Home / খবর / ‘সলিল সমাধি হবে নৌকার কোন্দল-অনুপ্রবেশ না ঠেকালে ’

‘সলিল সমাধি হবে নৌকার কোন্দল-অনুপ্রবেশ না ঠেকালে ’

আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর বিরুদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে শেখ হাসিনার প্রতি আকুতি জানিয়েছেন ।

দলের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শনিবার গণভবনে দলের বর্ধিত সভায় এই সতর্কতা তুলে ধরেন তৃণমূলের নেতারা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের বছরে এই সভাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচার শুরু করে দেয়া আওয়ামী লীগকে এই সভাতেই দলীয় সভাপতি নানা দিক নির্দেশনা দেবেন বলে আগেই জানিয়েছিলেন নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলের উন্নয়ন প্রচার ভালোভাবে করার পাশাপাশি জানিয়ে দেন যারা দুর্নীতি করেছেন, তারা কেউ মনোনয়ন পাবেন না। এলাকায় যারা জনপ্রিয় হাতের হাতেই দেয়া হবে নৌকার টিকিট।

সেই সঙ্গে দলের ভেতর কোন্দল তৈরি করা নেতাদের সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের যারা অনুপ্রবেশ করেছে তাদেরকে দল থেকে বের করে দেয়ার তাগাদাও দেন তিনি। বলেছেন, তাদের তালিকা আছে।

এই সভায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি দলের জনপ্রতিনিধি আর জেলা ও উপজেলা শাখার নেতাদেরকেও গণভবনে ডাকা হয়, সব মিলিয়ে সংখ্যাটি চার হাজারের বেশি। আর তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও শেখ হাসিনার কাছে কোন্দল আর  অনুপ্রবেশ নিয়ে জোরাল বক্তব্য রাখেন। একজন বলেন, ‘অনু্প্রবেশ ঠেকানো না গেলে নৌকার সলিল সমাধি হবে।’

নেতারা বলেন, জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগকে হারানো যাবে না। তবে আওয়ামী লীগকে হারাতে আওয়ামী লীগই যথেষ্ট। হবে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বর্ধিত সভায় দলটির ৮টি বিভাগ থেকে আটজন জেলা নেতা বক্তব্য রাখেন।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ কোন্দলের কথা তুলে ধরেন তা নিরসনে কেন্দ্রীয় টিম গঠনেরও প্রস্তাব করেন।

‘ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে দলের কোন্দল। তৃণমূলে একই সাথে কর্মসূচি পালনের কোনো পরিবেশ নেই। দলের নেতারা একই মঞ্চে উঠে না। কেউ কারো চেহারাও দেখতে চান না। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগকে হারানোর জন্য আওয়ামী লীগই যথেষ্ট।’

জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাকিবিল্লাহ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন। বলেন, ‘নতুন করে অনেকে নৌকায় ওঠার কারণে আমাদের পশ্চাত দেশ ভিজে যেতে শুরু করেছে। এটা অব্যাহত থাকলে নৌকার সলিল সমাধি হবে। নৌকা তীর খুঁজে পাবে না।’

‘জিয়া আর মোশতাক পেতাত্মারা নৌকার ওপর ভর করেছে। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

পঁচাত্তরের রক্তাক্ত প্রান্তরে যারা নৌকার সঙ্গে ছিলেন তাদের প্রতি আস্থা রাখার অনুরোধ করেন এই আওয়ামী লীগের নেতা।

গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ‘কী পেলাম কী পেলাম না সেই চিন্তা না করে নৌকার জন্য কাজ করতে হবে।’

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন-অর রশীদ দুর্দিনে যারা দলের সঙ্গে ছিলেন তাদের মূল্যায়নের দাবি করেন। তিনি পদ্মা সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে করার প্রস্তাব করেন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন সিটি নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি তার পক্ষে কাজ করতে রাজশাহীর আশপাশের জেলা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

বরিশাল বিভাগের পক্ষে ধীরেন্দ্র নাশ শম্ভু, চট্টগ্রামের পক্ষে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির, সিলেটের পক্ষে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেসার উদ্দিন আহমেদও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

সভায় বিএনপি শাসনামলের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অগ্নিসংযোগসহ নানা অপকর্মের ওপর নির্মিত ভিডিও চিত্রের দুটি করে সিডি দেয়া হয় নেতাদেরকে। পরে প্রধানমন্ত্রী এসব সিডি প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচারের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে নির্দেশ দেন।

বাজেটের পর ইউপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক

বাজেট পাসের পর ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা এবং জনপ্রতিনিধিদের গণভবনে ডাকবেন শেখ হাসিনা।

গণভবনের স্বল্প পরিষদে সকলের স্থান সংকুলান হবে না বলেই আজ কেবল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar