Home / খেলা / বাংলাদেশ বড় হারে ধবলধোলাই হলো
Bangladesh cricketer Sabbir Rahman drops a catch during the 3rd One Day International (ODI) cricket match between Sri Lanka and Bangladesh at R Premadasa International cricket stadium, Colombo, Sri Lanka. Sunday 28 July 2019. (Photo by Tharaka Basnayaka/NurPhoto via Getty Images)

বাংলাদেশ বড় হারে ধবলধোলাই হলো

বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ব্যর্থতার হতাশা ভুলতে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়েছিল । কিন্তু হতাশা ভোলার বদলে উল্টা ধবলধোলাই হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে তামিম-মুশফিকদের। বুধবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১২২ রানে। এর আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে ও দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।

এই হারের মাধ্যমে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। অন্যদিকে, টানা পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। গত বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচ হারের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচে হারল টাইগাররা।

বুধবার কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শ্রীলঙ্কার দেয়া ২৯৫ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৩৬ ওভারে ১৭২ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয় বাংলাদেশ। দলের পক্ষে চারজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে রান করেন। সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন সৌম্য সরকার। ২৮ বলে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে দাসুন শানাকা ৩টি, লাহিরু কুমারা ২টি, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ১টি, আকিলা ধনঞ্জয়া ১টি ও কাসুন রাজিথা ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

গত দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যাটিংয়ে নেমে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। দলীয় ১০০ রানের মধ্যে পড়ে যায় পাঁচটি উইকেট। দলীয় ৪ রানে রাজিথার বলে উইকেটরক্ষক কুশল পেরেরার হাতে ক্যাচ হন তামিম। ৬ বলে ২ রান করেন তিনি। এর আগের দুই ম্যাচে তামিমের স্কোর ছিল যথাক্রমে ০ ও ১৯ রান।

দলীয় ২৯ রানে রাজিথার বলে ফার্নান্দোর হাতে ধরা পড়েন অপর ওপেনার এনামুল হক বিজয়। ২৪ বলে ১৪ রান করেন তিনি। দলীয় ৪৬ রানে শানাকার বলে স্লিপে মেন্ডিসের হাতে ক্যাচ হন গত দুই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহিম। ১৫ বলে ১০ রান করেন তিনি।

দলীয় ৬০ রানে ফিরে যান মিথুন। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যর্থ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১২ বলে ৯ রান করে ফিরে যান তিনি। দলীয় ৮৩ রানে ফিরেন রিয়াদ। দলীয় ১০৫ রানে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির রহমান। এর পরপরই ফিরে যান মিরাজ।

অন্য সবাই আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলেও এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন সৌম্য। ৬৯ রান করে ৩২তম ওভারে ধনঞ্জয়ার বলে বোল্ড হন তিনি। এরপর ৩৪তম ওভারে শফিউল ও ৩৬তম ওভারে রুবেল আউট হন।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে উইকেটে রান সংগ্রহ করে শ্রীলঙ্কা। স্বাগতিকদের পক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও কুশল মেন্ডিস। ম্যাথুজ করেন ৮৭ রান। ৫৪ রান করেন মেন্ডিস। ৪৬ রান করেন দিমুথ করুণারত্নে। ৪২ রান করেন কুশল পেরেরা। ১৪ বলে ৩০ রান করেন দাসুন শানাকা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শফিউল ইসলাম ৩টি, তাইজুল ইসলাম ১টি, রুবেল হোসেন ১টি ও সৌম্য সরকার ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১২২ রানে জয়ী শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কা ইনিংস: ২৯৪/৮ (৫০ ওভার)

(ফার্নান্দো ৬, করুণারত্নে ৪৬, কুশল পেরেরা ৪২, কুশল মেন্ডিস ৫৪, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ৮৭, দাসুন শানাকা ৩০, শিহান জয়াসুরিয়া ১৩, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ১২*, আকিলা ধনঞ্জয়া ০, কাসুন রাজিথা ০*; শফিউল ৩/৬৮, রুবেল ১/৫৫, তাইজুল ১/৩৪, মিরাজ ০/৫৯, সৌম্য ৩/৫৬, মাহমুদউল্লাহ ০/২২)।

বাংলাদেশ ইনিংস:  ১৭২ (৩৬ ওভার)

(বিজয় ১৪, তামিম ২, সৌম্য ৬৯, মুশফিক ১০, মিথুন ৪, রিয়াদ ৯, সাব্বির ৭, মিরাজ ৮, তাইজুল ৩৯*, শফিউল ইসলাম ১, রুবেল হোসেন ২; শিহান জয়াসুরিয়া ০/৪০, কাসুন রাজিথা ২/১৭, আকিলা ধনঞ্জয়া ১/৪৪, দাসুন শানাকা ৩/২৭, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ১/১৬, লাহিরু কুমারা ২/২৬)।

ম্যাচ সেরা: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (শ্রীলঙ্কা)।

সিরিজ সেরা: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (শ্রীলঙ্কা)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar