Home / আদালত / হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ঠেকাতে নীতিমালা চায়

হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা ঠেকাতে নীতিমালা চায়

হাই কোর্ট শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে নীতিমালা করতে অতিরিক্ত শিক্ষা সচিবের নেতৃত্বে কমিটি করে দিয়েছে । কমিটিকে এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছে।

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রীর অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিক্ষোভের মুখে কমিটি গঠন করা হয়। এই আত্মহত্যার কারণ খুঁজতেও দিতে হবে আলাদা প্রতিবেদন।
মঙ্গলবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই আদেশ দেয়।

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে অরিত্রীর আত্মহত্যার প্রকাশিত খবর আদালতের নজরে আনেন চার আইনজীবী অনীক আর হক, জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, আইনুন্নাহার সিদ্দিকা, জেসমিন সুলতানা। এরপর এই আদেশ আসে।

পাঁচ সদস্যের কমিটিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিবের নিচে নয়, এমন একজন প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, মনোবিদ ও আইনবিদকে রাখতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, অরিত্রীর বাবাকে অপমান করা হয়েছিল স্কুলে। আর সেটি সইতে না পেরে মেয়েটি রবিবার আত্মহত্যা করেন। এই ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর গতকাল সকালে ক্লাস বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছে ভিকানুননিসার মেয়েরা। যোগ দেন অভিভাবকরাও।

এরই মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষিকা জিন্নাত আরাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ক্ষমা চেয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নানজীন ফেরদৌস।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে দিয়েছেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস। গঠন হয়েছে দুটি কমিটি। তাদেরকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা নিয়ে তোলপাড় হচ্ছে। চলতি বছর দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির নয় জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

এই ধরনের আত্মহত্যা প্রতিরোধের উপায় নির্ণয় করে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-এ বিষয়েও জিজ্ঞাসা রয়েছে হাইকোর্টের জারি করা রুলে। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

‘এই ঘটনা হৃদয়বিদারক’

এর আগে অরিত্রীর আত্মহত্যার ঘটনাটি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চে নজরে আনেন আইনজীবী সাইয়েদুল হক সুমন। এ সময় বিচারকরা এই ঘটনাকে হৃদয় বিদারক উল্লেখ করে বলে, ‘মেয়ের সামনে বাবা-মাকে অপমান করাকে বাজে ঘটনার দৃষ্টান্ত।’

আইনজীবী সুমন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা চান। তখন বিচারক বলেন, ‘অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনা খুবই হৃদয়বিদারক। এ সময় শিক্ষার্থীর সামনে মা-বাবাকে অপমানের ঘটনাকে বাজে রকমের দৃষ্টান্ত।’

যা ঘটেছিল

অরিত্রীর বাবা দিলীপ অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রবিবার সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা চলার সময় তার কাছে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। এজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের ডেকে পাঠায়। তখন আমি ও আমার স্ত্রী স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষে যাই।’

“ভাইস প্রিন্সিপাল বলেন, ‘মোবাইলে অরিত্রী নকল করছিল।’ আমরা এজন্য ক্ষমা চাইলে তিনি প্রিন্সিপালের কক্ষে পাঠান। প্রিন্সিপালের কক্ষে গিয়েও আমরা ক্ষমা চাই। কিন্তু প্রিন্সিপাল সদয় হননি। এক পর্যায়ে তার পায়ে ধরে ক্ষমা চাই; কিন্তু প্রিন্সিপাল আমাদের বেরিয়ে যেতে বলেন। তিনি অরিত্রীকে টিসি (ছাড়পত্র) দেয়ার নির্দেশ দেন’।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar