Home / খেলা / ভারতের ‘মাথাব্যথা’ যাদের নিয়ে

ভারতের ‘মাথাব্যথা’ যাদের নিয়ে

বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমির পথে এক পা দিয়ে রাখে । পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে অস্ট্রেলিয়া হেরে আসর ছাড়লে বাংলাদেশ পেয়ে যায় সেমির টিকিট। এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো মর্যাদাকর টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে উঠেছে মাশরাফি বাহিনী। ১৫ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনে ফাইনালের জন্য লড়বে বাংলাদেশ-ভারত। ওই ম্যাচকে ঘিরে এখন থেকে শুরু হয়ে গেছে নানা হিসেব-নিকেশ। চলুন দেখে নিই ভারতের বিপক্ষে যে পাঁচ টাইগার তারকা থাকবেন বিশেষ নজরে।

তামিম ইকবাল

ক্যারিয়ারের সেরা সময় পার করছেন তামিম ইকবাল। চলমান বছরে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ফর্মে তামিম। একদিনের ক্রিকেটে এখন তার ব্যাটিং গড় ৬৯.১২। যেটা তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সাফল্য। দশ ম্যাচের নয় ইনিংসে তামিমের রান সংখ্যা ৫৫৩। রয়েছে ২টি শতক আর তিনটি অর্ধশতক। কয়েকদিন আগে ওজিদের বিপক্ষে ৯৫ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেছেন তামিম। তার আগে ওভালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেন শতরান। ১১ চার আর ১ ছয়ে হাঁকান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম শতক। তামিমের ওই ইনিংসের সুবাদে পুরনো পাঁচ রেকর্ড ভেঙে গড়েছে নতুন করে। বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে চোখ থাকবে তামিমের ওপর। একদিনের ক্রিকেটে ভারতীয়দের বিপক্ষে ঝকঝকে পরিসংখ্যান তামিমের। ১৭ ম্যাচে ৫০৪ রান করেছেন তামিম। রয়েছে ৬টা অর্ধশতক।

সাকিব আল হাসান

ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত। বিশ্বের নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার। বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের একজন সাকিব। কয়েকদিন ধরেই সাকিবের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। হওয়ারই কথা। বেশ কয়েকটা ম্যাচে সাকিব ব্যাট হাতে আলো ছড়াতে পারেননি। ১৪, ৬, ১৯, ২৩, ৭, ১০, ২৯ এমন মলিন পারফর্ম করেন তিনি। বল হাতেও নিষ্ক্রিয় দেখা যায় সাকিবকে। ০/৫০, ১/৩৮, ২/৪১, ১/৪১, ০/২৩, ০/৬২ এমন ছিল কয়েকটা ম্যাচের বোলিং বিশ্লেষণ। কিন্তু সর্বশেষ ম্যাচে কিউই বধের নায়ক সাকিব। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ২২৪ রানের রেকর্ড জুটি গড়ে বাংলাদেশকে এনে দেন দুর্দান্ত এক জয়। নিজে করেন দারুণ এক শতক। বল হাতেও এদিন কিপটে ছিলেন সাকিব। ১০ ওভারে দেন ৫২ রান। ফাইনালের দৌড়ে ভারতের বিপক্ষে লাইমলাইটে থাকবেন সাকিব। কোহলি-ধোনিদের বিপক্ষে তার অতীত পারফরম্যান্সও উল্লেখ করার মতো। ১৫ ম্যাচে করেছেন ৪৯৩ রান। ঝুলিতে আছে ৭টি অর্ধশতক। বল হাতে ১৫ ম্যাচে শিকার করেছেন ১৭টি উইকেট।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

অসাধারণ ব্যাটিং করছেন। চলতি বছরে রিয়াদ আছেন ফর্মের তুঙ্গে। এখন অবধি ১০ ম্যাচের ৮ ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন বাংলাদেশ দলের সাইলেন্ট কিলার খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০২ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন তিনি। একদিনের ক্রিকেটে ২০০৭ সালে রিয়াদের ব্যাটিং গড় ৯২। রয়েছে ১টি করে শতক এবং অর্ধশতক। মাঝে কয়েকদিন ফর্মে ছিলেন না মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো বড় আসরে ঠিকই জ্বলে উঠেছে তার ব্যাট। ভারতের বিপক্ষে সবার নজর থাকবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দিকে। পেছনের পরিসংখ্যানও খারাপ না। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১১ ম্যাচের ১০ ইনিংসে তার রান সংখ্যা ২৬৯। রয়েছে ২টি হাফ সেঞ্চুরি। ভারতের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং গড় ৪৪.৮৩।

মোসাদ্দেক হোসেন

২০১২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও ২০১৩-১৪ মৌসুমে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন মোসাদ্দেক। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১০৭ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে করেন ৭৪ রান। একই বছর ইংল্যান্ডেও তিনি চমক দেখান। ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ১১৩ বলে অপরাজিত ১১০ আর বল হতে ১০ ওভারে ৩৮ রান খরচায় নেন তিন উইকেট। এভাবে দিনের পর দিন চলে মোসাদ্দেকের নৈপুণ্য। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তার ঝুলিতে রয়েছে ৭টি শতক ও ৯টি অর্ধশতক। গত বছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে জাতীয় দলে নাম লেখান মোসাদ্দেক।  দেশের জার্সিতে মাত্র ১৭টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশ নিয়েছেন এই তরুণ তুর্কী। তার রান সংখ্যা ২৭৩। সর্বোচ্চ ৫০ অপরাজিত। ব্যাটিং গড় ৩৪.১২। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে বল হাতেও আলো ছড়ান মোসাদ্দেক। সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ দিকে বল হাতে ঝলক দেখান মোসাদ্দেক। টপাটপ তিন উইকেট নিয়ে কিউইদের রানের চাকা অচল করে দেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে আবারও দেখা যেতে পারে মোসাদ্দেকের অলরাউন্ডার কারিশমা।

মোস্তাফিজুর রহমান

মোস্তাফিজের পেছনের উপাখ্যানটাও দারুণ। টি-টোয়েন্টি দিয়ে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। প্রথম ম্যাচে বল হাতে আগুন ঝরান ফিজ। যাত্রা ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট। যার মধ্যে ছিল ছক্কার রাজা শহীদ আফ্রিদির উইকেট। জাদুর কাঠি নিয়ে টাইগার ক্রিকেটে আবির্ভাব হওয়া মোস্তাফিজকে নামিয়ে দেয়া হয় ভারতের বিপক্ষে। ২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচ দিয়েই একদিনের ক্রিকেটে অভিষেক হয় মোস্তাফিজের। নেমেই ম্যাজিক। প্রথম দিনেই তুলে নেন ৫ উইকেট। পাঁচ শিকারের তালিকায় ছিলেন একদিনের ক্রিকেটে অন্যতম নামকরা তারকা মহেন্দ্র সিং ধোনি। ছিলেন রোহিত শর্মা, অজিঙ্কা রাহানে, সুরেশ রায়না, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মত সুপার ডুপার ব্যাটসম্যানরা। এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচ খেলেছেন ভারতে বিপক্ষে। নিয়েছেন ১৩টি উইকেট।

দীর্ঘ দিনের ইনজুরির ছোবল বাদ দিলে গেল বছরের বাকি সময়টা ছিল মোস্তাফিজময়। পুরো বছরে অসংখ্য মুকুট উঠেছে মোস্তাফিজের শোকসে। দুহাত ভরে কুড়িয়েছেন ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং ক্রিকেটবোদ্ধাদের প্রশংসা। এককথায় বছরজুড়েই ছিল মোস্তাফিজের কল্পকথা। ২০১৫ সালে ২২ গজে পা পড়ে মোস্তাফিজের। তবে ইনজুরি থেকে ফিরে আগের রূপটা হারিয়ে ফেলেছেন মোস্তাফিজ। মাঝে মধ্যে বল হাতে জ্বলে উঠেন তিনি। তবে উইকেট কম পেলেও বেশ কিপটে বোলিং করছেন মোস্তাফিজ। মোস্তাফিজের সর্বশেষ আট ইনিংসের বোলিং ফিগার এমন ২/১৭, ২/৩৩, ৪/২৩, ১/৪৬, ১/৫৩, ০/৫১, ০/২৭, ১/৫২। সবমিলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম সেমিফাইনালে সবার চোখ থাকবে মোস্তাফিজের ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*