Home / খবর / শতাব্দীর দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ

শতাব্দীর দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ আজ

আজ শুক্রবার এই শতকের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণটি ঘটতে চলেছে। মেঘ বাগড়া না দিলে ১০৩ মিনিট স্থায়ী এই চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে বাংলাদেশ থেকেও। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টা ১৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড থেকে ভোর ৫টা ৩০ মিনিট ২৪ সেকেন্ড পর্যন্ত এই গ্রহণ চলবে। চন্দ্রগ্রহণের সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলো–আঁধারিতে ঢাকা থাকবে চাঁদ। আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে এ গ্রহণ দেখা সম্ভব হবে। আজ যে চাঁদকে দেখা যাবে, তা ‘মাইক্রো–মুন’। মানে, আমরা সাধারণত যে আকারের চাঁদ দেখি, তার চেয়ে বেশ কিছুটা ছোট।

এর আগে ২০০০ সালের ১৬ জুলাই ১০৬ মিনিট স্থায়ী চন্দ্রগ্রহণ দেখা গিয়েছিল। আর পরবর্তী পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণটি দেখা যাবে ২০২৮ সালে ৩১ ডিসেম্বর। তবে সেটা এবারের মত এত দীর্ঘ সময় ধরে হবে না। এতটা দীর্ঘ সময় ধরে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে ঠিক ১০৫ বছর পর। ২১২৩ সালের ১৯ জুন। নাসার তথ্য অনুযায়ী, সেই পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে ১ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড ধরে। তার মানে, এ বারের চেয়ে সেই পূর্ণগ্রাসের সময় আরও ৩ মিনিট ৬ সেকেন্ড বেশি হবে। এদিকে ২০০৩ সালের পর আগামী ৩১ জুলাই মঙ্গলবার পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গল। ফলে, মঙ্গলকে ওই সময় উজ্জ্বল ও স্পষ্ট ভাবে দেখা যাবে রাতের আকাশে। টেলিস্কোপ বা খালি চোখে সহজেই দেখা যাবে মঙ্গলকে। এরপর মঙ্গল এতটা কাছাকাছি আসবে ২২৮৭–র ২৮ আগস্ট এবং ২৭২৯ সালে।

মঙ্গলের অবস্থান পৃথিবীর বাইরের ঠিক পরের কক্ষপথেই। মঙ্গলের আকার পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক। পৃথিবী তার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন। আর সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে মঙ্গলের লাগে ৬৮৭ দিন। এই দু’টি গ্রহের প্রদক্ষিণের সময়ের হিসেব কষলে দেখা যায়, প্রায় ৭৮০ দিন অন্তর (প্রায় প্রতি ২ বছর ২ মাস বা, ২৬ মাস অন্তর) মঙ্গল আর সূর্যের মাঝখানে চলে আসে পৃথিবী। সূর্য ও মঙ্গল পৃথিবীর দু’দিকে ও পৃথিবী ঠিক মাঝখানে থাকলে মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে চলে আসে। এটারই নাম ‘অপোজিশন’। এই সময় মঙ্গলকে উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়। আজ শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের দিন মঙ্গলের ‘অপোজিশনও’ হবে। তার ফলে, মঙ্গলকে আকাশে ওই সময় গ্রহণের চাঁদের কাছাকাছি উজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যাবে। তবে মঙ্গল পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে আসবে ৩১ জুলাই। সে দিন মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর দূরত্ব কমে হবে প্রায় ৫ কোটি ৭৬ লক্ষ কিলোমিটার। আর পৃথিবীর এত কাছে মঙ্গল আসছে ১৫ বছর পর।

মঙ্গলের সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে কম যে দূরত্ব হতে পারে, সেটি প্রায় ৫ কোটি ৫০ লক্ষ কিলোমিটার। আর এই দু’টি গ্রহের সবচেয়ে বেশি দূরত্ব হতে পারে প্রায় ৪০ কোটি কিলোমিটার। তার মানে, সারা বছর ধরে পৃথিবী থেকে বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করে মঙ্গল গ্রহ। তখন মঙ্গলকে খুব বেশি উজ্জ্বল দেখা যায় না। মঙ্গলকে তখনই সবচেয়ে বেশি উজ্জ্বল দেখা যায়, যখন তার ‘অপোজিশন’ হয়, আর পৃথিবীর কাছে চলে আসে ‘লাল গ্রহ’। ১৫ বছর আগে, ২০০৩ সালের অগস্টে মঙ্গলের যে প্রতিযোগ হয়েছিল, তাতে ‘লাল গ্রহ’ গত প্রায় ৬০ হাজার বছরে সবচেয়ে কাছে এসেছিল পৃথিবীর। তখন দু’টি গ্রহের মধ্যে দূরত্ব কমে হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি ৫৪ লক্ষ কিলোমিটার।

পূর্ণিমার রাতে হয় চন্দ্রগ্রহণ। সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবী, আর পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নিজের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে চাঁদ। সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে একই সরলরেখায় চলে এলে গ্রহণ হয়। এ সময় পৃথিবী যদি চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে থাকে, তখন চাঁদ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়। পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদ আংশিক ভাবে ঢুকলে হয় আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। আর ছায়ায় চাঁদ পুরোপুরি ঢুকে পড়লে হয় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ।

আজ চাঁদ থাকবে তার কক্ষপথের দূরতম বিন্দুতে। ওই অবস্থানে থাকার সময় চাঁদের গতিবেগ কম হবে। শুধু তাই নয়, এই গ্রহণে চাঁদ পৃথিবীর ছায়া–কোণের প্রায় কেন্দ্রস্থল দিয়ে অতিক্রম করবে। তার মানে, কম গতিবেগে তার কক্ষপথে থাকা চাঁদ পৃথিবীর ছায়া–কোণের প্রায় দীর্ঘতম পথ অতিক্রম করবে। গতিবেগ কম থাকবে বলে পৃথিবীর ছায়া–কোণের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে বেশি সময় লাগবে চাঁদের। তাই এটি হবে শতাব্দীর দীর্ঘতম চন্দ্রগ্রহণ।

পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী থেকে চাঁদকে দেখায় গাঢ় কমলা বা লাল রঙের। এ কারণে চাঁদের এ অবস্থাকে বলা হয় ‘ব্লাড মুন’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ রীতিমত উৎসবের আমেজে এই ‘রক্তাভ চাঁদ’ দেখার আয়োজন করেছে বলে খবর দিচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar