Home / খবর / সব বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় রাজধানীর

সব বিনোদনকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় রাজধানীর

দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রথম দিন বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ছিল দর্শনার্থী মুখর। ছোট-বড় সকলের উপস্থিতিতে ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় এসব বিনোদনকেন্দ্রে। সরেজমিনে বিনোদনকেন্দ্রগুলো ঘুরে চোখে পড়ে এমন চিত্র।

শাহবাগের শিশুপার্ক ছিল সকাল থেকেই মুখরিত। সকাল ১০ টার আগে থেকেই দর্শনার্থীরা এখানে ভিড় করতে শুরু করেন। দুপুর নাগাদ ভিড় বেড়ে গেলে লম্বা লাইন পেরিয়ে রাইডে উঠতে দেখা যায়। এ সময় শিশুদের পদচারণায় পুরোপুরি মুখরিত হয়ে ওঠে শিশুপার্কটি।

বিভিন্ন রাইডে চড়ে ও খোলামেলা পরিবেশ পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠে শিশুরা। শিশুদের সঙ্গে অনেক অভিভাবককেও আনন্দে মেতে উঠতে দেখা গেছে। খোলামেলা পরিবেশ ঈদের আনন্দকে আরো বহুগুণ বাড়িয়েছে বলে মনে করেন অভিভাবক ও শিশুরা।

৯ বছরের মেয়েকে নিয়ে শিশু পার্কে এসেছেন বাবা শিমুল মাহমুদ। শিমুল মাহমুদ বলেন, “ঈদ তো বাচ্চাদের। তাই মেয়েকে নিয়ে আসলাম। অনেক ভিড়। একেকটা রাইডে উঠতে প্রচুর সময় চলে যাচ্ছে। তারপরেও এটা আনন্দ।”

তবে, ঈদ উপলক্ষ্য বাড়তি খরচ গুণতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। প্রবেশ মূল্য ১৫ টাকা হলেও টিকেটের মূল্য নেয়া হয়েছে ২০ টাকা। এছাড়া প্রতি রাইডের মূল্যের উপর ৫ টাকা হারে বেশি নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীতে বিনোদনকেন্দ্রের সংখ্যা দিন দিন কমছে। যে ক’টি বিনোদন কেন্দ্র আছে, আজ ঈদের দিনে তা ছিল প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ।

হাতিরঝিল, জাতীয় চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, শ্যামলী শিশুমেলা, ধানমন্ডি লেক ও সংসদ ভবন চত্বর, চন্দ্রিমা উদ্যান, শহীদ বুদ্ধিজীবী সেতু, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারসহ রাজধানীর সব বিনোদনের স্থান ও স্থাপনাগুলো লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

বিনোদন কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি দর্শনার্থী ছিল বিনোদনকেন্দ্রের সামনের ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে। শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানে বিক্রি হতে দেখা গেলে বাঁশি, শিক্ষা সামগ্রী, আচার ও বিভিন্ন খাবার।

বিক্রেতারা জানান, বিক্রি ভালো। ঈদের কেনাকাটার পর, এ সকল জিনিসের প্রতিও ক্রেতাদের বাড়তি আকর্ষণ থাকে।

ধানমন্ডি ৮ নম্বর লেকে শিশুদের খেলনা বিক্রি করেন রাসেল। ঈদের দিনও দেখা গেল তাকে। উদ্দেশ্য বাড়তি বিক্রি।

ঢাকাটাইমসকে রাসেল বলেন, “রোজায় তো লোকজন এদিকে তেমন আসে না। সবাই থাকে মার্কেটে। ঈদের কয়েকদিন লেকে অনেক লোক থাকে, বেচাকেনা ভালো হয়। তাই, বাড়ি যাই নাই। দুই-তিন দিন ভাল বেচাকেনা করতে পারলে হাতে কিছু টাকা নিয়া বাড়ি যামু। এইডাই আমগো ঈদ।”

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ধানমন্ডি লেকে এসেছেন একদল কিশোর। মেহেদী হাসান, নাহিদ হাসান, রিফাত চৌধুরী , মামুন আলম, এস কে সানি, নাইম আহমেদ, ইমন ও বাদশা।  হাজারীবাগের সোনাতনগড় থেকে এখানে ঘুরতে এসেছেন তারা।

ঢাকাটাইমসের সঙ্গে আলাপ কালে মেহেদী বলেন, ঈদ তো আনন্দের। তাই বন্ধুরা মিলে ঘুরতে আসলাম। সারাদিন ঘুরবো। খাওয়া-দাওয়া সব বাহিরে। অনেক মজা করবো। ঈদের দিন না ঘুরলে আর কবে কবে ঘুরবো! এখন রাস্তা ঘাট পুরোই ফাঁকা।

তবে, অতিরিক্ত রিকশা ভাড়া নিয়ে অভিযোগ করেন রিফাত হাসান। বলেন, “ঈদ উপলক্ষ্যে রিকশা ভাড়া অনেক বেশি। হিজড়ারা সমস্যা করছে। একটু পর পর এসে ঝামেলা করে। টাকা না দিলে বাজে বাজে কথা বলে। এগুলো খুব বাজে জিনিস। ঈদের আনন্দ মাটি করতে এরাই যতেষ্ট।”

তবুও দর্শনার্থীর কমতি নেই পুরো ধানমন্ডি লেক জুড়ে। লেকের পানিতে নৌকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল অনেককে। যাদের একটি বড় অংশ রাজিধানীর ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা জুড়ে দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থী। এছাড়া সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক জুড়েও ছিল সব বয়সী মানুষের বাড়তি আনাগোনা।

শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বয়স্ক সবাই যেনো বিনোদনের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। সকাল ১০টার আগে থেকে দর্শনার্থীরা মিরপুর চিড়িয়াখানার টিকিট কাউন্টারগুলোয় ভিড় জমাতে থাকেন। বিকেল নাগাল ভিড় বেড়েছে আশাহতভাবে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করতে পারছেন দর্শনার্থীরা।

ঢাকার অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল প্রকল্পে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। হাতিরঝিলের সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য হাজারও মানুষের ঢল নেমেছে। এছাড়া কুড়িল ফ্লাইওভার, জিয়া কলোনি, উত্তরা দিয়াবাড়ি বিনোদনের অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

দু’তিন দিন পর আবারো যান্ত্রীক শহরে রুপ নেবে ঢাকা। তার আগে ফাঁকা রাস্তায় রিকশায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর স্বাদটাও ছাড়তে চাননি অনেকে। ঘণ্টা প্রতি রিকশা ভাড়া করে প্রিয়জনকে নিয়ে ঈদের দিন বিকেলে অনেককেই ঘুরতে দেখা গেছে রাজিধানীর বিভিন্ন এলাকায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar