Home / খবর / সাংসদদের বিরোধিতা বন্দর চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে : আইসিডি

সাংসদদের বিরোধিতা বন্দর চেয়ারম্যানের প্রস্তাবে : আইসিডি

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল খালেদ ইকবালের প্রস্তাবে কমিটির সদস্য চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যরা তীব্র বিরোধিতা করেন চট্টগ্রাম বন্দরের উপদেষ্টা কমিটির সভায় নতুন আইসিডি স্থাপন নিয়ে। অনেকগুলো বিষয় নিয়ে বারবার আলোচনায় বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নানও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এছাড়া সম্প্রতি বন্দরে লস্কর নিয়োগ নিয়েও নৌমন্ত্রী তার সমালোচনার জবাব দেন।

নৌমন্ত্রী শাহাজান খান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের লস্কর নিয়োগ নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এর পেছনে রাজনৈতিক হীন স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে। বিগত ৮ বছরে বন্দরে কোন অসন্তোষ হয়নি। বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে উল্লেখ করেন তিনি। নৌ পরিবহন মন্ত্রী এম শাহাজান খান বলেন, এরা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি বলেন, ইদানিং বলা হচ্ছে আমি নাকি অযাচিত হস্তক্ষেপ করছি। অযাচিত হস্তক্ষেপ কি আমি সেটাই বুঝি না। বরং যারা বন্দর নিয়ে কথা বলছেন তারাই তো অযাচিত হস্তক্ষেপ করছেন। কারণ আমি আইন মেনে দায়িত্ব পালন করছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন বলেই চট্টগ্রামে এসে কাজ করছি। কথা বলতে চাইলে এখানে এসে বলতে হবে। কমিটির বাইরে গিয়ে বলবেন না।

লস্করসহ বন্দরে এ পর্যন্ত যেসব নিয়োগ হয়েছে সেখানে মন্ত্রী হিসেবে স্বজনপ্রীতি করেননি দাবি করে শাজাহান খান বলেন,‘বুকে হাত দিয়ে বলতে পারি। নিয়োগের ক্ষেত্রে আমি স্বজনপ্রীতি করছি না। সবার সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করেই কাজ করছি। অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের একজন সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নাকি ৯২ জন লস্কর নিয়োগ দিয়েছি। এরমধ্যে ৯০ জন মাদারীপুরের কেবল ২ জন চট্টগ্রামের। এ ঘোষণায় অনেকে বিভ্রান্ত হয়েছে। আসিফ নজরুলের মতো মানুষ ফেসবুকে লিখেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের একটি নীতিমালা আছে। ওই নীতিমালায় যার বিরুদ্ধে লেখা হচ্ছে তার বক্তব্য নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু লস্কর নিয়োগ নিয়ে এত কথা লিখা হলো। কেউ নীতিমালা মানলেন না। আমার কোন বক্তব্য নিলেন না। বন্দর চেয়ারম্যানের বক্তব্যও নিলেন না। আমাদের সাথে কথা বললে এত ভুল তথ্য লেখা হতো না।

তিনি দৈনিক যুগান্তরের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি বিদেশ গিয়েছিলাম দুই বার। অথচ তারা লিখে দিল আঠার বার বিদেশ সফরে গিয়ে সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করছি। আদালতে মামলা করেছি। মামলা চলছে। আজও মামলার ডেট ছিল।

লস্কর পদে ২৬ জেলা থেকে ৮৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত ৮ বছরে ১১৫ পদে ১ হাজার ৯৪৮ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

জনগণকে বিভ্রান্ত না করে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত না করে সত্য প্রকাশ করুন। আমি অসত্যের কাছে, মিথ্যার কাছে মাথা নত করিনি। করবো না। যেটা ভাল সেটাই করি।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১২ তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী এম শাহাজান খান। ৯ মাস আগে বন্দর উপদেষ্টা কমিটির ১১ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় বন্দরের ২০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে নতুন আইসিডি স্থাপন নিয়ে চেয়ারম্যানের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন সংসদ সদস্যরা। পরে ২০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আর কোন আইসিডি না করার বিষয়ে আগের সভার সিদ্ধান্তটিই গৃহীত হয়।

সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, একটি খুশির খবর দিয়ে আজকের সভা শুরু করতে চাই। ২০০৯ সালে আমরা যখন ক্ষমতায় আসি তখন লয়েট লিস্টে বন্দরের অবস্থান ছিল ৯৮ তম। বিগত আট বছরে ২৭ ধাপ এগিয়ে এবার ৭১ তম অবস্থানে এসেছে।

তিনি বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে চট্টগ্রাম বন্দর পিছিয়ে নেই। এ মাসেই আমরা সার্টিফিকেট পাব। ঢাকায় অনুষ্ঠান করে আমরা এ আনন্দ উদযাপন করবো।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী, আবু রেজা নেজামুদ্দীন নদভী, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুস সামাদ, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার একেএম নুরুজ্জামান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, নৌ পরিবহন অধিদফতরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, জাপা নেতা সোলায়মান আলম শেঠ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরোয়ার, বিজিএমইএ এর প্রথম সহসভাপতি মঈনুদ্দিন আহমেদ মিন্টু, বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোস এসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান, চেম্বার পরিচালক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম আকতার হোসেন, চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর অনেকদূর এগিয়েছে। বন্দরের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। কী গ্যান্ট্রি ক্রেন আসছে। রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন এসেছে। আরো আনা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর এ বছর ২৫ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করেছে উল্লেখ করে বলা হয়, বন্দরের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হচ্ছে। বন্দরের কন্টেনার টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। টার্মিনাল বাড়ানো হচ্ছে। আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেনার টার্মিনাল, লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল, বে টার্মিনালসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে।

সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে আইসিডির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশী বলে মন্তব্য করে নতুন আইসিডি স্থাপনের উপর জোর দেয়া হয়। বন্দর চেয়ারম্যান বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল খালেদ ইকবাল বলেন, যদি নতুন আইসিডির অনুমোদন দেয়া না হয় তাহলে বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখা কঠিন হয়ে যাবে। তিনি সাগরিকা এলাকায় দুইটি আইসিডির প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে এই দুইটির অনুমোদন দেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বহুদিন কেউ কোন আইসিডি নির্মাণে এগিয়ে আসেনি। এবার দুইটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসেছে। তাদেরকে ফৌজদারহাট এলাকায় আইসিডি করতে দিলে সুফল পাওয়া যাবে। এই সময় নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সামশুল হক চৌধুরী এমপি এর তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোন আইসিডি নয়। যেগুলো আছে সেগুলোকে সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এই সময় তিনজন সংসদ সদস্য শামসুল হকের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।

কমিটির বিগত মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত সভায় আইসিডি বন্দরের ২০ কিলোমিটারের বাইরে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ওই সময় বিদ্যমান আইসিডিগুলোকে বিশ কিলোমিটারের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য দেড় বছর সময় দেয়া হয়েছিল। গতকাল বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেন বন্দর চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আইসিডি নীতিমালায় ২০ কিলোমিটারের বাইরে আইসিডি করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বলেছে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে করতে। আইসিডিগুলোকে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো জমি পাওয়া এবং নতুন করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগবে। বন্দরের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে তাতে বেশ কয়েকটি আইসিডি লাগবে। নতুন আইসিডি না হলে বন্দরের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, দুইটি আইসিডির প্রস্তাবের মধ্যে একটি একে খান এবং অপরটি সামিট–ইস্পাহানি যৌথভাবে করার আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের বিশাল ভূমি আছে। তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়। যদি ২০ কিলোমিটারের ব্যাপারটি বিশেষ বিবেচনায় তাদেরকে অনুমোদন দেয়া হয় তাহলে বন্দরের জন্য ভাল হবে।

সংসদ সদস্য শামসুল হক বলেন, বন্দরের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে আইসিডি থাকার দরকার নেই। বর্তমানে ১৮টি আইসিডির মধ্যে ডেলিভারি হচ্ছে না। কারণ সেখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই। আইসিডিগুলোকে ঘিরে চট্টগ্রাম যানজটের নগরীতে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করে শামসুল হক চৌধুরী বলেন, রাস্তায় ট্রাক–লরি দাঁড়িয়ে থাকে। এতে যানজট সৃষ্টি হয়। মন্ত্রী এমপিরা বিমানবন্দরে ঠিকভাবে যেতে পারলেও সাধারণ মানুষ যেতে পারে না। ফ্লাইট মিস করে। সাগরিকা এলাকায় আইসিডি করা ঠিক হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, স্টেডিয়ামের কারণে এটি এখন চট্টগ্রামের নাভিতে পরিণত হচ্ছে। নগরীকে যানজটমুক্ত করতে হলে আইসিডিমুক্ত করতে হবে।

শামসুল হক চৌধুরী বলেন, বন্দর সীতাকুণ্ড–মীরসরাইয়ে ইয়ার্ড করছে। পানগাঁও টার্মিনালের জন্য জাহাজ কিনতে পেরেছে। এখানেও কেউ এগিয়ে না এলে বন্দর আইসিডি করবে, অসুবিধা কোথায়? ১০টা আইসিডি বন্দর নিজে করতে পারে। নগরী থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে সীতাকুণ্ড, মীরসরাই বা সাতকানিয়ায় করতে পারে।

আইসিডি বিষয়ে শামসুল হকের সঙ্গে একমত পোষণ করেন সংসদ সদস্য দিদারুল আলম। তিনি নিজের সংসদীয় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, এলাকাবাসী চায় না ওখানে আইসিডি হোক। মানুষ মানববন্ধন করেছে। বিক্ষোভ করেছে। এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়েন এমন কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে তিনি আহ্বান জানান। এছাক ব্রাদার্সের নাম উল্লেখ করে দিদারুল আলম এমপি বলেন, তাদের আইসিডির যানজটে পড়ে তিনি নিজেই তিন চারবার ফ্লাইট মিস করেছেন। সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, বন্দরের বিশ কিলোমিটারের মধ্যে আইসিডি নির্মাণের বিষয়টি কনসিডার করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেনার ডিপোস এসোসিয়েশনের (বিআইসিডিএ) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘একটা আইসিডি করতে পাঁচ বছর সময় এবং ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ লাগে। হুট করে তুলে দিলে ২০২১ সালের ভিশন অর্জন সম্ভব নয়। বন্দরে দৈনিক ৫ হাজার ৮০০ ট্রাক প্রবেশ করে। যদি ২০ কিলোমিটার থেকে আইসিডি তুলেও দেন তবু যানজট কমবে না।’

এসময় সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী বলেন, আইসিডিতে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই। জবাবে নুরুল কাইয়ুম বলেন, ‘ইকুইপমেন্ট না থাকলে কীভাবে ৩৭ ধরনের পণ্য হ্যান্ডলিং করছে? যদি মনে করেন, বন্ধ করে দিতে পারেন।’

উত্তরে সামশুল হক চৌধুরী বলেন, ‘বন্ধ করব কেন, চালু করতে চাচ্ছি।’ তখন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, দয়া করে বির্তক না করি। আলোচনা করেই ঠিক করব।

ব্যবসায়ী নেতা মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ২০ কিলোমিটারের ওই দিকে, না এই দিকে, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হচ্ছে। সমাধান এখনও হয়নি।

উপদেষ্টা কমিটির সভায় একই সাথে অনেকগুলো বিষয় নিয়ে বারবার আলোচনা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান বলেন, নয় মাস পর এই সভা হচ্ছে। অনেক সিদ্ধান্ত একসাথে নেওয়ার চেষ্টা হয়, একটিও বাস্তবায়ন হয় না।

তিনি নৌমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, স্যার আমরা সিভিল সার্ভিসের লোক। বেশি কিছু বুঝি না। কিন্তু দেশ প্রেম আছে। দেশকে ভালোবাসি। এতগুলো সিদ্ধান্ত এতগুলো বিষয় নিয়ে এভাবে টানাটানি না করে একটি বিষয় ঠিক করুন। একটি সিদ্ধান্ত নিন। ওই একটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুন।

বে টার্মিনালের ভূমি অধিগ্রহণ এবং কিছু ভূমি বন্দোবস্তীর ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ফাইল পড়ে আছে বলে উল্লেখ করেন বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল খালেদ ইকবাল। এই সময় রেলওয়ে মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, এম এ লতিফ এমপি, দিদারুল আলম এমপি একযোগে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, ভূমি প্রতিমন্ত্রী এই কমিটির সদস্য। তিনি এখানে আছেন। এই অবস্থায় বিষয়টি এতদিন আটকে থাকার কথা নয়। আমাদেরকে কাজে লাগান। আমরা সবাই মন্ত্রণালয়ে যাবো। কখন কোথায় কি করতে হবে বলেন। সংসদ সদস্যরা বন্দরের যে কর্মকর্তার দায়িত্ব তিনি ঠিকভাবে কাজ করছেন না বলেও মন্তব্য করেন।

এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, ৬ মাস ভূমি মন্ত্রণালয়ে ফাইল পড়ে আছে, আমি এটা বিশ্বাস করি না। কারণ কাজের পেছনে লেগে থাকলে কাজ হবেই। আমার এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে। আমি অনেকগুলো কাজ করেছি। কাজ কিভাবে করতে হয় তা আমি জানি।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, সংসদ সদস্য মহোদয় আমাকে বিশ্বাস করেননি, আমি দুঃখিত।

উভয়ের মধ্যে বিতর্ক শুরু হলে নৌমন্ত্রী বলেন, ফাইল পাঠানো হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ে একটু সময়ক্ষেপণ হয় সেটা আমরা সবাই জানি। তবে বন্দরের কাজ হয়ে যাবে। আলোচনা করে আমরা একটা সমাধানে আসতে পারবো।

ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, কাস্টমসে ৩০ ধাপ লাগে পণ্য খালাস করতে। অথচ বিদেশে মাত্র ৫ ধাপে বিশ মিনিটে কাজ শেষ করে পণ্য খালাস করা হয়। তিনি বলেন, শহরের ভিতর দিয়ে ট্রলি চলবে না। এটি নিশ্চিত করা না গেলে শহর যানজটমুক্ত হবে না।

সংসদ সদস্য এম এ লতিফ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড় বিভিন্ন সংস্থার দখলে রয়েছে। পৃথিবীর কোথাও নদীর পাড়ে এসব নেই। বিমানবন্দর সড়কের বিশ গজের মধ্যে সাবমেরিন। এটি ঠিক নয়। তিনি বলেন, নদীর পাড় ব্যবহৃত হবে বন্দরের জন্য। বন্দর সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য। আর এখানে নদীর পাড়ে নতুন নতুন স্থাপনা হচ্ছে। যার সাথে বন্দরের বা দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোন সম্পর্ক নেই।

লাইটারেজ জাহাজ নিয়ে তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহির্নোঙরে শতাধিক মাদার ভ্যাসেল অথচ চাহিদা অনুযায়ী লাইটারেজ জাহাজ নেই। আবার লাইটারেজ জাহাজ থেকে পণ্য খালাসের সুযোগ নেই। বেসরকারি ১১টি এবং বন্দরের সদরঘাট জেটি ছাড়া লাইটারেজ জাহাজে পণ্য খালাসের আর কোন সুযোগ নেই। অথচ কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অন্তত পঞ্চাশটি ঘাট থাকা উচিত ছিল। তিনি পরিবহনের ওভারলোড ঠেকানোর নামে বন্দরকে আবারো জটের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বন্দরের উন্নয়ন হয়েছে। সক্ষমতা বেড়েছে। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। জেটির সংখ্যা বাড়েনি। ঘাটের সংখ্যা বাড়েনি। সভায় কর্ণফুলী নদীতে ক্যাপিটেল ড্রেজিং, লাইটার জাহাজের সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন লাইটার জেটি নির্মাণ, পণ্যবাহী যানবাহনের ওজন নিয়ন্ত্রণ, কন্টেনারে ইলেক্ট্রিক লক পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ জাফর আলম, কমডোর শাহীন রহমান (হারবার অ্যান্ড মেরিন), পরিচালক (পরিবহন) গোলাম সরওয়ার, সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar