Home / আর্ন্তজাতিক / বিতর্কিত ফুটবল তারকারা বিশ্বকাপের

বিতর্কিত ফুটবল তারকারা বিশ্বকাপের

ফুটবলারা প্রতিটি বিশ্বকাপেই অনেক উদ্ভট কাণ্ডের জন্ম দেয় । প্রতিপক্ষকে ফাউলের শিকার হয়ে অনেককেই আবার ম্যাচ চলাকালীন মাঠ ছাড়তে হয়। আবার কিছুকিছু ঘটনা কোন কোন ফুটবলারদের ক্যারিয়ারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। আবার না সমালোচানার মুখেও পড়তে হয় তাদের। বিগত বিশ্বকাপ গুলোতে ঘটে যাওয়া এমনই কিছু বিতর্কিত ফুটবল তারকাদের কান্ড দেখে নেওয়া যাক।

জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স)

২০০৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত ইটালির মার্কো মাতেরাজ্জিকে জিদানের মাথার গুঁতো মারার বিষয়টি৷ প্রাথমিক ধারণা ছিল, মাতেরাজ্জির কোনো একটি কথায় ক্ষেপে গিয়ে ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে এ কাণ্ড ঘটিয়েছেন জিদান৷ তবে মাতেরাজ্জি তখন ঠিক কী বলেছেন, তদন্তে তা আর প্রমাণ করা যায়নি৷ সেই বিশ্বকাপ ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচ টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে জিতে নেয় ইটালি৷

ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান (পশ্চিম জার্মানি)

ঝাঁপিয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় বেশ নামডাক ছিল ক্লিন্সমানের৷ কিন্তু ক্যারিয়ারে তাঁর সবচেয়ে সমালোচিত ডাইভ ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে৷ আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ফাইনাল ম্যাচের ৬৫ মিনিটে পেদ্রো মোনসনের ট্যাকলে উড়ে মাটিতে পড়েন ক্লিনসমান।যার কারণে লাল কার্ড দেখতে হয় মোনসনকে৷ কিন্তু পরে দেখা যায়, ইচ্ছে করেই লাফ দিয়েছেন এই জার্মান খেলোয়াড়৷এতে মোনসনের কোন দোষ ছিল না।তবুও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তার।

লুইস সুয়ারেজ (উরুগুয়ে)

প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কামড়ানো লুইস সুয়ারেজের পুরনো অভ্যাস৷ ২০১৪ সালে ইটালির সাথে ম্যাচে হঠাৎ করেই ডিফেন্ডার জর্জিও চিলিনিকে কামড় দিয়ে বসেন সুয়ারেজ৷ অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় পরে চার মাসের জন্য ফুটবল সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রমে তাঁকে নিষিদ্ধ করে ফিফা৷ পাশাপাশি তাকে ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধও করা হয়৷ তাছাড়া এমন ঘটনার জন্য বিশ্ব ফুটবল প্রেমীদের কাছে বেশ বাজে ভাবে সমালোচিত হন তিনি।

রয় কিন (আয়ারল্যান্ড)

বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে আইরিশ দল জাপানের সাইপানে প্রশিক্ষণে ব্যস্ত৷  যন্ত্রপাতি এবং খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ম্যানেজার মিক ম্যাকার্থির সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়েন রয় কিন৷ ফলশ্রুতিতে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কিনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়৷সেই বিশ্বকাপে আর খেলা হলো না কিনের। শেষ ষোল’র লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় আয়ারল্যান্ডকে৷

ডেভিড বেকহাম (ইংল্যান্ড)

১৯৯৮ সালে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনার ম্যাচ৷ দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রতিপক্ষের অধিনায়ক দিয়েগো সিমিওনিকে লাথি মেরে লাল কার্ড দেখেন ডেভিড বেকহাম৷ ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারে ইংল্যান্ড৷ দেশে ফেরার পর সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় এই ইংলিশ তারকাকে৷

স্লাভেন বিলিচ (ক্রোয়েশিয়া)

১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপ৷ সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে এগিয়ে আছে স্বাগতিক ফ্রান্স৷ লরেন ব্লঁ-এর সাথে ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে হঠাৎ করেই মাথা চেপে ধরে মাটিতে পড়ে যান বিলিচ৷ এ ঘটনায় ক্যারিয়ারে প্রথমবার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্লঁকে৷ ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, বিলিচকে বলতে গেলে স্পর্শই করেননি ব্লঁ৷ ফাইনালে ব্লঁ খেলতে না পারলেও সে বছর ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ঠিকই কাপ জেতে ফ্রান্স৷

নিজেল ডি জং (নেদারল্যান্ডস)

২০১০ সালে স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল নাম পেয়েছিল ‘ব্যাটল অব জোহানেসবার্গ’৷ জাবি আলনসোকে ফ্লাইং কিক দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন ডি জং৷ ম্যাচে নেদারল্যান্ডকে দেখতে হয় ৯টি হলুদ কার্ড৷ দুটি হলুদ কার্ড পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে মাঠ ছাড়েন জন হাইটিঙ্গা৷

সেই যুদ্ধে ছাড় দেয়নি স্পেনও, পেয়েছে ৫টি হলুদ কার্ড৷ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার শেষ মুহূর্তের গোলে ‘যুদ্ধে’ জয়ী হয় স্প্যানিশরাই

খালিদ বুলারোজ (নেদারল্যান্ডস)

২০০৬ বিশ্বকাপের রাউন্ড অব সিক্সটিন৷ পর্তুগালের সাথে নেদারল্যান্ডসের ম্যাচটি পরিচিতি পায় ‘ন্যুরেমবার্গ যুদ্ধ’ হিসেবে৷ চারটি লাল কার্ড এবং ১৬টি হলুদ কার্ড বিশ্বকাপে এখনও ইতিহাস হয়ে রয়েছে৷ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বাজেভাবে ট্যাকল করায় খেলার প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখেন বুলারোজ৷ যার কারণে মাঠ ছাড়তে হয় রোনালদোকে৷ দ্বিতীয়ার্ধে আবার হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বুলারোজও৷ শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে হারতে হয় নেদারল্যান্ডকে।

টনি শুমাখার (পশ্চিম জার্মানি)

১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপ৷ ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমি ফাইনাল ম্যাচে এমন আগ্রাসী ট্যাকল করেন শুমাখার, তার কোমড়ে বাড়ি খেয়ে প্রতিপক্ষের স্ট্রাইকার বাতিস্তঁর দুটি দাঁত এবং পাঁজরের তিনটি হাড় ভেঙে যায়৷ মাঠেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন বাতিস্তঁ৷ শুমাখার অবশ্য বরাবরই বলে গিয়েছেন, তার লক্ষ্য ছিল শুধুই বল৷ ম্যাচটি ৩-৩ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে জিতে নেয় পশ্চিম জার্মানি। সূত্র-ডয়চেভেলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar