Home / খবর / শ্রমজীবীরা মাসের শেষ বলে দেরিতে ফিরছেন

শ্রমজীবীরা মাসের শেষ বলে দেরিতে ফিরছেন

অনেক আগেই ঈদ ছুটি শেষ হয়েছে। সরকারি হিসাবে গত সোমবার থেকে কর্মদিবস শুরু হলেও সপ্তাহজুড়ে রাজধানী ছিল অনেকটা ফাঁকা। কাল রবিবার নতুন কর্মসপ্তাহ শুরু হচ্ছে। তাই আজ শনিবার ঢাকাফেরত মানুষের ভিড় দেখা গেছে সদরঘাট, রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালগুলোতে।

তবে সড়ক পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সময়ে যাত্রীদের যে রকম চাপ পড়বে বলে ধারণা করেছিলেন তারা, এবার ততটা হয়নি। বিশেষ করে শ্রমজীবী লোকজনের অনেকে এখনো বাড়িতে রয়ে গেছেন। ফলে ফিরতি যাত্রা যাত্রীদের জন্য স্বস্তির ছিল বলা যায়।

শনিবার ঢাকায় ফেরা একজন নির্মাণশ্রমিক জানান, মাসের শেষ বলে অনেকে কাজ না পাওয়ার শঙ্কায় আরও পরে ঢাকায় ফিরবেন। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান এ সময়ে শ্রমিকদের কাজের সিডিউল রাখেনি।

সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের সিংহভাগ কম ছুটি পাওয়ার আক্ষেপ নিয়ে ঈদের দুই-তিন দিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরলেও লম্বা ছুটি কাটিয়েছেন শ্রমজীবী ও অনেক পেশাজীবী। ঈদের ছুটিতে স্বজনদের কাছে যাওয়া লোকজন তাই এবার ঢাকায় ফিরেছেন খণ্ড খণ্ডভাবে।

গত ১৫ থেকে ১৭ জুন ছিল এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটি। অনেকে অবশ্য দু-তিন আগে বাড়িমুখো হয়েছেন।

ঈদ শেষে আরও সপ্তাহ খানেক কাটিয়ে আজ দেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে নৌপথে ঢাকার সদরঘাটে এসে পৌঁছেছেন অনেক যাত্রী। কত কয়েক দিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি বলে জানান ঘাটশ্রমিকরা।

নৌপথের পাশাপাশি বাস ও ট্রেনেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকায় ফিরেছেন। রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার বাইরে থেকে বাস এসেছে অর্ধশতাধিক। যাত্রীও ছিল বেশ। বিগত কয়েক দিনের মতো কম যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরতে হয়নি বলে জানান হানিফ পরিবহণের সুপারভাইজার হামিদ।

হামিদ বলেন, ‘কয়েক সিট খালি নিয়ে এত দিন ঢাকায় ঢুকতে হয়েছে। গতকাল থেকে যে গাড়িগু্লো আসছে, সেগুলো পুরোপুরি ভরে আসছে।’

তবে গ্রীন লাইনের সুপারভাইজারের দাবি, এখনো বহু মানুষ ঢাকার বাইরে রয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘শুক্র ও শনিবার ফিরতি যাত্রার কিছুটা চাপ থাকলেও আমাদের অধিকাংশ গাড়িতে আসন খালি থাকছে। বহু মানুষ বিশেষ করে শ্রমজীবীদের অনেকে এখনো নিজ নিজ এলাকাতেই রয়েছেন।’

ঈদে বাড়তি ছুটি কাটিয়ে এখন যারা ফিরছেন তাদের একটি বড় অংশ শ্রমজীবী। শনিবার ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে সপরিবারে ঢাকায় এসেছেন নির্মাণশ্রমিক বিল্লাল।

বিল্লাল বলেন, ‘আমগো ভোলার লঞ্চ তো অনেক। আর লঞ্চও বড় বড়। তাইতে কোনো সমস্যা হয় নাই। এর আগে কয়দিন বোরহানুদ্দি (বোরহানউদ্দিন উপজেলা) থাইকা তেমন বেশি মানুষ ঢাকায় আহে নাই। আইয়া করব কি? মাসের শেষে কাম আছে? ঈদ ভাঙা মাসে কাম করাইয়াও কন্টেকদার (ঠিকাদার) টাকা দিতে পারব না। ফাও আগে আইয়া লাভ কি?’

এবারের ঈদের ছুটিটা বেশ লম্বা হয়ে গেছে বলে মনে করেন ঈদের এক সপ্তাহ পরে ঢাকায় ফেরা মানুষগুলো। এদের অনেকেই ঈদের তিন-চার দিন আগে ঢাকা ছেড়েছিলেন। মাসের শেষ দিকে কর্মব্যস্ততার ঘাটতিই বেশি দিন ছুটি কাটানোর কারণ বলে মনে করেন ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের অনেকে।

চাকরীজীবীরা চাকরি বাঁচাতে আগেভাগে ঢাকায় ফিরেছেন। আর শ্রমজীবীরা নতুন মাস শুরু হওয়ার আগে কাজ নিশ্চিত করতে মাস শুরুর আগে এসে ঢাকায় পৌঁছেছেন। শুক্র ও শনিবার ঢাকায় ফেরার বাড়তি চাপ ছিল এই মানুষগুলোর। এ ছাড়া পরীক্ষার তাড়াহুড়া নেই এমন শিক্ষার্থীরা এবং বাড়তি ছুটি কাটানোর সুযোগ আছে এমন অনেকেই এখনো ছুটি কাটাচ্ছেন ঢাকার বাইরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar