Home / খবর / বন্যা আসছে সামনে তাদেরও তো নৌকায় চড়তে হবে

বন্যা আসছে সামনে তাদেরও তো নৌকায় চড়তে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্ন তুলে বলেছেন ‘নৌকা ঠেকাও’ যারা বলে তাঁদের লক্ষ্য করে , নৌকা কেন ঠেকাতে হবে? নৌকার অপরাধ কী? সামনে তো বন্যা আসার সময় হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি বা ভাদ্র মাসে গিয়ে পানি আসতে পারে। তারা কী নৌকায় চড়বে না? তাদেরও তো নৌকায় চড়তে হবে।

অন্তত রাজনৈতিক নেতা যারা তারা ত্রান বিতরণ করতে গেলেও নৌকাতেই যেতে হবে।

গতকাল শনিবার (২১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণ, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড অর্জন ও ভারতের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি–লিট ডিগ্রি প্রাপ্তিতে প্রধানমন্ত্রীকে এই গণ সংবর্ধনা দেয় তাঁর দল আওয়ামী লীগ। খবর বিডিনিউজের।

বিকালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার উদ্দেশে একটি অভিনন্দনপত্র পড়ে শোনান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। এর আগে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় কণ্ঠশিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজের গান এবং নৃত্যশিল্পী সাদিয়া ইসলাম মৌ’র নির্দেশনায় নৃত্যনাট্যেও ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশস্তি। এরপর বক্তৃতা দিতে দাঁড়িয়ে শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মণিহার আমায় নাহি সাজে..।’

তিনি বলেন, আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। জনগণ কতটুকু পেল, সেটাই আমার কাছে সব থেকে বিবেচ্য বিষয়। এর বাইরে আমার আর কোনো চাওয়া–পাওয়া নেই। বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিজের পথচলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, বাংলার মানুষ যেন অন্ন পায়, বস্ত্র পায়, বাসস্থান পায়, শিক্ষা পায়, উন্নত জীবন পায়– জাতির পিতার সেই স্বপ্ন পূরণ করাই আমার লক্ষ্য। এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার জনগণকে, বাংলার মানুষকে, বলেন শেখ হাসিনা। আমার সৌভাগ্য জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসাবে জন্ম নিতে পেরেছি। অন্তত আমি জানি, বেহেশত থেকে তিনি দেখবেন তার দেশের মানুষ ভালো আছে। তাদের জীবনে পরিবর্তন এসেছে। শেখ হাসিনা তার এক ঘণ্টার বক্তৃতার শুরুর দিকে মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা তুলে ধরেন। নিজের জীবনের ওপর বারবার হামলার কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, মৃত্যু যখন আসার, তা আসবেই। কিন্তু মৃত্যুর আগে আমি মরতে চাই না।

আজকে জনগণের ভোটাধিকার জনগণের হাতে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর প্রায় ছয় হাজারের ওপর নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে তাদের মনমতো প্রার্থী জয়যুক্ত করেছে। সেখানে গণতন্ত্র যদি না থাকবে, তাহলে মানুষ ওইভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করণ কীভাবে? ২০১৫ সালে কেউ কেউ চেয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত করবে। জনগণ আমাদের সাথে ছিল। জনগণই তাদের বাধা দিয়েছে। আমাদের উৎখাত করতে পারেনি। কিন্তু নিজেরা আবার ঘরে ফিরে গেছে। এই দেশ আমরা স্বাধীন করেছি। আওয়ামী লীগ জাতির পিতার হাতে গড়া সংগঠন। আর আওয়ামী লীগ সরকারে আসলেই জনগণ কিছু পায়। তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়। তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকে। ১৯৭৫ থেকে ৯৬ মানুষ দেখেছে, ওই ২১ বছর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। আবার ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্তও এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়েই ছিনিমিনিই খেলা হয়েছে বলে যোগ করেন শেখ হাসিনা। আজকের বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসন পেয়েছে। আজকের বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের সেই লক্ষ্য আছে। আগামী দিনের দেশের উন্নয়নে পদক্ষেপগুলোর কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই রাজধানী ঢাকার সাথে অর্থ্যৎ ঢাকা–চট্টগ্রাম, ঢাকা–সিলেট, ঢাকা দিনাজপুর–ঢাকা–বরিশাল, পায়রাবন্দরসহ আমরা সেখানে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করব। আমাদের বিমান বহর ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। ইতোমধ্যে আমরা নতুন বিমান কিনেছি। আরও সাতখানা বিমান আমরা ক্রয় করবো যা আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমরা আরও উন্নত করব। একটি দেশকে আমরা কীভাবে উন্নত করব আমাদের সেই পরিকল্পনা রয়েছে। সেই চিন্তা করেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং দেশকে উন্নত করতে চাই।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই তার জীবনের মূল লক্ষ্য। ‘আমি শুধু পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাই। এছাড়া আমার প্রতিটি মুহুর্ত দেশের মানুষের জন্য, জনগণের জন্য কাজ করি। কোনো উৎসবে যাই না। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমাদের চাওয়া–পাওয়ার কিছু নেই। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে অনেক সাফল্য অর্জন করেছি। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মাদকের প্রভাব থেকে যুব সমাজকে মুক্ত করতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বিকালে এই অনুষ্ঠান হলেও এতে যোগ দিতে দুপুর থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে জড়ো হতে থাকেন ক্ষমতাসীন দলটির নেতা–কর্মী ও সমর্থকরা। বেলা সাড়ে ৩টার সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এসময় স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান নেতা–কর্মী–সমর্থকরা। রং–বেরংয়ের টুপি ও টি–শার্ট পরে এই সমাবেশে অংশ নেন আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীরা। ঢাক–ঢোল বাজিয়ে মিছিল নিয়ে আসেন অনেকে। ইংরেজি বর্ণ ‘এল’ আকৃতির বিশাল মঞ্চের সামনে ২০ হাজার চেয়ার বসানো হয়। তবে তাতে স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় অনেকেই বসেন বাইরে। মৎস্য ভবন থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের রমনার ভিআইপি গেইট পর্যন্ত ৪০টি তোরণ তৈরি করা হয় এই অনুষ্ঠান ঘিরে। তোরণগুলো ছিল প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও উন্নয়নের ছবি দিয়ে সাজানো। এছাড়া উদ্যানের মঞ্চের সামনের দিকে পশ্চিমপাশে করা হয় চিত্র প্রদর্শনী। যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জনসহ শেখ হাসিনার অসংখ্য ছবি আঁকা ছিল।

x

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar