Home / অন্যান্য / অপরাধ / সরকারি গাড়ি উবারে চলছে

সরকারি গাড়ি উবারে চলছে

নিশান সানি ব্রান্ডের প্রাইভেট কার। গাড়ির উইন্ডশিল্ডে সরকারি স্টিকার। বাইরে থেকে মনে হবে ভেতরে সরকারি কোনো কর্মকর্তা আছেন। কিন্তু ঘটনা অন্যরকম। গাড়ির ভেতরে সরকারি কর্মকর্তার পরিবর্তে সাধারণ যাত্রী। উবার সার্ভিসের মাধ্যমে এরকম ভাড়ায় চলছে সরকারি গাড়ি। পরিবহন পুল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি ডিভিশন, বিটিআরসিসহ আরো কিছু সরকারি দপ্তরের গাড়ির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা অবশ্যই দুর্নীতি। এটা সরকারের নিয়ম-বিধিমালার লঙ্ঘন। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপার্জন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই ধরনের অপব্যবহার বন্ধ করা এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা। ব্যবস্থা না হলে এধরনের দুর্নীতি আরও বাড়তে থাকবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উবার ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, গত শুক্রবার তিনি উবার সার্ভিসের মাধ্যমে টয়োটা করলা প্রাইভেট কারে ভ্রমণ করেন। সেই গাড়ির সামনে বিটিআরসির বড় লোগো লাগানো ছিল। ড্রাইভারের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন সেটা সরকারি গাড়ি। ওই অভিযোগকারী আরও জানান, এই গাড়িটা ১৩০০ সিসির। এই মডেলের সকল সরকারি গাড়িগুলো ১৩০০ সিসির কেনা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, গাড়ির কোন সিট কভার নেই। যেটা শুধু সরকারি গাড়ির ক্ষেত্রেই সম্ভব। গাড়িতে লগবুক রাখা ছিল। ঢাকায় নিয়মিত উবার ব্যবহার করেন এরকম বেশ কয়েকজন সরকারি গাড়িতে ভ্রমণের বিষয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। মাহবুব সোবহান সাকলায়েন নামে একজন ব্যবহারকারী বলেন, গত ৩রা সেপ্টেম্বর উবারে সরকারি নিশান সানি গাড়ি পেয়েছেন তিনি। ওই গাড়ির ড্রাইভার বলেছিলেন, তার স্যার ৬টি গাড়ি সরকারি পরিবহন পুল থেকে নিয়ে উবারে দিয়েছেন। একইভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৬টি গাড়ি উবারে চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বেনজির সালাহউদ্দিন নামে একজন ব্যবহারকারী। আইসিটি ডিভিশনের মাইক্রোবাসে ভ্রমণের কথা জানিয়েছেন অপর এক ব্যবহারকারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএ’র একজন কর্মকর্তা জানান, ব?্যক্তিমালিকানার গাড়ি অনেক সরকারী অফিস ৬ মাস বা এক বছরের চুক্তিতে ভাড়ায় চালায়। এগুলোতে স্টিকার ও লগবুক থাকা অস্বাভাবিক নয়। অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের ব?্যক্তিগত গাড়িতে স্টিকার লাগান। সরকারি গাড়ির কাগজপত্রে মালিকের নাম থাকে অফিস বা মন্ত্রণালয়ের নাম। ব?্যক্তির নাম থাকে না। উবার এরকম গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করে থাকলে তা ভয়াবহ বিষয়। সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারি গাড়ি উবারের মাধ্যমে ভাড়ায় খাটানোর কোনো সুযোগ নেই। এটা কোনোভাবেই হতে পারে না। সরকারি গাড়ি বেসরকারিভাবে ব্যবহার করবে এটা হয় না। যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলেও জানান তিনি। এবিষয়ে উবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ইমেইল ও টুইটারের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকায় ব্যক্তিগত যানবাহন দিয়ে যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান উবার। তার আগেই একইভাবে মোটর সাইকেলে যাত্রীসেবা দেয়া শুরু করে ‘স্যাম’। পরে আসে ‘পাঠাও’। এসব সেবা দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিআরটিএ প্রথমে স্যামকে তাদের কার্যক্রম বন্ধের নোটিশ দেয়। পরে উবারকেও একই ধরনের চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশের আইনে তাদের ওই কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এরপর ২৯শে নভেম্বর উবার ও স্যাম-এর প্রতিনিধিরা বিআরটিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর মোবাইল অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনতে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে খসড়া তৈরি শুরু করে বিআরটিএ। বিআরটিএর এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালককে প্রধান করে একটি কমিটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে। গত ২১শে জুন এটি বিআরটিএ থেকে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বর্তমানে খসড়াটি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*