Home / খবর / লোকাল বাসে যাত্রার ব্যাখ্যা তারানার

লোকাল বাসে যাত্রার ব্যাখ্যা তারানার

তারানা হালিম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পাওয়া সরকারি গাড়ি ছেড়ে লোকাল বাসে বাড়ি ফেরার কারণ জানিয়েছেন । স্বাভাবিক ঘটনাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার কথা বলেছেন তিনি। এ নিয়ে তীর্যক বক্তব্য এবং উক্তির জবাবও দিয়েছেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, নিজেকে তিনি ‘আমরা কি হনু রে’ ভাবেন না। পদ পদবি দুই দিনের-এটাও জানেন। বলেন, “‘আমি কে ? মানুষ কেমন’-এটাই চিরস্থায়ী।”

গত বুধবার সচিবালয়ে কাজ শেষে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে ছয় নম্বর বাসে উঠে গুলশান যান। জানান, জরুরি কাজ ছাড়া এখন থেকে সরকারি গাড়িতে চলবেন না।

তারানার এই হঠাৎ বাসযাত্রা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে তিন দিন ধরে। তিনি লোক দেখাতে এই কাজ করেছেন বলে সমালোচকরা যেমন বলে আসছেন, তেমনি তিনি পথ দেখিয়েছেন বলেও প্রশংসা করছেন বহুজন।

এর মধ্যে শনিবার তারানা তার বাস যাত্রা নিয়ে ব্যাখ্যা দেন। নিজের ফেসবুকেই এই প্রতিক্রিয়া দেন। তবে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে না, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে।

‘নির্বাচনের আগে স্ট্যান্ডবাজি’, ‘অভিনয়’ ‘আবার মন্ত্রী হতে চায়’ বলে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচকদের নানা বক্তব্যের জবাবে তারানা লেখেন, ‘এক বাসে চড়েই এত কিছু পাওয়া যায় নাকি? জানতাম না তো!’

তারানা লেখেন, ‘সোজা বিষয়কে সোজা হিসেবে দেখতে ভুলে যাচ্ছি কি আমরা? সব কাজের পেছনেই কি জটিল উদ্দেশ্য থাকতে হবে?’

তারানা জানান, সেদিন সেদিন লোকাল বাসে কোনো সাংবাদিক তার সাথে ছিলেন না। যাত্রীরা খুশি হয়ে সেলফি তুলেছেন তার ফেসবুকে সেটিই ভাইরাল হয়েছে। এরপর সাংবাদিকরা অফিসে তার জনসংযোগ কর্মকর্তাকে ফোন দিয়েছেন আর তিনি কথা বলেছেন।

“অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোন দিয়েছেন। আমি সত্যটাই বলেছি যে, ‘হ্যাঁ চড়েছি। বাসের আসনে তেল চিটচিটে কভারটা পরিবর্তন করার, ইন্ডিকেটর লাইট ঠিক করার অনুরোধটা মালিককে বলার জন্য চালককে অনুরোধ করেছি’।”

প্রতিমন্ত্রী জানান, এক সাংবাদিক শুক্রবার ফোন করে বলেছেন, পরেরবার লোকাল বাসে তিনিও যেতে চান। সমস্যা আছে কি না। বলেছেন, সমস্যা নেই।

বাচ্চাদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় মন্ত্রী, এমপিদের বাসে না চলার বিষয়ে আসা বক্তব্যের বিষয়টিও জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। আর তিনি বেশ কিছু প্রশ্নও রাখেন।

# আমি যখনই সুযোগ পাব-লোকাল বাসে যাব। কারো কোন সমস্যা আছে?

# আমার কলিগরাও খুশি হয়েছেন। এতে অন্য কারও কোন সমস্যা আছে?

# ছাত্ররা চেয়েছিল- ওই পোস্ট দেখে আমি লোকাল বাস এ চড়ে দেখেছি-সময় বেশি লাগে, বেশ গরম, ভেতরটা পরিচ্ছন্ন নয়। দেখাটা অন্যায় হয়েছে?

# আপনারা চেয়েছিলেন পাবলিক বাসে আমরা চড়ি-চড়েছি ‘কথা শুনলেও দোষ, না শুনলেও দোষ?’

# যখন প্রায়ই আমি লোকাল বাসে যাতায়াত করব-মন্ত্রী থাকলেও করব, না থাকলেও  করব, এমপি থাকলেও করব, না থাকলেও করব…..সমস্যা আছে?

উত্তরাধিকার সূত্রে স্বচ্ছল, সরকারি প্লট নেননি

তারানা জানান, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রেই স্বচ্ছল। আর সংসদ সদস্য হিসেবে বরাদ্দ করা সরকারি প্লটও নেননি।

রাজনীতি পেশা নয় জানিয়ে তারানা লেখেন, ‘মানুষের জন্য কিছু করার বাসনা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবীত হয়েই রাজনীতির পথচলা।’ আমৃত্যু ঘুষ খাবেন না, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ‘যোদ্ধা হিসেবে’ কাজ করবেন, নীতির প্রশ্নে আপোষ করবেন না, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও দলকে ভালোবাসবেন-এটাই তার আমৃত্যু নীতি।এর কোনো উদ্দেশ্য, বিধেয় নেই, এর মধ্যে  প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেবও নেই।  এর মধ্যে ‘তৈল মর্দনের বদ মতলবও’ নেই।

তারানা লেখেন, পাঁচ বছর আগে ‘সড়ক নিরাপত্তা’ বিষয়ক জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য তিনি, তার বোন ও বোনের গড়া সংগঠনের সদস্যরা প্রেসক্লাব থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত হেঁটে গেছেন। শ্যামলীর কাছাকাছি যেতে তার পায়ের গোড়ালির উপরের লিগামেন্ট ছিড়ে যায় (এখনও শক্ত হয়ে গোল হয়ে আছে) অসহ্য ব্যথা হচ্ছিল তার পরও রিকশা বা ভ্যানে চড়েননি। হেঁটে গেছেন আমিনবাজার ব্রিজ পর্যন্ত। কারণ বলেছিলেন ‘হেঁটেই যাব’।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি পাঁচ বছর আগেই সংসদে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক ৭১ বিধির নোটিশ দিলে তা ‘সিদ্ধান্ত প্রস্তাব’ হিসেবে গৃহীত হয়। এরপর  আইন মন্ত্রীর কাছেও বিভিন্ন প্রস্তাবও দেন আর যোগাযোগ মন্ত্রীর  কাছে ‘ব্ল্যাক স্পট’ চিহ্নিত  করার প্রস্তাব দিলে দ্রুততার সঙ্গে তিনি তা ঠিক  করে দেন।

‘আমি যখন মহান জাতীয় সংসদে হিজরাদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসাবে স্বীকৃতি দেবার দৃষ্টি আকর্ষণী বিল আনি-তার আগে দুই দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওদের বস্তিতে বসে থেকেছি। জানি না, কোথা থেকে অসম্ভব চুলকানি শুরু হলো। ওরা বলল-ঘুণে ধরা বাঁশ থেকে কণা ওড়ে, তাতে অভ্যাস না থাকলে চুলকানি হয়। তাদের জীবন যাত্রা দেখার পরই নোটিশটি দিয়েছেলাম।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar