Home / ঢাকা / ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার শুরু হয়েছে আবরার

ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার শুরু হয়েছে আবরার

রাস্তা পারাপার অবশেষে নিরাপদ হলো যমুনা ফিউচার পার্ক বা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সামনের সড়কে । আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হলেও সেখানে তৈরি করা ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপার শুরু হয়েছে। যদিও এখনো রং করাসহ স্থাপনাটির কিছু কাজ বাকি আছে।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ সকালে এই এলাকা দিয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় বাস চাপায় নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। এই ঘটনার পর ২০১৮ সালের আগস্টের মতোই দ্বিতীয়বারের মতো ‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে’ রাস্তায় নেমে আসে শিক্ষার্থীরা। সে সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ওই এলাকায় একটি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের ঘোষণা দেন। আর নিহত আবরারের নামে এই স্থাপনাটি হবে বলেও জানান তিনি।

ফুটওভারব্রিজটি নির্মাণে নগরীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় সময় লেগেছে কম। পাঁচ মাসের কিছু বেশি সময়ে পুরো কাজটি শেষ হয়েছে। অবশ্য এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি। আর এখনো সেখানে রাস্তার ওপর দিয়ে পারাপারের সুযোগ রয়ে গেছে। সড়ক বিভাজকে এখনো উঁচু বেড়া স্থাপন করা হয়নি।

গতকাল দুপুরের দিকে ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন শিক্ষার্থী নিশা।  তিনি নিশা বলেন, ‘তিন চারটা বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থী প্রতিদিন রাস্তা পার হয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ক্যাম্পাসে আসে। এখানকার বাসিন্দা আর বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লোকরা তো আছেই। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হতাম। এখন সেই ঝঁকিটা নেই।’

বসুন্ধরা গেটের বিপরীতে ব্যবসা করেন আবুল বাসার। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষের কি যে গেঞ্জাম লাইগা থাকতো, মাগো মা। কত মানুষ যে এই রাস্তায় একসিডেন্ট করছে তার শেষ নাই। আল্লার রহমতে এইডা হওয়ার পর আর সমস্যা নাই। আর রাস্তা পার হওয়ার মতো পথ নাই। এইডা চালু হওয়ায় খুব ভালো অইছে।’

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসনের শিক্ষার্থী তাহজিব জামান বলেন, ‘এই ফুটওভার ব্রিজ আরো ১০ বছর আগে হওয়া প্রয়োজন ছিল। আমার ধারণা আবরার এর মৃত্যুর খবরটা সবাই জানে। আমার ধারণা এই রাস্তা পার হতে গিয়ে গত ১০ বছরে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের সবার খবর সেভাবে গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি। কিন্তু প্রতিটা মানুষইতো গুরুত্বপূর্ণ। কিছু মানুষ মরবে তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এটা কোনে সিস্টেম হলো বলেন।’

এই স্থাপনাটি নিরাপদে রাস্তা পারাপার ছাড়াও সড়কে চলার গতি বাড়াবে। প্রগতি স্মরণীর এই অংশে কোনো মোড় বা ক্রসিং না থাকলেও এই এলাকায় যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো মানুষ পারাপারের কারণে। প্রায়ই দেখা যায়, সামনের পুরোটা সড়ক ফাঁকা। অথচ পেছনে দীর্ঘ যানজট লেকে গেছে। পুলিশের পক্ষেও কিছু করা সম্ভব হতো না। তবে এখন আর এই সমস্যা তেমন থাকবে না।

যমুনার ফিউচার পার্কের সামনের দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই রাস্তায় এত মানুষ যাতায়াত করে, ফলে আমাদের পক্ষেও তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ কার সম্ভব হয়ে উঠতো না। তবে ফুটওভারব্রিজিটি চালু হওয়ায় আমাদের কাজ অনেকটাই সহজ হয় গেছে। এখন সাধারণত মানুষ আর ঝঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয় না। আর এখন গাড়িগুলোও নির্বিঘ্নে চলতে পারবে।’

চলতি বছরে ১৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যলয়ে যাওয়ার পথে বসুন্ধরা গেটের এই সড়কে ঘাতক সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বাসের চাপায় প্রাণ হারান আবরার আহমেদ চৌধুরী। প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে রাখে ছাত্ররা। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

সে সময় ঢাকা উত্তরের মেয়র এই সড়কে ফুটওভার ব্রিজ করার ঘোষণা দিলে দুই দিন পরই শুরু হয় নির্মাণ কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

%d bloggers like this:
Skip to toolbar