Home / খবর / সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ গণপরিবহনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর

সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ গণপরিবহনে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর

 সিএমপি সারাদেশের ন্যায় যান ও যাত্রী চলাচল বিগত দিনের তুলনায় ঝুঁকিমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে কঠোর হচ্ছে। সরকারের কঠোরতার পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের জন্য নানান উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও জবাব দিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও জনসাধারণের করণীয় বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য নির্দেশনা রয়েছে উর্ধ্বতন মহলের পক্ষ থেকে।

সূত্র জানায়, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী উঠা-নামা, চলন্ত অবস্থায় দরজা বন্ধ রাখাসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আনতে ডজনখানেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সরকারের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত হচ্ছে:
১. চলন্ত অবস্থায় সব গণপরিবহনের দরজা বন্ধ রাখতে হবে, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠানামা করা যাবে না।
২. গণপরিবহনের দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও হেলপারের ছবিসহ নাম এবং চালকের লাইসেন্স নম্বর ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ দুটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডিএমপি ও বিআরটিএ দায়িত্ব পালন করবে।
৩. সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুইজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট এবং সিগন্যাল আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে ডিএমপি।
৪. সব মহাসড়কে বিশেষত: মহাসড়কে চলমান সব পরিবহনে (বিশেষত: দূরপাল্লার বাস) চালক এবং যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহার এবং পরিবহনসমূহকে সিট বেল্ট সংযোজনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে বিআরটিএ এবং বাংলাদেশ পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনায় ৯টি সিদ্ধান্ত এবং পরিবহনের ফিটনেস এবং লাইসেন্সের জন্য চারটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সর্বাত্মক প্রচার ও গণমাধ্যমে প্রচারণা, সভা আয়োজনের পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়।

বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরীর ৫টি পয়েন্টে সিএমপি’র সচেতনতা মূলক প্রচারণা ও মোটন যান আইন প্রয়োগ করা হয়। নগরীর নিউ মার্কেট, টাইগারপাস ও বাদামতলী মোড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রম চালানো হয়। এছাড়াও বহদ্দারহাট ও চকবাজার এলাকায় বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে প্রচারণা ও আইন প্রয়োগ করা হয়। এ বিষয়ে এডিসি ট্রাফিক (পশ্চিম) ছত্রধর ত্রিপুরা বলেন, গণ পরিবহণে শৃংখলা আনয়ন ও নিরাপদ সড়কের লক্ষকে সামনে রেখে সিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগ চলমান পক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। নিয়মিত চেকপোষ্ট বসিয়ে মটর আইন প্রয়োগে আগের চেয়ে কঠোর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক সপ্তাহ চলছে তাই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড় সমূহে জনসাধারণকে এবং পরিবহন শ্রমিকদের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা ব্যাপক প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, ট্রাফিক আইন মেনে যান গুলোকে চলাচলের নির্দেশনা প্রদান, জেব্রা ক্রসিং দিয়ে সড়ক পারাপারে অভ্যস্ত করণ, নির্দিষ্ট স্থানে বাসে উঠা –নামা করার ক্ষেত্রে জোর দেয়া হচ্ছে।

বাদামতলী মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্ট মোতায়েন করা হয়েছে। বাস, সিএনজি, কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের গাড়ীর ডকুমেন্ট চেক করা হচ্ছে। দেখা গেছে, যে সকল গাড়ী চেক করছে প্রতিটি গাড়ীরই কোন কোন সমস্যা রয়েছে। অনেক চালকেরও লাইসেন্স নেই। অপূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র থাকলে তাদের মামলা দেয়া হচ্ছে। কাগজ পত্র ছাড়া গুলো টু করা হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ জানায় এদুপুর নাগাদ প্রায় ১শত মামলা হয়েছে, প্রায় ৪৫টি গাটি টু করা হয়েছে। এখনো অভিযান চলছে, অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে যেন নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা যায়। তারাও নগরীর মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। পরিবহন মালিক গ্র“পের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, আমরা ট্রাফিক বিভাগ ও গণপরিবহনে সুন্দর শৃংখলা দেখতে চাই। এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিবহণ মালিকরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাবে॥

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar