Home / খবর / ‘হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয় : প্রধানমন্ত্রী

‘হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয় : প্রধানমন্ত্রী

‘হীরা যত কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয়। একইভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগের ওপর অনেক আঘাত এসেছে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে হীরার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, । যত বেশি আঘাত এসেছে আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে। শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনো ভেঙে পড়েনি।’

সোমবার বিকালে রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভামঞ্চে উঠে বঙ্গবন্ধুকন্যা দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে জড়িয়ে ধরেন এবং সাজেদা চৌধুরীও আওয়ামী লীগ সভাপতির কপালে চুমু দেন।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পথচলা, এত বছর পার হতে যে প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়েছে, নেতাকর্মীদের প্রতি যে নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছে সেসব বিষয় তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। মানুষের জন্য কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষায় আওয়ামী লীগ টিকে আছে বলে মনে করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ উজ্জ্বল। আওয়ামী লীগ দেশের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনুযায়ী এখন আমরা মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন মীরজাফরের ষড়যন্ত্রে। এই মীরজাফর তো গালিতেই পরিণত হয়েছে। এরপর দু’শ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন করেছে এই ভূখণ্ড। দু’শ বছর পর ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই দু’শ বছর আগে হারিয়ে ফেলা স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগই আবার ফিরিয়ে এনেছে।’

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে জানা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, তিনি অত্যাচার-নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি আছে, তা খুঁজে খুঁজে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। স্বাধীনতার পরও অত্যাচার-নির্যাতন থেমে থাকেনি। ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার পর আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত ও উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমত উল্লাহ। এছাড়াও সভা মঞ্চে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar