Home / খবর / বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সরকারের ধারাবাহিকতা চান

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ সরকারের ধারাবাহিকতা চান

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জাতীয় পার্টির নেতা তাজুল ইসলাম উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের ধারাবাহিকতা জরুরি বলে মনে করেন। আর এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় জাতীয় পার্টি সরকারের সঙ্গে আছে বলেও জানান তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর শনিবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা জানান জাতীয় পার্টির কুড়িগ্রামের সংসদ সদস্য।অ

তাজুল তার বক্তব্যে বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে নানা পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নের প্রশংসা করেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থাকাকালেও দেশে উন্নয়ন হয়েছে, এই বিষয়টি স্বীকার করে নিতে আওয়ামী লীগের প্রতি অনুরোধ রাখেন তিনি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি-জামায়াত জোট বর্জনের পর জাতীয় পার্টির একাংশ ভোটে যায়। আর এই সুযোগে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হয়েছে তারা।

তবে বিরোধী দলে থাকলেও সরকারের অংশীদার জাতীয় পার্টি। আর সরকারে থেকে বিরোধী দল হওয়ার বিষয় নিয়ে গত সাড়ে চার বছর ধরেই সমালোচনা আছে। সংসদে জাতীয় পার্টি ‘প্রকৃত বিরোধী দলের’ ভূমিকা পালন করতে পারছে না স্বীকার করেছেন খোদ বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

তাজুল বলেন, ‘অবশ্যই উন্নয়ন করেছে বর্তমান সরকার। আপনারা বড় বড় প্রজেক্ট নিয়েছেন, কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছেন, কর্ণফুলী টানেল করেছেন, ফ্লাইওভার করেছেন। এইগুলো আমরা স্বীকার করি।’

‘এটা সম্ভব হয়েছে সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে। সরকারের যদি ধারাবাহিকতা ঠিক না থাকত কখনও উন্নয়ন হয় না। পাঁচ বছরে কোনো দেশ তার প্রকল্প শেষ করতে পারে না।’

আওয়ামী লীগ আগামী জাতীয় নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নয়নের স্বার্থেই সরকারের ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপও বলেন, ‘আমরা ধারাবাহিকতা চাই, ধারাবাহিকতায় আমরা আপনাদের সাথে আছি। আমরা কাজ করতে চাই, আমরা মনে করি যে…’

‘ধারাবাহিকতা সরকারের থাকতেই হবে। ধারাবাহিকতা সরকারের না থাকলে তারা কখনও উন্নয়ন করতে পারে না। এই আলোকে আমি সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে বলব। এর বিরুদ্ধে ওর বিরুদ্ধে না বলে এমপিদেরকে সমান সুযোগ দেবেন কাজ করতে।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও অনুযোগ করেন তাজুল। বলেন, ‘আমরা বলি না দুঃখের কথা, আমরা কী পাচ্ছি, কী পাচ্ছি না, এই কথা বলতে যাই না। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা সেইভাবে কোনো অবস্থায় পাচ্ছে না।’

আশির দশকে এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থাকাকালেও দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছিল-দাবি তাজুলের। আর এর স্বীকৃতিও তিনি চান আওয়ামী লীগের কাছে।

‘আমরা আপনাদেরটা অস্বীকার করি না আপনারা উন্নয়ন করেননি, আপনারা এরশাদ সাহেবেরটা স্বীকার করেন না কেন? এরশাদেরটা স্বীকার করলেই তো আমরা অনেক কাজ করতে পারব।’

‘বাজেটে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজার নিয়ে কিছু নেই’

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে বাংকিং খাত নিয়ে কিছু নেই বলে মনে করেন তাজুল। বলেন, ‘ব্যাংকিং সেক্টরে নৈরাজ্য আছে, এই বাজেটে ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে একটি কথাও উচ্চারণ করলেন না।’

‘শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি, সব কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। শেয়ার মার্কেটের কত টাকা কে নিয়েছে, একটা ক্লিক করলে আমরা জানতে পারব টাকা কে কোথায় নিয়েছে, কোথায় খরচ হলো কার পেছনে হলো। অথচ শেয়ার মার্কেট কেলেঙ্কারি নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যাথা নেই। অপরদিকে লক্ষ লক্ষ শেয়ারব্যবসায়ী অসহায়, তারা রাস্তায় পড়ে গেছে, তাদের রক্ষার কেউ নেই, তাদের বোবা কান্না আমাদেরকে ব্যাথিত করে।’

‘প্রাক বাজেট আলোচনায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী আমাদের সকলকে বলেছিলেন, কিছু একটা ভালো করে করে দেবেন। কিন্তু শেয়ার বাজারের জন্য বাজেটে কোনো কিছু নাই। ফলে শেয়ারবাজারে দরপতন অব্যাহত আছে।’

তাজুল বলেন, ‘শেয়ারবাজার চাঙ্গা না হলে দেশের অর্থনীতির গতি দ্রুত আসবে না এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় যারা করে তাদের বাড়তি আয় সংকুচন হয়ে পড়বে। তাই আমি শেয়ারবাজার নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ করছি।’

অর্থমন্ত্রী জিডিপির প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা (৭.৮ শতাংশ) ঠিক করেছেন সেটি অর্জনযোগ্য বলেও মনে করেন তাজুল। এ জন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, ‘এরা আমাদের অগ্রগতির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।’

এত বিদ্যুৎ যায় কোথায়?

বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎখাতে ব্যাপক উন্নতি হলেও গ্রামের মানুষ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ায় হতাশ বলে মন্তব্য করেন তাজুল।

বলেন, ‘বিদ্যুৎ আমরা অনেক বেশি পেয়েছি, কিন্তু লাভ হয়নি গরিব মানুষের জন্য। গ্রামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা না পাওয়ার জন্য মানুষ হতাশ। সেদিন কুড়িগ্রাম গিয়েছিলাম গ্রামে, দেখি দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নাই। তাহলে এত ইলেকট্রিসিটি গেল কোথায়?’

‘গ্রামে ডাক্তার নেন, নইলে কাজ হবে না’

সরকার গ্রাম পর্যায়ে হাসপাতাল নিয়ে গেছে জানিয়ে তাজুল বলেন, ‘কিন্তু গ্রামে ডাক্তার কোথায়? সমস্ত ডাক্তার ঢাকায় বসে আছে।’

‘আপনি জিনিসপত্র (চিকিৎসা সরঞ্জাম) পাঠিয়ে দিলেন, ডাক্তার নেই। জিনিসপত্র পচে গেল, ঘুন ধরে গেল, কিন্তু গ্রামে ডাক্তার নেই। গ্রামে তো ডাক্তার নিয়ে যেতে হবে, তাদের শাসন করে নিয়ে যেতে হবে, নইলে কোনো জিনিসপত্র কাজে আসবে না।’

‘এমপিওভুক্তি না হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে’

এমপিওভুক্তির বাইরে থাকা শিক্ষকদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ না রাখার বিষয়েও সরকারকে সতর্ক করেন তাজুল। বলেন, ‘শিক্ষায় যথেষ্ট পরিমাণ টাকা পয়সা দিয়েছেন। কিন্তু যারা ১৫, ২০, ২৫ বছর ধরে চাকরি করছে, তারা এমপিওভুক্ত হয়নি। তাদেরকে কোনো সুযোগও রাখা হয়নি। এই শিক্ষকগুলো রাস্তায় বসে আছে, ইলেকশনে এই ঘটনাগুলো কিন্তু প্রভাব গিয়ে গ্রামে পড়বে।’

‘এই শিক্ষকরা কিন্তু ইলেকশনগুলোতে কর্মরত থাকে। যদি ভুল মনে করে থাকেন, তাহলে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে সামনের ইলেকশনে।’

দীর্ঘ বক্তব্যে ডিজেল ও কেরসিনের দাম কমানো, রপ্তানিতে উৎসাহ দিতে টাকার মান কমানো, চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি দূর করতে ব্যাকিং ও আর্থিক খাত কমিশন গঠন, উন্নয়ন কাজে সঠিক তদারকির জন্য নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শও দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar