Home / আর্ন্তজাতিক / প্রিয়াংকা রাজীব গান্ধীর ঘরেই বসবেন

প্রিয়াংকা রাজীব গান্ধীর ঘরেই বসবেন

রাজীব গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর মেয়ে প্রিয়াংকা গান্ধী ভঢড়া। ব্যক্তিগত সফর শেষে সোমবার তিনি ফিরেই ম্যারাথন বৈঠক করেছেন তার ভাই ও কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক ঘটার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে ফিরেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদে এখনও দায়িত্বভার না নিলেও অপেক্ষা করার সময় তাঁর নেই। সোমবারই তুঘলক লেনে রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বৈঠক করেন তিনি রাহুলের সঙ্গে।  সূত্রের খবর, আগাম রণকৌশল ঠিক করতে সোমবারই রাহুল, জ্যোতিরাদিত্য এবং উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা রাজ বব্বরের সঙ্গে একটি বৈঠক সেরে ফেলেছেন প্রিয়াংকা। উত্তর প্রদেশের বেশ কয়েক জন কংগ্রেস নেতাকে ফোন করেও সেখানে দলের হালহকিকত নিয়ে খোঁজখবর নেন প্রিয়াংকা। তিনি যে তাঁর দায়িত্ব সম্পর্কে বেশ সিরিয়াস সেটা দেশের মাটিতে পা দিযেই বুঝিয়ে দিযেছেন। পূর্ব-উত্তর প্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রিয়াংকার কাঁধে। এদিকে নয়াদিল্লিতে ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেসের সদর দপ্তরে প্রিয়াংকার আগমনের জন্য জোর প্রস্তুতি শুরু হযেছে।

প্রিয়াংকা কোন ঘরে বসবেন সেটাও ঠিক করা হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর পাশের ঘরটিই বরাদ্দ করা হয়েছে নতুন সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াংকার জন্য। মঙ্গলবার সকালেই সেই ঘরে কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রিয়াংকার নাম লেখা নেমপ্লেট বসানো হয়েছে। ভাই-বোন বসবেন পাশাপাশি ঘরেই। এখন প্রিয়াংকার জন্য যে ঘরটি বরাদ্দ করা হয়েছে, কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার আগে এখানেই বসতেন রাহুল নিজে। সেই ঘরটির আরও বৈশিষ্ট্য হল, এই ঘরে বসতেন রাজীব গান্ধীও। কংগ্রেসের সদর দপ্তরের মূল ভবনে প্রবেশ করলে প্রথমেই দুটো ঘর পড়ে। ডান দিকের ঘরে বসেন গুলাম নবি আজাদ, আর বাঁদিকের ঘর বরাদ্দ অম্বিকা সোনির জন্য। নাক বরাবর সোজা গেলেই বসেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সভাপতির এই ঘরের ঠিক ডানদিকের ঘরেই বসতে চলেছেন প্রিয়াংকা। কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী সাত তারিখ বা তারপরে এই ঘরে পা রাখতে চলেছেন তিনি। এদিকে  দলের প্রচার কৌশল ঠিক করতে শনিবার বৈঠকে বসছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন প্রিয়াংকাও। পূর্ব উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের লড়াই যে কঠিন সেটা প্রিয়াংকা ভালই জানেন। এই পূর্ব অংশেই নরেন্দ্র মোদীর কেন্দ্র বারানসি এবং যোগী আদিত্যনাথের কেন্দ্র গোরক্ষপুর। তবে পুর্ব অংশেই নেহরু-গান্ধী পরিবারের খাস তালুক আমেথি ও রায়বেরিলি। এই দুই কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরে মা ও ভাইয়ের জন্য নির্বাচনী প্রচারে প্রিয়াংকা বিশেষ ভূমিকা নিয়ে কাজ করেছেন। নির্বাচনের পরেও এই দুই কেন্দ্রে নানা সামাজিক কর্মসূচির সঙ্গে তিনি যুক্ত থেকেছেন। ফলে পুর্ব অংশে প্রিয়াংকার পরিচিতি রয়েছে। তাছাড়া ঠাকুমার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য উত্তরপ্রদেশের মানুষের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করেছে। তবে প্রিয়াংকা কঠিন লড়াই জেনেও সর্বশক্তি দিয়ে নামছেন বলেই মনে করছেন কংগ্রেস নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar