Home / খবর 2 / মধুমতি নদীতে ধরাপরলো কুমির এক যুবক আহত

মধুমতি নদীতে ধরাপরলো কুমির এক যুবক আহত

picture 1 kumirমাহামুদুন নবী,

জেলা প্রতিনিধি(মাগুরা)
মাগুরার মহম্মদপুরের শিরগ্রাম এলাকায় মধুমতি নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে রীতিমতো কুমিরের সাথে লড়াই করতে হয়েছে রাসেল ব্যাপারী (২৪) নামের এক যুবককে। শুধু কি তাই-কুমিরের কামড়ে তাকে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। ওই যুবকসহ তার সাথে থাকা ৬ যুবক কুমিরটিকে পাকড়াও করে ধরে ফেলে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে। ধৃত কুমিরটিকে দেখার জন্য ওই রাত থেকেই হাজার হাজার উৎসুক জনতা ভীড় করছেন। কুমিরের আক্রোমণে আহত রাসেল ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওয়াপাড় গ্রামের হোসেন ব্যাপারীর ছেলে। তিনি মহম্মদপুরের শিরগ্রামে তার খালু রফিক খাঁনের বাড়িতে বেড়াতে এসে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সাথে ঘটনার রাতে মধুমতি নদীতে মাছ ধরতে যান।kumirer kamoray ahoto jubok picture
রাসেল ব্যাপারী জানান, উপজেলার শিরগ্রাম এলাকায় মধুমতি নদীতে বৃহস্পতিবার রাতে তিনিসহ ৬ যুবক মাছ ধরতে যান। নদীর চরের একটি অংশে গেলে আকস্মিকভাবে একটি বড়ো ধরণের প্রাণি রাসেলের পা কামড়ে ধরে পানিতে টেনে নিয়ে যায়। তখনো কেউ বুঝতে পারেননি রাসেল কুমিরের আক্রোমণের কবলে পড়েছে। রীতিমতো কুমিরের সাথে লড়াই শুরু হয়ে যায় তার। তিনি তখন বাঁচও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় অন্য সবাইও কুমিরের কবল থেকে রাসেলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে কুমিরের কবল থেকে রাসেল রক্ষা পান। তবে কুমিরটি কামড়ে তার দুই পায়ের মাংস ছিড়ে নিয়ে গেছে। তবে মাছ ধরতে যাওয়া ৬ যুবক সাহসিকতা ও বীরত্ত্বত দেখিয়েছে। হাল ছাড়েনি মোটেও। সলেমান খানের ছেলে রুবেল, ফিরোজ খানের ছেলে শামিম, রফিক খানের ছেলে কুদ্দুস, উম্মাত আলী খানের ছেলে সবুজ ও সেলিম খান তাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ৮ ফুট লম্বা ও প্রায় দেড়মণ ওজণের স্ত্রীলিঙ্গের কুমিরটি ধরা পড়ে। রাতেই কুমিরটিকে নিয়ে আসা হয় শিরগ্রামের দাউদ খাঁনের বাড়িতে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে উৎসুক মানুষ তার বাড়িতে ভীড় করেন কুমিরটিকে এক নজর দেখার জন্য। শুক্রবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুমিরটিকে উপজেলা সদরের আলহাজ মোফাজ্জেল হোসেনের চাতালের হাইজের মধ্যে রেখে দেয়া হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ আশেপাশের উপজেলার উৎসুক নারী, পুরুষ ও শিশুসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ কুমিরটিকে দেখতে ভীড় করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা, গোলাম মোস্তফা জানান, কুমিরটি আহত হওয়ায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন হোসেন বলেন, কুমিরটি উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে রাখা এবং খাবার দেয়া হয়েছে। কুমিরটি উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্ববধানে রয়েছে। নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের সহায়তায় জেলা বণবিভাগের কাছে কুমিরটি হস্তান্তরের বিষয়ে কথা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ হস্তান্তর হবে তা অনিশ্চিত।
এলার্টনিউজ২৪.কম/২৩-১০-১৫.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar