Home / এনজিও / রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের দাবি

মানবাধিকার সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে দু’মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতনের মুখে ইতিমধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম।
নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের শরণার্থী অধিকার বিষয়ক পরিচালক বিল ফ্রেলিক বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভস্ম হয়ে যাওয়া গ্রামগুলোতে বার্মা এখন তাদের উন্মুক্ত বাহুডোরে ফেরত নেবে এমন ধারণা হাস্যকর।’ তিনি আরো বলেন, ‘পাবলিক রিলেশনের একটি স্টান্টবাজিতে সমর্থন না দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এটা স্পষ্ট করা উচিত যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ছাড়া কোনো প্রত্যাবাসন হবে না।

 ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের ক্যাম্পে রাখার ধারণার ইতি টানতে হবে। এ ছাড়া, জমিজমা ফেরত দেয়া এবং ধ্বংস করা বাড়িঘর, গ্রাম পুনর্গঠনসহ আরো অনেক শর্ত দিতে হবে।’
মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি বলেছেন, বাস্তুচ্যুতদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি প্রধাণত দেশটিতে বাসস্থানের প্রমাণ উপস্থাপন সাপেক্ষে হবে। এ ছাড়া, প্রত্যাবাসন ‘নিরাপদ ও স্বেচ্ছায়’ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে, দেশটির ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী তাতে বাদ সাধতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতায় তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের কথা আছে। তবে, এতে প্রত্যাবাসনের শর্তাবলী এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কি ভূমিকা পালন করবে, বা তারা আদৌ কোনো ভূমিকা পালন করবে কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু নেই।
ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র আন্দ্রে মাহেসিচ বলেন, ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআর এর সম্পৃক্ত থাকাটা প্রচলিত একটি চর্চা। যে কোনো ধরনের প্রত্যাবাসন চুক্তিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মানা হচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে ভূমিকা পালন করে ইউএনএইচসিআর।’ মি. মাহেসিচ জানান, তারা এখনও চুক্তির বিস্তারিত দেখেন নি।
মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, দু’দেশের তরফে পৃথক যে দুটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আমলে নেয়া হয় নি। এর মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যতে সহিংসতা থেকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা, তাদের বৈধ পরিচয়ের সমস্যা মেটানো এবং তাদের নিজেদের বাড়িতে ফেরত যাওয়ার সুযোগ দেয়া হবে কিনা সেটা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক পরিচালক চারমেইন মোহাম্মদ বলেন, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়েছে। আর যখন কিনা বাংলাদেশে এখনও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল অব্যাহত রয়েছে তখন তাদের ফেরতের চুক্তি ‘প্রিম্যাচিওর’।
চীন বলেছে, তারা প্রত্যাবাসন নিয়ে হওয়া চুক্তিকে স্বাগত জানায়। তবে, মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এখনও প্রতিদিন বাংলাদেশে প্রবেশ করছে কয়েক শ’ রোহিঙ্গা। সংঘাতের মুখে, ক্ষুধায় কাতর হয়ে আর আতঙ্কে মিয়ানমার থেকে পালাচ্ছে তারা। স্বতন্ত্র তথ্যসূত্রের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনে এখন অবশিষ্ট রয়েছে সম্ভবত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar