Home / খবর / দিনাজপুর বন্যায় ১৪ মৃত্যুর পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

দিনাজপুর বন্যায় ১৪ মৃত্যুর পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

বন্যায় ১৩ উপজেলায় কমপক্ষে ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে দিনাজপুরে । বিভিন্ন স্থানে রেল ও সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। পানিতে ডুবে, সাপের কামড় এবং দেয়াল চাপায় ১৪ জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম। নিখোঁজ রয়েছে আরো এক শিশু।

বন্যায় দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের গুদাম ঘর ডুবে যাওয়ায় পরীক্ষার খাতাসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এ কথা নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক রবীন্দ্র নারায়ন ভট্রাচার্য।

দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জেলার অধিকাংশ স্থান প্লাবিত হয়েছে। বাড়ি-ঘর ডুবে গিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষ। রবিবার দুপুর থেকে বৃষ্টি থেমে গেলেও ঢলে নেমে আসা পানিতে নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে বিভিন্ন এলাকা।

বন্যা উপদ্রুত ১৩ উপজেলার মধ্যে দিনাজপুর সদর, বিরল, কাহারোল, বীরগঞ্জ, খানসামা, ঘোড়াঘাট, নবাবগঞ্জ চিরিরবন্দর ও পার্বতীপুর উপজেলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন বাঁধ, উঁচু এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। জেলার দুই হাজার ৯৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বানভাসী মানুষের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুজ্জামান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা না হলেও বন্যাদুর্গত এলাকায় বানভাসী মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আশ্রয় নেয়ায় সেগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী ফয়জুর রহমান জানান, জেলার সব নদী বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। সোমবার সকালে পুনর্ভবা বিপদসীমার ৭৮ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বইছিল।

পানির তোড়ে শহরের মাহুতপাড়া তুঁতবাগান এলাকায় দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধের ৫০ মিটার ভেঙে গেছে। এছাড়াও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

দিনাজপুর শহররক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেই বাঁধ সংস্কারে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বিজিবি বাঁধটি সংস্কারে ব্যর্থ হওয়ায় দুপুরে বাঁধ সংস্কার এবং বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। মেজর তৌহিদের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ৫২ জন সদস্য বাঁধ সংস্কার ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেছে।

বন্যায় দিনাজপুরের অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় দিনাজপুর জেলার সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। হিলি স্থলবন্দর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। পাবর্তীপুর-পঞ্চগড় রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এক লাখ ১০ হাজার টাকা এবং ৬৭ মেট্রিক টন চাল বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বন্যার্তদের জন্য ৫০ লাখ টাকা এবং ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সোমবার সকাল থেকে বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বন্যায় দূর্গতদের মাঝে বিতরণ করেছেন ত্রাণ সামগ্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*