Home / অন্যান্য / নির্বাচন / নির্বাচনেও ব্যর্থ হবে বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ

নির্বাচনেও ব্যর্থ হবে বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ

গুটিকয়েক লোকের অপকর্মের জন্য দল দায়ী থাকতে পারে না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন । পকেটভারী করার জন্য খারাপ বিতর্কিত লোকদের দলে ভেড়াবেন না। ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। দল ক্ষমতায় না থাকলে কেউ সালামও দেবে না। তিনি বলেন, নেতাদের খাইখাই ভাব রয়েছে। কিন্তু কর্মীদের মধ্যে এটা নেই। যারা ক্ষমতার দাপট দেখান না, তাদের খোঁজ খবর নিতে হবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ বানাবেন না, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ না হলে আগামী নির্বাচনে বিজয়কে ঠেকাতে পারবে না।
গতকাল রোববার দুপুরে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা দলের পরিশ্রমী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়ন করে। তৃণমূলে যেসব কর্মী অসুস্থ রয়েছেন তাদের দলের পক্ষ থেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অসুস্থ কর্মীদের নেতারা খোঁজ না নিলে এমন দিন আসবে নেতাদের বিপদে কর্মীরাও খোঁজ নেবে না। তাই নেত্রী বলেছেন অসুস্থ নেতা-কর্মীদের তালিক করে কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ইমাম, সুশীল সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি করতে হবে, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া মহল্লায় উঠান বৈঠক করতে হবে। তিনি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন প্রসঙ্গে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, এখন থেকে আপনারা ঘরে ঘরে যান। বিগত দিনের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চান।
বিএনপি’র আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দলটির এখন নাম হয়েছে ‘বাংলাদেশ নালিশ পার্টি’ মিথ্যাচার আর নালিশ করা এদের কাজ। ঈদের পর অন্দোলন হবে বলেছিলেন, কোথায় তাদের আন্দোলন, দিন যায়, মাস যায়, বছর যায়, রোজার ঈদের পর বলে কোরবানির ঈদ, তারপর বলে পরীক্ষা এই করতে করতে আটটি বছর গেলো। এখন আষাঢ় মাস। তাদের আন্দোলনের ডাক আষাঢ়ের গর্জনের শামিল। বিএনপির মরা গাঙে আর জোয়ার আসবে না। যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, তারা নির্বাচনেও ব্যর্থ হবে। আগামী নির্বাচনে আমরা না ডাকলেও নির্বাচনে আসবে বিএনপি। এ জন্য তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। আর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসলে এ দেশ থেকে খালেদা জিয়ার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনে আমরা আবার ক্ষমতায় যাবো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিএনপির নেতাদের নামে মামলা প্রসঙ্গে বলেন, নির্বাচনের সময় অপরাধীরা কারাগারে থাকবে। আপনারা কারাগারে থাকবেন না বাহিরে থাকবেন তা আপনাদের কর্মের উপরে নির্ভর করবে। যারা জ্বালাও পোড়াও ধ্বংসের রাজনীতি করে তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।
খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেন, তৃণমূলের কর্মীরাই আওয়ামী লীগের শক্তি। তাদের কারণেই দল ক্ষমতায় যায়। কিন্তু নেতারা ক্ষমতায় গিয়ে তাদের ভুলে যায়। নেতাদের পাশে কর্মীরা ভিড়তে পারে না। হাইব্রিডদের সঙ্গে তারা সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হারুন-অর রশিদ বলেন, সুযোগ পেলে যারা নৌকার বিরোধিতা করে তারা আবার সময় বুঝে ধারদেনা করে মুজিব কোট কিনে এই সব হাইব্রিডদের প্রতিহত করতে হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য বাবু পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা এস এম কামাল হোসেনের পরিচালনায় সম্মানিত অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান এমপি, খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, নির্বাহী কমিটির সদস্য পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মীর্জা আজম এমপি, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট আমিরুল ইসলাম মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি, বাগেরহাট জেলা সভাপতি ডা. মোজাম্মেল হোসেন এমপি, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, চুয়াডাঙ্গার সোলায়মান হোসেন সেলুন এমপি, সাতক্ষীরার মুনসুর আহমেদ এমপি, মেহেরপুরের আব্দুল হাই এমপি, শহিদুল ইসলাম মিলন, নড়াইলের এডভোকেট সুভাষ চন্দ্র ঘোষ, বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান টুকু, মাগুরার এডভোকেট সাইফুজ্জামান শেখর, খুলনার মিজানুর রহমান মিজান এমপি, মাগুরার পঙ্কজ কুণ্ডুু, যশোরের শাহিন চাকলাদার, মো. আসগার আলী, খায়রুল কবির মিন্টু, সাতক্ষীরার শেখ নজরুল ইসলাম, আব্দুল খালেক, চুয়াডাঙ্গার আজাদুর রহমান আজাদ, শেখ আবিদুল্লাহ প্রমুখ। বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা আলিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবু হুসাইন মোহাম্মদ জাকারিয়ার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নিমাই চন্দ্র রায়ের গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এ বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। চলে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।
সভায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার দলীয় সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যার ও কাউন্সিলর এবং ১০ জেলার, মহানগর এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ শোনার ঘোষণা: সমাবেশের প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বলেন, আমি জানি মাঠপর্যায়ে কর্মীদের অনেক ক্ষোভ, অভিযোগ আছে তা শোনার জন্যই আজ আমি খুলনায় অবস্থান করবো। কোনো নেতার বিরুদ্ধে আপনাদের অভিযোগ থাকলে তা সরাসরি আমার কাছে বলতে পারেন। এ ঘোষণা দেয়ার পর অনেক নেতাকে বিমর্ষ দেখা যায়।
আওয়ামী লীগ প্রতিশোধ আর মিথ্যাবাদীর রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর থেকে জানান, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রামপাল বিষয়ে সরকার কোনো মিথ্যাচার করছে না। ইউনেসকো কিছু ছোট ছোট শর্ত দিয়েছে, দেশ জনগণ ও পরিবেশের স্বার্থে সরকার সেগুলো পূরণ করবে। বিএনপির অভ্যাসই হলো মিথ্যাচার এবং কান্নাকাটি করা, তারা পুরনো সেই রেকর্ড বাজিয়েই চলেছে।
গতকাল সকালে দলের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার আগে যশোরের রাজারহাট মোড়ে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির বিষয়ে বলেন, ‘করাপশান ইজ এ ওয়ে অব লাইফ অ্যাক্রোস দ্য ওয়ার্ল্ড! দুর্নীতি ছিল, কিন্তু অনেক কমিয়েছি।’
তিনি নিজ মন্ত্রণালয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এখন টেন্ডার হয় ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে; সে কারণে এখানে টেম্পারিংয়ের কোনো সুযোগ নেই। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্র্রে দুর্নীতি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সৎ; তার সততার কারণে অনেক সেক্টরে দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের অভিযোগ অনেকটা অমূলক।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিব পার্সেন্টেজ, কমিশন এবং প্রমোশনে কোনো অর্থ নেন না। যদি কোনো মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্নীতিমুক্ত থাকেন, সেক্ষেত্রে ওই মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি অটোমেটিক্যালি ৫০ পার্সেন্ট কমে যায়।’
তিনি প্রশ্ন করেন, ‘দেশে পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট কিংবা মেট্রো রেলের প্রকল্প নিয়ে কই বিদেশিরা তো প্রশ্ন তুলছে না?’
বাংলাদেশের সড়কে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগের যে রাস্তা ছিল চার লেনের, এখন আলটিমেটলি তা হচ্ছে আট লেনের। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সার্ভিস লেন। বিদেশিরা আগের সেই চার লেনের রাস্তার হিসাব দিচ্ছে। আমরা তাদের এ বিষয়ে বুঝিয়েছি। তাছাড়া আমাদের দেশের মাটির অবস্থাটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। অনেক নিচু জমি উঁচু করা লাগে।’
রামপাল বিষয়ে বিএনপির বক্তব্যের বিষয়ে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড বাজাচ্ছে। আওয়ামী লীগ মিথ্যাচারের রাজনীতি করে না। যা প্রকাশ্য দিবালোকের মতো সত্য, সেই কথাটিই আমরা বলছি।’
তিনি বলেন, ‘ইউনেসকো কিছু শর্ত দিয়েছে- ছোট ছোট সেই শর্ত আমরা অবশ্যই পূরণ করবো। একেবারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে- এটি সত্য নয়। আমরা বাধাটা জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, পরিবেশের স্বার্থে অবশ্যই সংশোধন করবো।’
বিএনপির আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা বসে বসে প্রেস ব্রিফিং করে আর কান্নাকাটি করে তাদের কর্মীদের জন্য কষ্ট হয় বলে। কিন্তু তারা তো আমাদের হাজার হাজার কর্মীকে হত্যা করে রক্তস্রোত বইয়ে দিয়েছে। আমাদের কাঁদতে ক্যাঁদতে এখন চোখের পানি শুকিয়ে গেছে।’
তবে, বিএনপির প্রতি এটি আওয়ামী লীগের প্রতিশোধ নয় বলে দাবি করে শাসক দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিশোধ আর মিথ্যাবাদীর রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*