Home / আর্ন্তজাতিক / সৌদির আলোচনা বন্ধের ঘোষণা কাতারের সঙ্গে

সৌদির আলোচনা বন্ধের ঘোষণা কাতারের সঙ্গে

দুই দেশের নেতাদের মধ্যে ফোন কলের একটি খবর প্রকাশ হওয়ার পরপরই শনিবার সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির ফোনালাপ প্রকাশের জেরে দোহার সঙ্গে সব আলোচনা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।

গত ৫ জুন সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মিশর ও বাহরাইন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তরল জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। এরপর ওই চার দেশ কাতারের সঙ্গে আকাশ ও সমুদ্র পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ দেখানোর পরদিন শুক্রবার দুই দেশের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার মধ্যে এ নিয়ে ফোনে কথাবার্তা হয় বলে উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল।

ফোনে দুই নেতাই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে দোহা ও রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে প্রোটোকল নিয়ে। কাতার নিউজ এজেন্সির খবরে ফোনকলটি যে দোহা থেকে করা হয়েছিল, তার উল্লেখ না থাকায় রুষ্ট হয়েছে রিয়াদ। আর এটিই মধ্যপ্রাচ্যের এ কূটনৈতিক সংকট নিরসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির মধ্যে ফোনালাপের ঘটনা উপসাগরীয় অঞ্চলে বিদ্যমান সংকট নিরসনের আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত তা ব্যর্থ হয়েছে। কাতারের ওপর সৌদি নেতৃত্বাধীন চার দেশের অবরোধ আরোপের পর কেটে গেছে তিন মাস। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। একাধিকবার আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও সৌদি আরবসহ অবরোধকারী দেশগুলোর দিক থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৮ সেপ্টেম্বর সংকট শুরুর পর প্রথমবারের মতো সৌদি যুবরাজ ও কাতারের আমিরের মধ্যে ফোনালাপ হয়। এতে দুই নেতাই আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন বলে দোহা ও রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধে প্রোটোকল নিয়ে। কাতার নিউজ এজেন্সির খবরে ফোনকলটি যে দোহা থেকে করা হয়েছিল, তার উল্লেখ না থাকায় রুষ্ট হয়েছে রিয়াদ। আর এটিই মধ্যপ্রাচ্যের এ কূটনৈতিক সংকট নিরসনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কাতার নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যে হওয়া ফোনালাপটি সমন্বয় করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফোনালাপে শেখ তামিম ও মোহাম্মদ বিন সালমান দুজনই গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) ঐক্য ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। উদ্ভূত সংকট নিরসনে দুজন দূত নিয়োগের বিষয়ে সৌদি যুবরাজের দেওয়া প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন কাতারের আমির। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কাতার নিউজ এজেন্সির এ সংবাদ নিয়েই আপত্তি সৌদি আরবের। সৌদি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা এসপিএ প্রকাশিত এ-বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংকট নিরসনে আলোচনার প্রস্তাব ও ফোনকল দুইটিই এসেছে কাতারের দিক থেকে। আর এ ফোনকলে কাতারের আমির অবরোধকারী চার দেশের দেওয়া শর্তগুলো নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও মিসরের সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

এসপিএ-র প্রতিবেদনে বলা হয়, “কাতারের বার্তা সংস্থায় যা প্রকাশিত হয়েছে তা কাতারি কর্তৃপক্ষের প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করার ধরাবাহিকতা। পরিষ্কার একটি বিবৃতি দিয়ে নিজেদের অবস্থান জনসম্মুখে প্রকাশ না করার পর্যন্ত কাতারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপ ও যোগাযোগ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিচ্ছে সৌদি আরব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*