শব্দ ব্যবহার করে থাকে। যেমন সহযোগীদের যদি বলা হয় যে, ‘বইটা নিয়ে আসিস’, তবে বুঝতে হবে আগ্নেয়াস্ত্রের কথা বলা হচ্ছে। একইভাবে ধারালো অস্ত্রের সাংকেতিক শব্দ খাতা, সোর্সের সাংকেতিক নাম বেদী, টার্গেট করা ব্যক্তির সাংকেতিক নাম গরু। এছাড়া দলের কেউ যখন পুলিশে ধরা পড়ে, তখন বলা হয়, সে বাজারে গেছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টির খপ্পরে পড়া বেশিরভাগ ঘটনায় ভুক্তভোগী বা তার স্বজনরা মামলাতো দূরে থাক, অনেক সময় পুলিশকে তথ্যগত সহযোগিতাও করতে চান না। ফলে এসব ঘটনায় সাধারণত ৩২৮ ও ৪২০ ধারায় মামলা করে পুলিশ। ৩২৮ ধারার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড; কিন্তু বিভিন্ন কারণে এ ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না। তাই আইনের ফাঁক গলে তারা স্বল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে বেরিয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে সমূলে উৎপাটন করা যাচ্ছে না অজ্ঞান পার্টি কিংবা মলম পার্টির এ চক্রের সদস্যদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar