Home / খবর / বিএনপির নির্বাচন নিয়ে এক দুশ্চিন্তা কমলো

বিএনপির নির্বাচন নিয়ে এক দুশ্চিন্তা কমলো

বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএমে ভোট হবে না-নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো । গত কয়েক মাস ধরেই দলের নেতারা এই যন্ত্র ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তাদের দাবি, সরকার ক্ষমতায় ফিরতে যেসব অপকৌশল চালিয়ে আসছে, তার একটি হলো ইভিএম ব্যবহার। এর মাধ্যমে জনরায়কে পাল্টে দেয়া সম্ভব বলে তাদের অভিযোগ।

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের পক্ষে নিজেদের অবস্থান বারবার জানিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। বিএনপির কোনো দাবিই যেখানে পাত্তা পাচ্ছে না, সেখানে ইভিএম ব্যবহার না করার দাবি কি সরকার ‍গুরুত্ব দেবে-এই আশঙ্কার মধ্যেই রবিবার নির্বাচন কমিশনের ইভিএম ব্যবহার না করার ঘোষণা এসেছে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের পর এই পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতে সহিংস আন্দোলন করেও নির্বাচন ঠেকাতে এবং পরে সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। এরপর গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চুপচাপ থাকতে হচ্ছে তাদের। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দাবি জানালেও সেগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকারি দল।

এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে খালেদা জিয়া যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেটা অগ্রাহ্য করে গঠন হয়েছে নতুন কমিশন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বদলে সহায়ক সরকারের দাবি তুললেও সেটি না মানার কথাও বলছে সরকারি দল। আর রাজনীতিতে সরকারি দলের একাধিপত্যের মধ্যে বিএনপি বলতে গেলে কোণঠাসা হয়েই রয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলাকালেও বিএনপি এক ধরনের উৎকণ্ঠাতেই ছিল।

বাংলাদেশে প্রথম ইভিএম ব্যবহার হয় ২০১০ সালে। শামসুল হুদা কমিশন পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট নিয়েছিল। এরপর ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইভিএমে ভোট নেয়া হয়। কিন্তু তখন ব্যবহার করা যন্ত্রে দুর্বলতা প্রমাণ হওয়ার পরে এই উদ্যোগ বাদ দেয়া হয়।

এর মধ্যে গত ১১ জুন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সংলাপে আওয়ামী লীগ ইভিএমে ভোট নেয়ার প্রস্তাব নেয়। তবে বিএনপি ইভিএমে ভোট নেয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ, এই যন্ত্রটি দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আর এ কারণেই আগামী নির্বাচনের ফল পাল্টে দিতে একে সরকারের একটি চক্রান্ত হিসেবেই দেখছেন দলটির নেতারা।

দুই দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের মধ্যে নির্বাচন কমিশন নতুন এক ধরনের ইভিএম ব্যবহার নিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে থাকে। তাদের দাবি, নতুন এই যন্ত্র দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ বা হ্যাক করা যাবে না। ফলে দ্রুত নির্বাচনের ফল দেয়া যাবে এবং এতে কারচুপি কমবে।

তবে নির্বাচন কমিশন আগামী নির্বাচনের চূড়ান্ত যে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, তাতে তারা ইভিএমের বদলে সনাতন পদ্ধতিতে ভোট নেয়ার ব্যবস্থা রেখেছে। আর এতে বিএনপির দলটির আপাতত একটি দুঃচিন্তার অবসান হলো। যে কমিশনকে তারা সরকারের আজ্ঞাবহ বলছে, তারা এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবে-সেটা ভাবনাতেও ছিল না বিএনপির।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, নির্বাচন কমিশন একটি ভালো কাজ করলো। এই সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর করতে সহায়ক ভুমিকা রাখবে বলেও তাদের বিশ্বাস।

রবিবার বিকালে আগারওগাঁওয়ে সাতটি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন। এসময় জানানো হয়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণে ইলেক্ট্রনিক মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ঢাকাটাইসকে বলেন, ‘ইভিএম বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভালো। কিন্তু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য আমাদের অন্যান্য যে দাবি আছে তাও পূরণ করতে হবে। আশা করি ইসি বাস্তবতা অনুধাবন করবেন।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সাবেক সেনা প্রধান মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এটা নির্বাচন কমিশনের ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু সহায়ক সরকারসহ বিএনপির যেসব দাবি আছে সেগুলোরও আমরা সমাধান চাই।’

নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে কি না- এমন প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি সব সময় নির্বাচনে যেতে চায়। কিন্তু সেই পরিবেশ তো লাগবে। শুধু ইভিএম বাদ দিলেই তো হবে না।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সূত্র বলছে, দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকে আস্থায় নিতে তাদের আপত্তি আছে, এমন কাজ করতে চায় না কমিশন। গত ফেব্রুয়ারিতে নিয়োগ পাওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে নিয়ে ব্যাপক আপত্তি তুললেও এর পরে এখন পর্যন্ত কমিশনের কোনো কর্মকাণ্ডের তেমন সমালোচনা করছেন না বিএনপি। আর এই কমিশনের অধীনেই কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জিতেছে তারা।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা দায়িত্ব গ্রহণের পরেই বলেছিলেন, তিনি চান সব দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন হোক। এ জন্য সবাইকে আস্থায় নিয়ে কাজ করতে চান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

Skip to toolbar